পরিকল্পনা বিভাগকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়
৩ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা ১৩ প্রকল্পে চাহিদা
সাবরাং ট্যুরিজম ও চায়না শিল্প জোন প্রকল্পে ব্যয় সোয়া ৬ হাজার কোটি টাকা
Printed Edition
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়সহ আওতাধীন সংস্থাসমূহ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ১৩টি প্রকল্পের আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) মোট তিন হাজার ৬৬২ কোটি ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এতে জিওবি খাতে ২ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা, প্রকল্প সাহায্য খাতে ৮৭১ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং স্ব-অর্থায়নকৃত খাতে ২০২ কোটি ২৫ লাখ টাকা চাওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) (প্রতিকল্প) র.হ.ম. আলাওল কবির গত ৯ এপ্রিল এই চাহিদা দিয়ে চিঠি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। আর অননুমোদিত ৬ প্রকল্পের মধ্যে সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক প্রকল্প এবং সহায়তামূলক অবকাঠামো চীনের অর্থনৈতিক ও শিল্প জোন অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। এই দুই প্রকল্পে খরচ প্রাক্কলিত হয়েছে ৬ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ১৩ প্রকল্পের জন্য ওই অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি এডিপিতে সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অননুমোদিত ৬টি প্রকল্প এডিপি বা আরএডিপি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এএমএস) মাধ্যমে পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের জন্য। বেপজার জন্য এক হাজার ২৫৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দের জন্য বলা হয়েছে।
যেসব প্রকল্পের জন্য মোট তিন হাজার ৬৬২ কোটি ১৫ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে সেগুলো হলো, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর-এ পানি শোধনাগার ও গভীর নলকূপ স্থাপন (১ম সংশোধিত) (জুলাই ২০১৯-জুন ২০২৬) প্রকল্পে ৩৮১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর-এ ২টি মডার্ন ফায়ার স্টেশন স্থাপন প্রকল্পের (জানুয়ারি ২০২২-জুন ২০২৫) জন্য ৭৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল (ধলঘাটা) এর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প (জানুয়ারি ২০২৪-ডিসেম্বর ২০২৬) জন্য ৫৪৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানীজ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য অবকাঠামো উন্নয়নে (মার্চ ২০১৯-জুন ২০২৫) ৪৫০ কোটি টাকা, মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন (এপ্রিল ২০১৯-জুন ২০২৫) প্রকল্পে আট কোটি ৪ লাখ টাকা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর (বিএসএমএসএন) উন্নয়ন প্রকল্প (জানুয়ারি ২০২১-ডিসেম্বর ২০২৫) বাস্তবায়নে ৬০০ কোটি টাকা।
রফতানি খাতে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মীরসরাই (১ম পর্যায়) (১ম সংশোধিত) (সেপ্টেম্বর ২০১৮-ডিসেম্বর ২০২৫) ১৬৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, পটুয়াখালী রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা প্রকল্প (জুলাই ২০২৩-জুন ২০২৬) বাস্তবায়নে ৩৯৫ কোটি টাকা, যশোর রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা প্রকল্প (জানুয়ারি ২০২৪-ডিসেম্বর ২০২৬) বাস্তবায়নে ৭০০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে আগামী অর্থবছরের এডিপিতে। আর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় অধীন জলবায়ু উদ্বাস্তু পুনর্বাসন প্রকল্প (২য় সংশোধিত) (জুলাই ২০২০-ডিসেম্বর ২০২৬) অনুমোদিত প্রকল্পের জন্য ৭১ কোটি ১৪ লাখ টাকার চাহিদা দেয়া হয়েছে। বেপজার আওতাধীন ইপিজেডসমূহে ৮টি ছয়তলা কারখানা ভবন নির্মাণ (জানুয়ারি ২০২৩-ডিসেম্বর ২০২৫) প্রকল্পে ১৫১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
চিঠিতে অননুমোদিত প্রকল্পের ব্যাপারে বলা হয়েছে, সহায়তামূলক অবকাঠামো চীনের অর্থনৈতিক ও শিল্প জোনের জন্য চার হাজার ৫৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা, সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক প্রকল্পের জন্য ২ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা, ঢাকার বেইলী রোডস্থ এনএসআই নগর অভ্যন্তরীণ অপারেশন উইং কার্যালয় নির্মাণ প্রকল্পে ১১৪ কোটি ৭১ লাখ ২৪ হাজার টাকা, ধামরাইয়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ কাজে এক হাজার ১০৫ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার টাকা, রংপুর রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার জন্য ৮৫১ কোটি ২৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়।
সাবরাং ট্যুরিজম প্রকল্পের ব্যাপারে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বেজা কর্তৃক দেশের সম্ভাবনাময় অঞ্চলে ট্যুরিজম পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলায় প্রায় এক হাজার ৪৭ একর এলাকা নিয়ে সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক স্থাপন করা হয়েছে। সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক-এর ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ট্যুরিজম খাতে বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা ও পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। গত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বেজার গভর্নিং বোর্ডের সভায় (গভর্নিং বোর্ডের ২য় সভায়) ‘সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক’ স্থাপন অনুমোদিত হয়েছে। ইতোমধ্যে সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক এলাকার ভূমি উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে এবং বর্তমানে পরিপূর্ণ ট্যুরিজম পার্ক স্থাপনের নিমিত্ত অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ সম্পাদন করা প্রয়োজন। ট্যুরিজম দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ খাত বিবেচনায় কক্সবাজার জেলার টেকনাফে সাবরাং এলাকায় এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।