ড্যাপের সংশোধিত গেজেট
রাস্তা প্রশস্ত করলে মেঝের ক্ষেত্রফলের প্রণোদনা পাওয়া যাবে তিনগুণ
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
ড্যাপের গেজেট প্রকাশের পর জমির মালিকদের প্রণোদনা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে রাস্তা প্রশস্তকরণে এখন তিনগুণ প্রণোদনা পাওয়া যাবে। একই ক্ষেত্রে আগে পাওয়া যেত দুইগুণ।
৩.৬.৪.২ অনুচ্ছেদে উল্লেখিত মোট মেঝের ক্ষেত্রফল নির্ণয় করার পদ্ধতি বলা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদের নির্দেশনা অনুসারে, ‘পরিকল্পনা অনুমোদনপত্র অনুযায়ী রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্লটের যে ক্ষেত্রফলের জমি রেজিস্টার্ড ইজমেন্ট দলিলের মাধ্যমে সমর্পণ করতে হবে সেই ক্ষেত্রফলের তিনগুণ সমপরিমাণ মেঝের ক্ষেত্রফল প্রণোদনা হিসেবে পাওয়া যাবে। এই ক্ষেত্রফল অত্র এলাকার প্রাপ্য ফার অনুযায়ী নির্ণিত মেঝের ক্ষেত্রফলের সাথে যোগ করে মোট মেঝের ক্ষেত্রফল নির্ণয় করতে হবে। একাধিক রাস্তার ক্ষেত্রে প্রত্যেক রাস্তার জন্য সমর্পিত জমির পরিমাণের ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।’
এই গেজেটের আগে ২০২২-৩৫ ড্যাপের গেজেটে নির্দেশনাটি এভাবে ছিল, ‘পরিকল্পনা অনুমোদনপত্র অনুযায়ী রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্লটের যে ক্ষেত্রফলের জমি সমর্পণ করতে হবে সেই ক্ষেত্রফলে দুইগুণ সমপরিমাণ মেঝের ক্ষেত্রফল প্রণোদনা (ইনসেন্টিভ) হিসেবে পাওয়া যাবে এবং এই ক্ষেত্রফল অত্র এলাকার প্রাপ্য ফার (এফএআর) অনুযায়ী নির্ণিত মেঝের ক্ষেত্রফলের সাথে যোগ করে মোট মেঝের ক্ষেত্রফল নির্ণয় করতে হবে। একাধিক রাস্তার ক্ষেত্রে প্রত্যেক রাস্তার জন্য সমর্পিত জমির পরিমাণের ক্ষেত্রে উল্লেখিত নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।’
অনুমোদনযোগ্য ফার সূচক অনুযায়ী, মেঝের ক্ষেত্রফল নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইমারতের বিচেনায় না নেয়ার জন্য নির্দেশা দেয়া হয়েছে। এটি হলো- ‘সাধারণভাবে, নির্ধারিত ন্যূনতম পার্কিংয়ের সমপরিমাণ ক্ষেত্রফল, প্লট সংলগ্ন রাস্তার স্বাভাবিক প্রশস্ত ৬.১ মিটার (২০ ফুট) বা এর অধিক হলে ন্যূনতম পার্কিংয়ের দুইগুণ ক্ষেত্রফল এবং এর কম হলে ন্যূনতম পার্কিংয়ের দেড়গুণ ক্ষেত্রফল হবে; তবে উভয় ক্ষেত্রেই উল্লিখিত অধিক পার্কিং নির্মাণ করতে চাইলে তা প্রযোজ্য মোট মেঝের ক্ষেত্রফলের অনুর্ভুক্ত বলে বিবেচিত হবে।’ সংশোধিত গেজেট অনুসারে আরেকটি পয়েন্ট প্রযোজ্য হবে না, সেটা হলো- ‘আবাসিক ভবনের বারান্দাসহ বাসযোগ্য নয় এমন উপাদানের (যেমন পরিষেবা সংক্রান্ত- পানি, বিদ্যুৎ ইত্যাদি) ড্যাপের প্রস্তাবনার পরিবর্তে ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫ প্রযোজ্য হবে।’
৩.৬.৫ অনুচ্ছেদে উল্লেখিত ‘ইমারত বা ভবনের উচ্চতা’ শিরোনামাধীন নির্দেশনায় উল্লিখিত ‘ড্যাপ (২০২২-৩৫) গেজেট আকারে প্রকাশের পূর্বে জমির মালিক ও ডেভেলাপারের মধ্যে রেজিস্টার্ড চুক্তিপত্র হয়ে থাকলে, পূর্বতন ড্যাপ (২০১০-২২) এবং ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী প্রযোজ্য ফার এর আলোকে ভবনের পরিকল্পনা অনুমোদনপত্র ও নির্মাণ অনুমোদনপত্র প্রযোজ্য হবে’ বিধানটি বিলুপ্ত হবে।
সংশোধিত গেজেটে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের নিকট জমা করা ও প্রক্রিয়াধীন সকল নকশা ও পরিকল্পনা অনুমোদনের আবেদন দাখিলের সময় বলবৎকৃত মহাপরিকল্পনা ও বিধিমালা অনুসারে নিষ্পত্তি করা হবে। যেসকল আবেদন পূর্ববর্তী মহাপরিকল্পনার আলোকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে সেই সকল আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন মহাপরিকল্পনা গেজেটে প্রকাশের পর আপিল আবেদন করা যাবে। এ ছাড়া স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদনের ক্ষেত্রে স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদনযোগ্য ভূমি ব্যবহার ও জলস্রোত ওভারলে জোনের নির্দেশনায় ভিন্নতা পরিলক্ষিত হলে সিএস খতিয়ান, আরএস খতিয়ান ও মহানগর জরিপ রেকর্ডের মধ্যে যেকোনো দু’টি রেকর্ডে ভিপি বা বাড়ি বা অকৃষি হিসেবে উল্লেখ থাকলে বিবেচ্য আবেদন জলস্রোত ওভারলে করলে জোনের নির্দেশনার পরিবর্তে প্রস্তাবিত ভূমি ব্যবহারের নির্দেশনার আলোকে নিষ্পত্তি করা যাবে।
বিশদ অঞ্চলে পরিকল্পনায় প্রস্তাবিত রাস্তা স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করলে অনুমোদন পাওয়া যাবে। রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য জমির সীমানা বরাবর যে পরিমাণ জমি ছেড়ে দেয়ার শর্ত আরোপ করা হয় তা যথাযথভাবে রেজিস্টার্ড ইজমেন্ট দলিল হিসেবে দাখিল করতে হবে।