মার্কিন নীতিতে বড় পরিবর্তন

নয়া দিগন্ত ডেস্ক
Printed Edition

  • ইরানকে পূর্ণ দামে তেল বিক্রির অনুমতি
  • ইরানে পরমাণু পরিদর্শক পাঠানোর মার্কিন দাবি ইরানের প্রত্যাখ্যান

একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে সই দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। চুক্তির শর্ত মতে, ওয়াশিংটন অঙ্গীকার করে, তেহরান যদি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে চলতে পারে, তাহলে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করবে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি ইরানকে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং প্রক্রিয়া ও বাজারে প্রবেশের অনুমতি দেয়ার কথাও জানায় যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তি সইয়ের পর গত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। ইরানের তেল খাত প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে এসেছে বড় পরিবর্তন। আগের নীতি থেকে বের হয়ে এসে ইরানের তেলের ওপর থেকে বিধিনিষেধ সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।

বিধিনিষেধ চালু থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর নিজেদের এই গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ বাইরের ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে এসেছে ইরান। তবে সে ক্ষেত্রে তাদেরকে মোটা অঙ্কের মূল্য ছাড় দিতে হয়েছিল। ক্রেতাদের যুক্তি, ‘ইরানের কাছ থেকে তেল কিনে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু হওয়ার ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।’ যার ফলে অবিশ্বাস্য কম দামে ইরানের তেল কিনে নিতে পারত ওই সব দেশ। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পূর্ণ দামে তেল বিক্রি করার সুযোগ পাবে ইরান; অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে যে দামে তেল বিক্রি হবে, ইরানের কাছ থেকে তেল কিনতে হলেও সে দামই চুকাতে হবে। এতে ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে নতুন করে হাজারো লাখ মার্কিন ডলার আসতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানবাসীদের জীবনে আমূল পরিবর্তন এনে দেবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, অন্যান্য বিধিনিষেধ থেকে বের হয়ে আসতে ইরানকে আরো বেশ কয়েক ধরনের ‘মানদণ্ড’ মানতে হবে।

রয়টার্সের খবর মতে, সোমবার থেকে শুরু করে আগামী ৬০ দিন পর্যন্ত ইরানের ওপর প্রযোজ্য বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি চুক্তির শর্ত না মানে, তাহলে ‘যা করার প্রয়োজন’ তাই করবেন তিনি।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে নতুন করে তীব্র হুমকি দেয়ার পর সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা বয়কট করে সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে গিয়েছিল ইরানের প্রতিনিধিদল। গতকাল মঙ্গলবার আনাদোলু এজেন্সিকে ইরানের প্রধান আলোচক ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই আলোচনা বর্জনের কথা নিশ্চিত করেছেন।

নিজের দেশের অবস্থান পরিষ্কার করে বাকের গালিবাফ বলেন, আমাদের নির্দিষ্ট কিছু মূলনীতি রয়েছে এবং এ পর্যন্ত আমরা কখনোই আমেরিকানদের সাথে একই টেবিলে বসে সরাসরি সংলাপে অংশ নিতে চাইনি। মধ্যস্থতাকারীদের বিশেষ অনুরোধে ইরান কেবল পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিতে রাজি হয়েছিল। গালিবাফ বলেন, ‘আলোচনার মাঝপথে আমি জানতে পারি যে ট্রাম্প আমাদের মহামান্য প্রেসিডেন্ট, আমাদের এই প্রতিনিধিদল এবং একই সাথে ইরানের মূল ভূখণ্ডে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর তীব্র হুমকি দিয়েছেন।’ এই খবর পাওয়ার পরপরই তিনি মার্কিন প্রতিনিধিদলের প্রধান ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানান।

ইরানি স্পিকার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টকে স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন যে ট্রাম্পের এ ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির শর্তগুলোকে সরাসরি লঙ্ঘন করে। তিনি জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ্য করে সভাকক্ষে বলেন, আমি ভ্যান্সকে বলেছিলাম যে আমরা এখানে আলোচনার টেবিলে বসে আছি এবং আমাদের স্বাক্ষরিত সমঝোতার প্রথম ধারা অনুযায়ী যেকোনো পক্ষকে হুমকি দেয়া বা সামরিক বলপ্রয়োগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু আপনাদের প্রেসিডেন্ট আজকেই নতুন করে আমাদের হুমকি দিয়েছেন। তিনি আরো যোগ করেন, আপনাদের জেনে রাখা উচিত যে ইরান কখনোই কোনো ধরনের হুমকি বা চাপের মুখে নতি স্বীকার করে আলোচনা পরিচালনা করে না।

এ ঘটনার পরপরই ইরানের সম্পূর্ণ প্রতিনিধিদল তাৎক্ষণিকভাবে বৈঠকটি সমাপ্ত ঘোষণা করে আলোচনার টেবিল থেকে একযোগে উঠে দাঁড়ায় এবং সভাকক্ষ ত্যাগ করে। গালিবাফ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, আমরা আলোচনা শেষ করে বৈঠক থেকে বের হয়ে এসেছি এবং সেখানে আর কখনোই ফিরে যাইনি। পরে মার্কিন প্রতিনিধিদল মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে আরেকটি জরুরি বৈঠক বসার জন্য জোরালো আকুতি জানালেও তেহরান ওয়াশিংটনের সেই প্রস্তাবটি সরাসরি নাকচ করে দেয়।

আমেরিকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর কাতার ও পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতাকারীরা ইরানি প্রতিনিধিদলের সাথে তাদের নিজস্ব আবাসে এসে দেখা করেন। ইরানি স্পিকার মধ্যস্থতাকারীদের সাফ জানিয়ে দেন, ‘কাতারি ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা আমাদের কাছে এসেছিলেন এবং আমরা তাদের বলেছি যে আমরা কেবল আপনাদের সাথেই কথা বলব, তবে আমেরিকানদের সাথে আমরা আর কোনো ধরনের সংলাপে বসব না।’

পরে দুই দেশের মধ্যকার এই অচলাবস্থা নিরসনে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা দীর্ঘ ৮০ মিনিট ধরে ইরানের সাথে এক নিবিড় আলোচনা পরিচালনা করেন এবং সবশেষে একটি যৌথ কূটনৈতিক বিবৃতি প্রকাশ করেন।

পরমাণু পরিদর্শক পাঠানোর মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান

বিবিসি জানায়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য প্রথম দফার আলোচনার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, পরমাণু পরিদর্শকদের আবার ইরানে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। তবে তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। সুইজারল্যান্ডে আলোচনার পর জেডি ভ্যান্স জানিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সাথে আলোচনা ‘আজ থেকেই শুরু হতে পারে’। কিন্তু পরমাণু কর্মসূচি পরিদর্শনের বিষয়ে তেহরান নতুন কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি বলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছে।

বিবিসি জানায়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য প্রথম দফার আলোচনার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, পরমাণু পরিদর্শকদের আবার ইরানে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। তবে তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।

সুইজারল্যান্ডে আলোচনার পর জেডি ভ্যান্স জানিয়েছিলেন যে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সাথে আলোচনা ‘আজ থেকেই শুরু হতে পারে’। কিন্তু পরমাণু কর্মসূচি পরিদর্শনের বিষয়ে তেহরান নতুন কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি বলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছে।

এমন সময় এই ঘটনা ঘটল যখন যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ফলে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরান মার্কিন ডলারে তাদের তেল বিক্রি করতে পারবে। গত সোমবার কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের দেয়া এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, সুইজারল্যান্ডের শহর বার্গেনস্টকে প্রথম দফার আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রোডম্যাপ’ তৈরিতে সম্মত হয়েছে।

এই আলোচনাকে একটি ‘খুব ভালো ভিত্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, উভয়পক্ষ হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেয়া এবং ‘আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির জন্য সঙ্ঘাত নিরসন’ নিয়ে আলোচনা করেছে। গত সোমবার ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ৬০ দিনের জন্য মওকুফ করেছে মার্কিন অর্থ বিভাগ, যার মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘ দিনের অবরোধের মূল ভিত্তিকে ভেঙে দেয়া হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে, যা ঐতিহাসিকভাবে তেহরানের অর্থনীতিকে স্থবির করে রেখেছিল।

এর ফলে ২১ অগাস্ট পর্যন্ত ইরান অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন, বিক্রি এবং সরবরাহের অনুমোদন দেয়। এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আওতায় ইরানি তেল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রেও আমদানি করা যাবে। এটি ব্যাংকিং লেনদেন, বীমা ও পরিবহনের পথ খুলে দিয়েছে এবং অপরিশোধিত তেল বিক্রির জন্য ইরান আগে যে জটিল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করত তার প্রয়োজনীয়তা দূর করেছে। যদিও মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, এই ৬০ দিনের ছাড়ের বিনিময়ে তেহরান হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা এবং আইএইএ-এর পরমাণু পরিদর্শকদের আবার দেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছিল। পরিদর্শকরা কখন ইরানে ফিরবেন, সোমবার সকালে সাংবাদিকরা জেডি ভ্যান্সের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া ‘চলতি সপ্তাহের মধ্যেই’ শুরু হবে, এমনকি পরিদর্শকদের সাথে আলোচনা ‘আজই হতে পারে’।

সামাজিক মাধ্যমে এ বিষয়ে পোস্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনিও দাবি করেছেন যে, ‘প্রধান অস্ত্র পরিদর্শনে সম্মত হবে’ ইরান। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, পরমাণু পরিদর্শনের বিষয়ে ‘নতুন কোনো প্রতিশ্রুতি’ তারা দেননি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতিসঙ্ঘের পরিদর্শকদের সাথে যেকোনো সম্পৃক্ততা ‘পার্লামেন্ট ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বিদ্যমান প্রক্রিয়ার অধীনেই’ হবে।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি আইএইএ। গত গ্রীষ্মে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যেসব স্থানে বোমা হামলা চালিয়েছিল, সেখানে পরিদর্শনের সুযোগ স্থগিত করে দিয়েছিল ইরান। পরের মাসেই জাতিসঙ্ঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছিল যে, তারা দেশটিতে থাকা তাদের পরিদর্শকদের সরিয়ে নিয়েছে।

২০১৫ সালে ইরান এবং ছয় বিশ্বশক্তি- যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি ও ব্রিটেন- একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিল, যার মাধ্যমে ইরানে পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ পায় আইএইএ। নিজের প্রথম মেয়াদে অর্থাৎ ২০১৮ সালে এই চুক্তিকে ‘বাজে চুক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন ট্রাম্প।

ভ্যান্স সোমবার জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র আবারো ‘ইরানের ওপর কঠোর আঘাত’ করতে পারে, ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি দেয়ার পর আলোচনা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিল ইরানিরা। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি ইরানি আলোচকদের জানিয়েছিলেন যে, ট্রাম্প কেবল ইরানের ‘উসকানিমূলক মন্তব্যের’ জবাব দিচ্ছিলেন। সোমবার ওভাল অফিস থেকে ইরানের উদ্দেশে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান যদি তাদের চুক্তি মেনে না চলে বা আচরণ ঠিক না রাখে, তবে আমি যা করার তা-ই করব। এ দিকে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির প্রধান আলোচকরা সোমবার আলোচনা থেকে বেরিয়ে গেছেন, তবে উভয়পক্ষের মধ্যে কারিগরি আলোচনা অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার মধ্যস্থতাকারী- কাতার ও পাকিস্তানের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘ভুল বোঝাবুঝি ও দুর্ঘটনা এড়াতে’ একটি ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা’ তৈরি করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও লেবাননের মধ্যে একটি ‘সঙ্ঘাত নিরসন সেল’ তৈরিতে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে, যার লক্ষ্য লেবাননে সামরিক অভিযানের অবসান ঘটানো। লেবানন পরিস্থিতিকে ‘আসল পরীক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও। গত শনিবার রাত থেকে লেবানন, ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই কমে এসেছে এবং একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখনো বজায় রয়েছে।