সাক্ষাৎকার : ড. শওকত আলী
নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণ করতে প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ওপর নিবিষ্ট গবেষক ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অর্থনীতিবিদ ড. শওকত আলী বলেছেন, দীর্ঘ দিন ধরে একটি মহল দাবি করে আসছে যে, জিয়াউর রহমান জীবিত অবস্থায় কখনোই ২৬ মার্চের ঘোষণায় নিজেকে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে উল্লেখ করেননি। আমরা এই দাবিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছি। আমাদের হাতে ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে- অর্থাৎ ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১ মার্চে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রকাশিত ৪০টিরও বেশি দলিল রয়েছে, যেখানে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা যুদ্ধের আহ্বান এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ আছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৮০ সালে দৈনিক দেশের প্রথম বর্ষপূর্তি সংখ্যায় প্রকাশিত প্রেসিডেন্ট জিয়ার স্বহস্তে লিখিত স্মৃতিচারণাটি জাতির সামনে উপস্থাপন করেছি। এতে তিনি নিজে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। এ সময় জেনারেল ওসমানীসহ মুক্তিযুদ্ধের অনেক অগ্রসেনানী জীবিত ছিলেন। তারা কেউ এর সাথে দ্বিমত পোষণ করেননি।
নয়া দিগন্তের সাথে এক সাক্ষাৎকারে গতকাল তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ড. শওকত মুক্তিযুদ্ধে জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের নানা দিক এ সময় তুলে ধরেন। নিচে তার সাক্ষাৎকারের বিস্তারিত-
প্রশ্ন : একটি প্রচলিত বিতর্ক হলো, জিয়াউর রহমান জীবদ্দশায় কখনো নিজেকে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন বলে উল্লেখ করেননি। আপনি এ বিষয়ে গবেষণা করেছেন। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?
ড. শওকত আলী : এটি একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রচার। দীর্ঘ দিন ধরে একটি মহল দাবি করে আসছে যে, জিয়াউর রহমান জীবিত অবস্থায় কখনোই ২৬ মার্চের ঘোষণায় নিজেকে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে উল্লেখ করেননি। আমরা এই দাবিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছি। আমাদের হাতে ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে- অর্থাৎ ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১ মার্চে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রকাশিত ৪০টিরও বেশি দলিল রয়েছে, যেখানে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা যুদ্ধের আহ্বান এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ আছে।
আমরা প্রথম পর্যায়ে ১৯৮০ সালে দৈনিক দেশের প্রথম বর্ষপূর্তি সংখ্যায় প্রকাশিত প্রেসিডেন্ট জিয়ার স্বহস্তে লিখিত স্মৃতিচারণাটি জাতির সামনে উপস্থাপন করেছি। আমি মনে করি, দেশে ও বিদেশে যারা জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ধারক-বাহক, তাদের সবারই জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।
প্রশ্ন : ১৯৮০ সালে প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ লেখাটির প্রামাণিকতা সম্পর্কে আপনি কী বলতে চান?
ড. শওকত আলী : এই দলিলটির পেছনের ইতিহাস জানা জরুরি। দৈনিক দেশ প্রকাশিত হয় ১৯৭৯ সালে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একান্ত উৎসাহ ও ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায়। পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন প্রখ্যাত সাংবাদিক সানাউল্লাহ নূরী। পত্রিকা প্রকাশের কিছুদিনের মধ্যেই আমি সম্পাদকীয় বিভাগে যোগ দিই।
১৯৮০ সালে আমরা দৈনিক দেশের বর্ষপূর্তি সংখ্যা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিই। সম্পাদকীয় বিভাগের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটি লেখা সংগ্রহ করা হবে। সেই দায়িত্ব দেয়া হয় সানাউল্লাহ নূরীকে, যাকে প্রেসিডেন্ট জিয়া স্নেহ করে ‘হুজুর’ বলে সম্বোধন করতেন।
কিছুদিন পর নূরী ভাই আমাদের জানান যে, প্রেসিডেন্ট জিয়া মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণমূলক একটি লেখা দেবেন। পরবর্তীতে ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ শিরোনামে সেই লেখাটি ১৯৮০ সালে দৈনিক দেশের বর্ষপূর্তি সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
প্রশ্ন : এই দলিলটি আপনি কীভাবে সংরক্ষণ করেছেন এবং কেন এটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন?
ড. শওকত আলী : ১৯৮১ সালের মে মাসে আমি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাই। যাওয়ার সময় সানাউল্লাহ নূরী আমাকে দৈনিক দেশের সেই বর্ষপূর্তি সংখ্যার একটি কপি দিয়েছিলেন। গত ৩৩ বছর ধরে আমি দলিলটি অত্যন্ত যতেœর সাথে সংরক্ষণ করেছি।
এই দলিলটি প্রকাশ করতে পেরে আমি আনন্দিত, কারণ এটি এমন এক সময়ে লেখা হয়েছিল, যখন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনানায়ক জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীসহ মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সারির প্রায় সব ব্যক্তিত্ব জীবিত ছিলেন। তারা কেউ-ই জিয়াউর রহমানের এই বিবরণ নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেননি।
প্রশ্ন : আপনার মতে, জিয়াউর রহমানের এই লেখাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?
ড. শওকত আলী : আমার জানা মতে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে মাত্র দু’টি গুরুত্বপূর্ণ লেখা লিখেছিলেন এবং কয়েকটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ তার সবচেয়ে বিশদ এবং পরিণত বয়সে লেখা স্মৃতিচারণ। এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিকথা নয়; বরং মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল।
এই লেখার শেষে মরহুম সানাউল্লাহ নূরী প্রেসিডেন্ট জিয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন : ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের অগ্রনায়ক ছিলেন আপনি। রাজনৈতিক নেতারা যখন স্বাধীনতার কথা ঘোষণা করতে ব্যর্থ হলেন, তখন এত বড় ঝুঁকি আপনি কীভাবে নিলেন? মাত্র কয়েকজন তরুণ অফিসার ও অল্পসংখ্যক জওয়ানকে নিয়ে কীভাবে এমন একটি দুর্ধর্ষ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার সাহস করলেন, যখন কোথাও থেকে সাহায্য পাওয়ারও কোনো নিশ্চয়তা ছিল না?’
এই প্রশ্নের উত্তরে জিয়াউর রহমান যে বক্তব্য প্রদান করেন, তা মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্ব সম্পর্কে তার নিজস্ব মূল্যায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিলগুলোর একটি।
প্রশ্ন : আপনি মনে করেন, ১৯৭১ সালের মার্চে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনাপর্বে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী ছিল?
ড. শওকত আলী : ১৯৭১ সালের মার্চ মাসটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর একটি। ২৫ মার্চের গণহত্যার পর পুরো জাতি যখন দিশেহারা, নেতৃত্বহীন ও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে, তখন মেজর জিয়াউর রহমান নিজের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে স্বাধীনতার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। তিনি শুধু যুদ্ধের আহ্বানই জানাননি, বরং যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন।
এই বিষয়ে জিয়াউর রহমান নিজেই লিখেছেন : ‘জাতির চরম সঙ্কটের মুহূর্তে কাউকে না কাউকে সামনে এগিয়ে আসতে হবে। নিতে হয় দায়িত্ব। আমি কেবল সে দায়িত্ব পালন করেছি। নেতারা যখন উধাও হয়ে গেল, সিদ্ধান্ত দেয়ার মতো কেউ যখন থাকল না, তখন জাতির পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত আমাকে ঘোষণা করতে হলো।’
প্রশ্ন : আপনি বলছেন যে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতি আগেই শুরু হয়েছিল। এ বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
ড. শওকত আলী : আমার গবেষণায় দেখা যায়, মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই চট্টগ্রামে অবস্থানরত বাঙালি সামরিক কর্মকর্তারা পাকিস্তানি সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে সতর্ক ছিলেন। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতার জন্য একটি সশস্ত্র প্রস্তুতি গড়ে উঠেছিল।
জিয়াউর রহমান তার স্মৃতিচারণায় লিখেছেন : ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দ্রুত ঘনিয়ে আসছে। আমাদের এখন থেকে সর্বক্ষণ প্রস্তুতি নিয়ে থাকতে হবে।’ তিনি আরো উল্লেখ করেন : ‘প্রথম বৈঠকে একটি অ্যাকশন প্ল্যানের রূপরেখা তৈরি করা হলো। তার ভিত্তিতে রোজ একই জায়গায় আমরা বৈঠকে মিলিত হচ্ছিলাম। নিঃশব্দে একইভাবে চললো আমাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতির কাজ।’
প্রশ্ন : ২৫ মার্চের রাতে কীভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে আপনি মনে করেন?
ড. শওকত আলী : আমার মতে, ২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল সেই চূড়ান্ত মুহূর্ত, যখন আর কোনো অপেক্ষার সুযোগ ছিল না। পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ শুরু হওয়ার খবর পাওয়ার পর জিয়াউর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্রোহের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
এই প্রসঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার নিজের ভাষ্য : “বুঝতে পারলাম যে সময়ের জন্য অপেক্ষা করছিলাম সে সময় এসে গেছে। সাথে সাথে বলে উঠলাম, ‘উই রিভোল্ট’। নির্দেশ দিলাম, ষোলশহরে ছুটে যাও। পাকিস্তানি অফিসারদের আটক করো।”
প্রশ্ন : স্বাধীনতা যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
ড. শওকত আলী : আমার দৃষ্টিতে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে সংঘটিত সামরিক বিদ্রোহ এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি যুগান্তকারী ঘটনা। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সেদিন সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি শীর্ষক লেখায় জিয়াউর রহমান লিখেছেন : “ব্যাটালিয়নের সব অফিসার আর জোয়ানদের এক জায়গায় একত্রে করে বললাম-আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে নেমেছি। ‘উই রিভোল্ট ফর আওয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্স’।” তিনি আরো যোগ করেন : “পর মুহূর্তেই সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। রাত তখন ২টা ১৫ মিনিট। ২৬শে মার্চ ১৯৭১।”
প্রশ্ন : কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত ঘোষণার গুরুত্ব আপনি কীভাবে দেখেন?
ড. শওকত আলী : আর গবেষণায় দেখা যায়, কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত ঘোষণাটি শুধু বাংলাদেশের জনগণের কাছেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও স্বাধীনতার যুদ্ধের বার্তা পৌঁছে দেয়। এর মাধ্যমে বিশ্ব প্রথম জানতে পারে যে বাংলাদেশ স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে নেমেছে।
জিয়াউর রহমানের ভাষায় : ‘পরদিন চট্টগ্রাম রেডিও থেকে জাতিকে আমি সে সিদ্ধান্তের কথা জানালাম। জাতি সমস্বরে সাড়া দিলো সেই ডাকে। বেতার তরঙ্গের সেই সন্ধ্যার ঘোষণা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি রেডিওতে ধরা পড়ল।’
তিনি আরো লিখেছেন : “২৭শে মার্চ, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ইথারে ঘোষণাটি উচ্চারিত হওয়ার পর মুহূর্তেই বিশ্ব মানচিত্রে অঙ্কিত হয়ে গেল ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ কথাটি।”
প্রশ্ন : স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে জনগণের ভূমিকা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
ড. শওকত আলী : আমার বিশ্বাস, মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি সর্বজনীন জাতীয় যুদ্ধ। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া এ যুদ্ধের সফলতা সম্ভব ছিল না। জিয়াউর রহমানের স্মৃতিকথাও সেই বাস্তবতাকে সমর্থন করে।
তিনি লিখেছেন : ‘জাতির সেই প্রথম স্বাধীনতা যোদ্ধাদের পথে পথে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানালো জনগণ। তারা খাবার নিয়ে আসল ক্ষুধার্ত সৈনিকদের জন্য।’
এবং শেষে তিনি যে মূল্যায়ন করেছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : ‘বাংলাদেশের জনগণের অনিরুদ্ধ জাতীয় চেতনাই স্বাধীনতা যুদ্ধের চালিকা শক্তি।’
প্রশ্ন : সবশেষে, আপনি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক অবস্থানকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
ড. শওকত আলী : আমার দৃষ্টিতে ইতিহাসে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়াই একজন নেতার সবচেয়ে বড় পরিচয়। ১৯৭১ সালের মার্চে জিয়াউর রহমান সেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি শুধু একজন সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন না; তিনি একটি বিপর্যস্ত জাতির সামনে প্রতিরোধের পথ উন্মুক্ত করেছিলেন। ইতিহাসের বিচার ইতিহাসই করবে; কিন্তু সেই ইতিহাসকে বিকৃত না করে দলিলভিত্তিকভাবে মূল্যায়ন করা আমাদের দায়িত্ব।