নিষিদ্ধ থাকছে আ’লীগের কার্যক্রম
জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তিসহ সংসদে আরো ১৩টি বিল পাস
Printed Edition
সংসদ প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল ২০২৬’ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬-সহ ১৩টি বিল পাস হয়েছে। গতকাল বুধবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা এই বিলগুলো উত্থাপন করেন, পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল ২০২৬’ পাস হওয়ার মাধ্যমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে।
গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১তম দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। সকালে ও বিকেলে মিলে পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে- সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল ২০২৬’,‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬’, ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন অব ফিস (এমেনমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’, ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিল, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ বিল ১৯৯৬ এর সংশোধন বিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬, জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬, স্থানিক পরিকল্পনা বিল, ২০২৬ এবং পরিত্যক্ত বাড়ি (সম্পূরক বিধানাবলি) (সংশোধন) বিল, ২০২৬।
মাগরিব নামাজের বিরতির পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় আরো চারটি বিল সংসদে পাস হয়। কোড অব সিভিল প্রসিডিউর অ্যামেনমেন্ট বিল-২০২৬ বিলটি উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান। পরে কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতক্রমে তা পাস হয়।
অন্য তিনটি বিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। পরে এই তিনটি বিলও সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। বিল তিনটি হলো- বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (সংশোধনী) বিল-২০২৬, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬ এবং বাংলাদেশ বেসরকারি রফতানি প্রক্রিয়াকরণ বিল-২০২৬।
এর আগে গত রোব, সোম ও মঙ্গলবার মোট ২৩টি বিল পাস হয়েছে। এ নিয়ে চার দিনে মোট ৩৬টি বিল পাস হলো।
নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী কার্যক্রম : আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার জন্য ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের বিল (সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬) জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই বিল পাসের মধ্য দিয়ে সংগঠনের বিচারের পথও তৈরি হলো। এর ফলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে।
২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সত্তার বা সংগঠন নিষিদ্ধ করার বিধান ছিল। অধ্যাদেশের সংশোধনীতে সত্তা বা সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয়। সত্তা বা সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান রেখে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে ২০২৫ সালের ১১ মে। পর দিন ১২ মে নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার।
অধ্যাদেশে কোনো সত্তার কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয়েছিল এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তার মিছিল, মিটিং, প্রকাশনাসহ যেসব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা যাবে তার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিলের ৩ ধারায় বলা হয়, ‘ওই সত্তা কর্তৃক বা তার পক্ষে বা সমর্থনে যেতে কোনো প্রেস বিবৃতির প্রকাশনা বা মুদ্রণ কিংবা গণমাধ্যম, অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে যেকোনো ধরনের প্রচারণা অথবা মিছিল, সভা-সমাবেশ বা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন বা জনসম্মুখে বক্তৃতা দেয়া নিষিদ্ধ করবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু সন্ত্রাসী কার্য প্রতিরোধ এবং তাদের কার্যকর শাস্তির বিধানসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান প্রণয়ন করার নিমিত্ত ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯’ প্রণয়ন করা হয়। ওই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কার্যের সাথে জড়িত রয়েছে বলে যুক্তিসঙ্গত কারণের ভিত্তিতে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ওই ব্যক্তিকে তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারে বা সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারে। তবে বর্তমান আইনে কোনো সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণের বিষয়ে কোনো বিধান নেই। ওই বিষয়টি স্পষ্ট করাসহ বিধান সংযোজন আবশ্যক হেতু ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯’কে সময়োপযোগী করে ওই আইনের অধিকতর সংশোধন সমীচীন ও প্রয়োজন প্রতীয়মান হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এ আইনটির ১৮ ও ২০ ধারা সংশোধনপূর্বক ১১/০৫/২০২৫ তারিখে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর বিলটি পাসের সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বক্তব্য দিতে চাইলে তা বিধিসম্মত না হওয়ায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অনুমতি দেননি। তবে এই সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেন, একটি শিট আমরা তিন-চার মিনিট আগে হাতে পেয়েছি। এখনো পড়তে পারিনি। যেহেতু আইনটা অবশ্যই একটি সেনসেটিভ আইন। আমরা কি অনুরোধ করতে পারি, বিলটি পাসের আগে সময় রেখে একটু সুযোগ দেয়া হোক।
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রুলিং দিয়ে বলেন, বিলের এই পর্যায়ে এসে আপত্তি করার সুযোগ নেই। বিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে আপত্তি বা প্রস্তাব দেয়ার প্রয়োজন ছিল, যা দেয়া হয়নি।
এর পর বিলটি পাসের পক্ষে যুক্তি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই বিলটা হলো, একটি গণহতথ্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের নিষিদ্ধ করা সংক্রান্ত একটি এমেনমেন্ট (সংশোধনী)। আগের যে আইন ছিল, সন্ত্রাসবিরোধী আইন সেটার সংশোধনের জনথ্য। বিরোধীদলীয় নেতার স্মরণে থাকার কথা যে তারা এবং এনসিপির বন্ধুরা মিলে আন্দোলনের মাধ্যমে একটি জনমত তৈরি করেছিলেন। সেই জনমতের পরিপ্রেক্ষিতেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই আইনের বলেই একটি রাজনৈতিক দলের (আওয়ামী লীগ) রেজিস্ট্রেশন বর্তমানে স্থগিত আছে। এমনকি আইসিটি অ্যাক্টেও পরিবর্তন আনা হয়েছে সংগঠনের বিচারের জন্য। মন্ত্রী আরো বলেন, সংশোধনী দেয়ার সময় পার হয়ে গেছে। এখন আলোচনা করতে চাইলে বিলের প্রথম বা দ্বিতীয় পাঠের সময় প্রস্তাব দেয়া উচিত ছিল।
