পরীক্ষকদের গাফিলতি প্রমাণিত হলে শাস্তি
এসএসসির খাতা মূল্যায়নে শিক্ষা বোর্ডের সতর্ক বার্তা
আওয়ামী আমলের মেধাহীন সংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে
Printed Edition
এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূূল্যায়নে কোনো ধরনের গাফিলতি মানবে না শিক্ষা বোর্ড। নিকট অতীতে অর্থাৎ বিগত আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে পরীক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়নে যেভাবে শিক্ষকদের চাপ দিয়ে অতিরিক্ত নম্বর দেয়ার সংস্কৃতি চালু হয়েছিল সেখান থেকে বের হয়ে বদনাম ঘোছাতে চাইছে সবগুলো শিক্ষা বোর্ড। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রধান সমন্বয়ক প্রতিষ্ঠান তথা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আওয়ামী আমলের অতিমাত্রায় জিপিএ ৫ দেয়ার এবং পাসের হার বেশি দেখানোর যে প্রবণতা ছিল তা এখন আর চলবে না। এখন থেকে মেধার ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে। এ বিষয়ে আগেভাগেই পরীক্ষকদের সতর্ক বার্তা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।
সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র গোপনীয়তার সঙ্গে মূল্যায়ন এবং সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। পরীক্ষার উত্তরপত্র পরীক্ষক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি, শিক্ষার্থী বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যকে দিয়ে মূল্যায়ন করানো যাবে না। এ অপরাধ প্রমাণ হলে পরীক্ষা পরিচালনা আইনে শাস্তি হবে। এ সংক্রান্ত চিঠি গতকাল সোমবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে বোর্ডের পরীক্ষার উত্তরপত্র একটি গোপনীয় বিষয়। এটি প্রধান পরীক্ষক বা পরীক্ষকদের কাছে একটি পবিত্র আমানতও বটে।
গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার নিয়ন্ত্রক এস এস কামাল উদ্দিন হায়দার নয়া দিগন্তকে জানান, আমাদের কাছে বিভিন্ন মাধ্যমে চলমান এসএসসির খাতা মূল্যাপ্রণ কিছু ত্রুটির অভিযোগ এসেছে। আমরা সেগুলো যাচাই বাছাই করে দেখেছি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ছবি বা ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে সেগুলোর কোনো সত্যতা নেই। আমরা আমাদের নিজস্ব উদ্যোগে কিছু ছবি ও ভিডিও ফ্যাক্ট চ্যাকিং করে দেখেছি এগুলো এআই (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স) দিয়ে এডিটেড করা। কিছু ছবি আমরা পেয়েছি কুমিল্লা ও যশোর বোর্ডের। এগুলোও সঠিক নয়। ছবিগুলো এডিটেড। তিনি জানান, এর পরেও আমরা পরীক্ষকদের জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করেছি। বিশেষ করে পরীক্ষার উত্তরপত্র প্রধান পরীক্ষক বা পরীক্ষক ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি, শিক্ষার্থী বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যকে দিয়ে বৃত্ত ভরাট, পূরণ করানো বা মূল্যায়ন করানো যাবে না। এ কাজ পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দের ৪২ নম্বর আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ অপরাধ প্রমাণিত হলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড কিংবা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
এ দিকে শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী আমলে বিশেষ করে ডা: দীপু মনি শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালে ঢাকায় বিক্রি হতো জিপিএ ফাইভ। তখন প্রশ্ন উঠেছিল পাবলিক পরীক্ষায় খাতা মূল্যায়নের ব্যবস্থাপনা নিয়েও। তখন পরীক্ষকদের পাশাপাশি প্রশ্নের মুখে পড়তেন খাতা নিরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষকরাও। একজন পরীক্ষক খাতা পরীক্ষার পর তা নিরীক্ষা করেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আরেকজন শিক্ষক। এর পর তা জমা দেয়া হয় প্রধান পরীক্ষকের কাছে। তারও এটি নিরীক্ষা করার নিয়ম রয়েছে। এভাবে কয়েক স্তরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ফল তৈরি করা হয়। কিন্তু এ সবই যে দায়সারাভাবে চলেছে তা ফল প্রকাশের পর আরো প্রকটভাবে ফুটে উঠেছিল। তবে এবার দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এসএসসির খাতা মূল্যায়নে যথাযথভাবে মেধাবীদের খাতা দেখা হোক এটা সব অভিভাবকই চাইছেন। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে আগেভাগেই সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন।