প্রেস ব্রিফিংয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রীর ইঙ্গিত
ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা দিতে বিগত দুই সরকারের পথেই হাঁটছে বর্তমান সরকার
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বন্দরের আলোচিত নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দিতে বিগত আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের দেখানো পথেই হাঁটছে বর্তমান সরকার এমন ইঙ্গিত মিলেছে। প্রথমবার বন্দরের জেটি ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করে, দেশের স্বার্থ রক্ষা করে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তির বিষয়টি এগিয়ে নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী। চলমান দর কষাকষি শেষে দ্রুতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে তিনি জানান।
নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, দেশের স্বার্থ কতটা সংরক্ষণ করা যাবে সেটাকে প্রাধান্য দিয়েই আমরা এ প্রস্তাবনাগুলো নিতে চাই। সেখানে আমি ইতিবাচক বা নেতিবাচক বলছি না। তবে প্রস্তাবনার অনেকগুলো ইতিবাচক দিক আছে।
গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে এনসিটি-৫ জেটিতে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা আরো বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন নৌপরিবহন মন্ত্রী।
ইতোপূর্বে এই টার্মিনাল বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত জানুয়ারিতে টানা কর্মবিরতি পালন করেন বন্দরের বিএনপি সমর্থিত শ্রমিক-কর্মচারীরা। এক সপ্তাহের বেশি সময় অচল করে রাখা হয় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকে। পরে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তি হচ্ছে না- অন্তর্বর্তী সরকারের এমন ঘোষণায় কর্মবিরতি স্থগিত করেন তারা।
বন্দর পরিদর্শনে এসে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশ এই বন্দর নিয়ে আগ্রহী। বিদেশী বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগিয়ে রফতানি বৃদ্ধির পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরকে বিশ্বের আধুনিক বন্দরের কাতারে নিতে চায় সরকার। আমদানি-রফতানি এটা বাড়ানো প্রয়োজন। আমরা রফতানিকে বহুমুখীকরণ করতে চাই। শুধু গার্মেন্ট নির্ভর না। অন্যান্য জায়গায় যদি নিয়ে যেতে চাইলে সেই ফ্যাসিলিটিও নিশ্চিত করতে হবে। এটা অগ্রাধিকার পাচ্ছে আমাদের সরকারের কাছে।
মন্ত্রী বলেন, কিছু নতুন প্রকল্প পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ল্যান্ডলর্ড মডেল নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কিছু প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। তারা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে চায়। এতে কনটেইনার টার্মিনালগুলোর কার্যক্রম আরো দক্ষভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির জন্য যে খাতগুলো সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে পারে, সেগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আর চট্টগ্রাম বন্দর সেই গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর একটি।
এদিকে, বে-টার্মিনাল চালু না হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর দৈনিক মিলিয়ন ডলারের রাজস্ব হারাচ্ছে বলে জানান চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। দুই মাসের মধ্যে দু’টি টার্মিনাল নির্মাণে ডিপিওয়ার্ল্ড ও পিএসএ সিঙ্গাপুরের সাথে চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে কাজ শুরু করতে চায় কর্তৃপক্ষ। ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত একটি টার্মিনালের কার্যক্রম শুরুর ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের আমদানি-রফতানির প্রবৃদ্ধি সেট ধরে রাখতে চাই, আরো যদি আমরা বিদেশী বিনিয়োগ আনতে চাই, লজিস্টিক হাব যদি গড়ে তুলতে চাই, তাহলে আমাদের বন্দরকে অবশ্যই আন্তর্জাতিকমানের করে গড়ে তুলতে হবে। সেটা যেন কম্পিটিটিভ হয়।
এ সময় রেলপথে কার্গো পরিবহন বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যেখানে মাত্র ৪ শতাংশ কার্গো রেলে পরিবহন হয়, সেটি ১৬ থেকে ১৮ শতাংশে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভ না থাকলেও ইতোমধ্যে সক্ষমতা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।
পরিদর্শনকালে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো: রাজিব আহসান, লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের এমপি শাহাদাত হোসেন সেলিম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।