তাইওয়ানকে মূল ভূখণ্ডে একীভূত করার প্রতিশ্রুতি শি জিনপিংয়ের
Printed Edition
দ্য গার্ডিয়ান
চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে মূল ভূখণ্ডের সাথে আবার একীভূত করার দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গত বুধবার খ্রিষ্টীয় নববর্ষের প্রাক্কালে দেশবাসীর উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, মাতৃভূমিকে একীভূত করা সময়ের দাবি এবং এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া কোনো শক্তিই থামাতে পারবে না। শি জিনপিংয়ের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা জন্ম নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের অবস্থান আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তাইওয়ানের চারপাশে চীনের দুই দিনব্যাপী বিশাল সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার ঠিক এক দিন পরেই সির এই কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বেইজিং বরাবরই স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে দ্বীপটিকে নিয়ন্ত্রণে নেয়ার হুমকি দিয়ে রাখছে।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপট হিসেবে গত সোম ও মঙ্গলবার তাইওয়ানকে ঘিরে পরিচালিত ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামক বিশাল সামরিক মহড়াকে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ওই মহড়ায় চীন অন্তত ২০০টি যুদ্ধবিমান এবং কয়েক ডজন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে তাইওয়ানকে কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলেছিল। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, এই মহড়া চলাকালীন চীন অন্তত ২৭টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার বেশ কয়েকটি দ্বীপটির উপকূল থেকে মাত্র ২৭ নটিক্যাল মাইল দূরে আঘাত হানে। যদিও মহড়া আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে, তবে তাইওয়ান এখনো উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। কারণ বর্তমানেও দ্বীপটির চারপাশে চীনের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ২৫টি জাহাজ অবস্থান করছে এবং নজরদারি চালানোর জন্য চীন বিশেষ বেলুন পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাইওয়ানের কাছে এক হাজার ১০০ কোটি ডলারের অত্যাধুনিক অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনের পাল্টা জবাব হিসেবেই চীন এই রণপ্রস্তুতি প্রদর্শন করেছে। পশ্চিমা বিশ্লেষকরা চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার এই ক্রমবর্ধমান সামরিক ঘনিষ্ঠতাকে ‘অ্যাক্সিস অব আপহিবল’ বা ‘উত্থানের অক্ষ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তাদের আশঙ্কা, শি জিনপিংয়ের নির্দেশ পাওয়া মাত্রই চীনা সেনারা যেকোনো মুহূর্তে তাইওয়ানে আক্রমণ চালাতে পারে। অন্য দিকে চীনের এই আধিপত্যবাদী আচরণের কড়া জবাব দিয়েছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে।