সাবেক মেয়র তাপসের সহযোগী সালাউদ্দিনের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে দুদক
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সহযোগী মধুমতি ব্যাংকের পরিচালক সালাউদ্দিন আলমগীরের (রাসেল) অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয় অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুমোদিত ৯টি চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকের মধ্যে শেখ পরিবারের সদস্যদের ভাগে পড়ে মধুমতি ব্যাংক লিমিটেড। সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠায় অন্যতম ভূমিকা রাখেন তার সহযোগী লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর (রাসেল)। পরবর্তীতে মধুমতি ব্যাংকের পরিচালক হয়ে বহাল তবিয়তে আছেন সালাউদ্দিন।
তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জন, কর ফাঁকি, আমদানি-রফতানির নামে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারকারী হিসেবে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সেসব অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধান করছে দুদক।
এ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিছু ডকুমেন্টসহ তার বিরুদ্ধে (সালাউদ্দিনের) একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। সেসব অভিযোগ অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। অনুসন্ধান শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আওয়ামী লীগ আমলে অনিয়ম, অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনসহ নানা অভিযোগ এনে রফিকুল ইসলাম মামুন নামে এক ব্যক্তি সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ করেন। মো: জাহেদুল ইসলাম নামের আরেক ব্যক্তিও দুদকে অভিযোগ দেন। লিখিত অভিযোগে বলা হয়, মো: সালাউদ্দিন আলমগীর (রাসেল) আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিজ নামে, বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় জমি, ফ্ল্যাট, রিসোর্ট ও শপিংমলের মালিক হয়েছেন। হুন্ডি ও বিভিন্ন উপায়ে দুবাই, কানাডা, মালয়েশিয়া ও আমেরিকায় অর্থ পাচার করেছেন।
সূত্র জানায়, এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সালাউদ্দিন আলমগীর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিজেকে বাঁচাতে ঢাল হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে জুলাই আন্দোলন দমনে অর্থ প্রদানকারী হিসেবেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগে তাকে গ্রেফতারের দাবিতে গত ২২ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় ছাত্র-জনতা।
মানববন্ধনে সাহরিয়ার আলম বলেন, শেখ ফজলে নূর তাপস এবং গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলন দমনে অর্থ দিয়েছেন সালাউদ্দিন। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। মানববন্ধনে প্ল্যাকার্ডে সালাউদ্দিন আলমগীরের সাথে তাপসের ছবি ছাড়াও শেখ হাসিনা ও তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাথে জুম মিটিংয়ের ছবি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সাথে তার একাধিক ছবি প্রদর্শন করে প্রতিবাদ জানানো হয়।
জানা গেছে, মধুমতি ব্যাংকের দুই কোটি ৩২ লাখেরও বেশি শেয়ারের মালিকানা নিয়ে পরিচালক হন সালাউদ্দিন আলমগীর। আওয়ামী লীগের আশীর্বাদে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সহসভাপতি হন। পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় একাধিকবার তাপসের সফর সঙ্গীও হয়েছেন সালাউদ্দিন। পোশাক খাত থেকে শুরু করে অ্যাগ্রো, আইটি, মৎস্য, প্যাকেজিংসহ ১৪টিরও বেশি শিল্প কারখানা হয়েছে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায়। নিজের পাশাপাশি স্ত্রীকেও নিয়ে গেছেন সিআইপি মর্যাদায়। কিন্তু পাঁচ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পাল্টেছেন খোলস।
টাঙ্গাইলের বাসাইল ও সখীপুরের স্থানীয়রা বলছেন, শুরুতে শিল্পপতি পরিচয় ব্যবহার করে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন সালাউদ্দিন। তবে এই আসনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান।