ফরিদপুর-২ আসনে ভোটের হাওয়া
বিএনপির শামা জামায়াতের সোহরাব মাঠে সক্রিয়
Printed Edition
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসন ঘিরে জমে উঠেছে রাজনৈতিক তৎপরতা। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এই নির্বাচন হতে যাচ্ছে। প্রায় ১৬ বছর পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ ফিরে পেয়ে সাধারণ মানুষ নির্বাচনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মাঠে এরই মধ্যে সক্রিয় হয়ে ওঠছেন বিএনপি ও জামায়াতের একক প্রার্থীরা।
ফরিদপুর-২ আসনের ভোটার সংখ্যা প্রায় তিন লাখ ২১ হাজার ৬০৯ জন। ঐতিহাসিকভাবে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো বিএনপির কে এম ওবায়দুর রহমান ও আওয়ামী লীগের সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মধ্যে। তাদের মৃত্যুর পর উত্তরসূরিরা রাজনৈতিক হাল ধরেন। তবে বর্তমানে আওয়ামী লীগ অনুপস্থিত থাকায় সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ছেলে শাহাদাব আকবার চৌধুরী লাবু নির্বাচনী মাঠে নেই। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পেয়েছেন নগরকান্দা উপজেলা সভাপতি ও শিক্ষক মাওলানা সোহরাব হোসেন।
অন্য দিকে বিএনপি হাইকমান্ডের সবুজ সঙ্কেত পেয়ে মাঠে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কে এম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম রিঙ্কু। সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘গত ১৭ বছরে নগরকান্দা ও সালথায় দৃশ্যমান তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, সড়ক, হাসপাতাল- সব ক্ষেত্রেই অবহেলা ও অরাজকতা ছিল। নারী ও যুবসমাজের উন্নয়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপই নেয়া হয়নি। আমি নির্বাচিত হলে আধুনিক হাসপাতালসহ প্রয়োজনীয় সব অবকাঠামো উন্নয়ন করব।’
অন্য দিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন পাওয়া নগরকান্দা উপজেলা সভাপতি ও তালমা নাজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘জামায়াত একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক সংগঠন। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাঠে কাজ করছি। আমি রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সাথে ছিলাম এবং এখনো আছি। তাদের জন্যই কাজ করছি। আমার বিশ্বাস, জনগণ জামায়াতকে আগের চেয়ে বেশি গ্রহণ করছে।’
ফরিদপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আবু হারিচ মোল্লা জানান, ‘নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জেলার ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিগুলোকে সক্রিয় ও মজবুত করা হচ্ছে। আমাদের প্রার্থী সাংগঠনিকভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে মাঠে আছেন।’
এ ছাড়া এ আসনে গণ অধিকার পরিষদের মো: ফারুক ফকির, খেলাফত মজলিসের মাওলানা আকরাম আলী, মাওলানা লিয়াকত আলী ও ইসলামী আন্দোলনের শাহ মো: জামাল উদ্দিনের অংশগ্রহণের গুঞ্জন রয়েছে।
নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ বলেন, ‘শামা ওবায়েদ দুর্দিনে দলের পাশে থেকেছেন, নেতাকর্মীদের সহায়তা করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি এবারের নির্বাচনে বিএনপির একক প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করবেন।’
ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মূল লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উপস্থিতিও উপেক্ষা করার মতো নয়। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে মাঠ আরো গরম হয়ে ওঠবে।