জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনে ডা: শফিক
নতুন-পুরাতন বুঝি না যেখানেই ফ্যাসিবাদ সেখানেই প্রতিরোধ
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী দিনের সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে একটি মানবিক সমাজ ও দেশ গড়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমাদের লড়াই হবে সব অন্যায় ও অপশক্তির বিরুদ্ধে। নতুন, পুরাতন ফ্যাসিবাদ বুঝি না, যেখানেই ফ্যাসিবাদ সেখানেই প্রতিরোধ, সেখানেই প্রতিবাদ করা হবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।
রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে গত শুক্রবার জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঞ্চালনায় অধিবেশনে দারসুল হাদিস পেশ করেন মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এমপি। অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন- দলটির নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান
এমপি, সাবেক এমপি মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলরা ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্যরা, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের (পুরুষ ও মহিলা) সদস্যরা এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার (পুরুষ ও মহিলা) সদস্যরা।
মজলিসে শূরার অধিবেশনে সংগঠনের ২০২৫ সালের বার্ষিক রিপোর্ট, রাজনৈতিক রিপোর্ট ও প্রস্তাবনা, স্থানীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনাক্রমে কতিপয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
জামায়াত আমির বলেন, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন ও সংস্কারের জন্য সংস্কার পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। জনগণ একই দিনে দু’টি ভোট দিলেও একটি ভোটের মূল্যায়ন করা হলো। আরেকটি ফেলে দেয়া হলো। অথচ কোনোটিই অগুরুত্বপূর্ণ নয়।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, শাসনের যে ধারা অতীতে শাসকদের ফ্যাসিবাদী করে তুলেছিল জনগণ চেয়েছিল সেই ধারার পরিবর্তন হোক। এই পরিবর্তনের জন্য ব্যাপক সংস্কার অপরিহার্য। দীর্ঘ দিন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে গুরুত্বপূর্ণ ৩১টি রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে মাসের পর মাস সংলাপের পর জুলাই সনদ তৈরি করল। তার ভিত্তিতেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। আফসোস! বর্তমান সরকারি দল প্রায় ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করল। ফলে কোনো পরিবর্তন এলো না।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই সব মৌলিক বিষয়কে অগ্রাহ্য করেছে। তারা স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন, স্বাধীন গুম কমিশন ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন চাচ্ছেন না। ফলে যে জায়গাগুলোর কারণে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল- সেসব আগের জায়গায় থেকে গেল!
তিনি আরো বলেন, জনগণ আজ শুধু হতাশ নয়, ক্ষুব্ধও। তাদের ভোটের মূল্যায়ন কেন করা হলো না? নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারি ও বিরোধী দল বলেছে- আমরা গণভোট মানি আপনার গণভোটে হ্যাঁ বলুন। যারা এ আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন, তাদের প্রায় ৭০ ভাগ ভোট অগ্রাহ্য হবে কেন? প্রশ্ন রাখেন আমিরে জামায়াত।
দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা অনেক ত্যাগ ও কোরবানি স্বীকার করেছেন। হয়তো আরো ত্যাগ কোরবানির জন্য আমাদের প্রস্তুত হতে হবে। কেউ যদি আমাদের ন্যায্য অধিকার না দেয়, আমরা চুপ করে বসে থাকব না। সেই অধিকার আদায়ে আমাদের লড়াই চলবে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা ন্যায় ও কল্যাণের উপরে দেশের স্বার্থে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে আমাদের ভূমিকা থাকবে, দেশবাসী ততদিন আমাদের দোয়া ও সহযোগিতা করবেন এবং পাশে থাকবেন। প্রয়োজনে সমালোচনা ও প্রতিবাদও করবেন- আমরা স্বাগত জানাব।
জামায়াত আমির বলেন, আমাদের সীমান্তে কিছু সমস্যা আছে। আমাদের দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ, বিজিবির পাশে আমাদের গোটা দেশবাসী আছেন। আমরা সব ধরনের আধিপত্যবাদকে রুখে দিতে পারব। শুধু প্রয়োজন জাতীয় ঐক্যের। জাতীয় স্বার্থের জায়গায় সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা অধিবেশনে অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন বেশকিছু প্রস্তাব প্রস্তাব গৃহীত হয়। এ ছাড়া জুলাই গণহত্যাকারীদের বিচার দ্রুত সম্পন্নকরণ, দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেট ভাঙতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি; বিশেষ করে চাঁদাবাজি, হত্যাকাণ্ড ও দখলবাজি বন্ধ এবং সন্ত্রাস নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বনের আহ্বানসহ সাত দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।