মন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকারের নির্দেশনায় বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করা হয় এবং কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। অর্থাৎ, সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইনের বলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনা যাবে।
আইনটি পাসের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ আইনি ভিত্তি পেলো। ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের ভিত্তিতে কার্যকর ছিল। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত একটি বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশটি পর্যালোচনা করে সংশোধিত আকারে সংসদে আইন হিসেবে পাসের সুপারিশ করে। কমিটির সুপারিশের আলোকে বিলটি সংসদে উত্থাপন ও পাস করা হয়।
গেজেটে উল্লেখ করা হয়, অভ্যুত্থান দমনে ‘গুম, খুন, পুড়িয়ে হত্যা, গণহত্যা, বেআইনি আটক, অমানবিক নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশে মূলত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি বা সংগঠনের পাশাপাশি তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান সংযোজন করা হয়। গতকাল জাতীয় সংসদে পাস হওয়া বিলের মাধ্যমে ওই অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত হলো।
জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে সংসদে বিল পাস : এ দিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে জাতীয় সংসদ। সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উত্থাপিত এ-সংক্রান্ত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) বিল-২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। এর আগে সংসদে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য তুলে ধরেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণ-অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করে প্রত্যাহার করা হবে। এ ছাড়া নতুন কোনো মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা গণ-অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে করা আইনত বারিত (নিষিদ্ধ) হবে। আরো বলা হয়েছে, কোনো গণ-অভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করার কারণে করা হয়ে থাকলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকার নিযুক্ত কোনো আইনজীবী এই প্রত্যয়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করবেন। এই আবেদনের পর আদালত ওই মামলা বা কার্যধারা সম্পর্কে আর কোনো কার্যক্রম নেবেন না। তা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি অবিলম্বে অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা ক্ষেত্রমতে খালাসপ্রাপ্ত হবেন।
বিলে বলা হয়, এই বিধান সত্ত্বেও কোনো গণ-অভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে এবং কমিশন এই অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা নেবে। তবে যে ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন, সে ক্ষেত্রে কমিশন ওই প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর বর্তমান বা পূর্বে কর্মরত কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবেন না। তদন্ত চলাকালে আসামিকে গ্রেফতার বা হেফাজতে নেয়ার প্রয়োজন হলে তদন্ত কর্মকর্তা যুক্তিসঙ্গত কারণ উল্লেখ করে আগে কমিশনের অনুমোদন নেবেন। আরো বলা হয়, যদি কমিশনের তদন্তে প্রতীয়মান হয় যে, অভিযোগে উল্লিখিত কার্য বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার ছিল, তা হলে কমিশন সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে প্রতিবেদন জমা দেবে। এর পর আদালত ওই প্রতিবেদনকে পুলিশ প্রতিবেদন সমতুল্য গণ্য করে পরবর্তী কার্যক্রম নেবেন। এ ছাড়া কমিশনের তদন্তে যদি প্রতীয়মান হয় যে, অভিযোগে উল্লিখিত কার্য রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, তা হলে কমিশন মনে করলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারকে আদেশ দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কোনো আদালতে সংশ্লিষ্ট কার্য-সম্পর্কিত কোনো মামলা করা যাবে না, কিংবা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা নেয়া যাবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপনকালে আপত্তি জানানোর জন্য ফ্লোর নেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণদের সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে যে বিলটা আনা হয়েছে, সেই বিলের দুই এর ঘ-তে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহারের ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিরোধের পরিবর্তে সঙ্কীর্ণ ও ব্যক্তি স্বার্থে সংঘটিত যে হত্যাকাণ্ডগুলো হয়েছে, এটাকে একভাবে দেখা হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে যেই কার্যাবলিগুলো সংঘটিত হয়েছে, সেটাকে একভাবে দেখা হবে। সমস্যার জায়গাটা হচ্ছে, সঙ্কীর্ণ ও ব্যক্তিগত স্বার্থে যে ধরনের সংঘটিত হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সেটাকে কে ডিফাইন করবে? এই আইন অনুযায়ী মানবাধিকার কমিশন সেটাকে কিন্তু ডিফাইন করবে। অর্থাৎ ইনডেমনিটিটা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপরে নির্ভর করবে। অথচ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশটা ইতোমধ্যে ল্যাপস করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। কমিশন যদি ২০০৯ সালের অনুযায়ী চলে, তা হলে সেটা পুরোপুরি সরকার নিয়ন্ত্রিত একটা মানবাধিকার কমিশন।
মানবাধিকার কমিশনের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে যদি কমিশনকে আমরা একটা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখি, তাদের মাধ্যমে আমরা নিরপেক্ষ ধরনের অনুসন্ধান আমরা কতটা পাবো সেটা নিয়ে আমরা সন্দিহান। সেই জায়গা থেকে এই বিলটিকে যদি আমরা বাস্তবায়ন ও ফাংশনাল করতে চাই, তা হলে কমিশনকে অবশ্যই স্বায়িত্তশাসিত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, যারা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছে, তারাই এটাকে মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখতে চাচ্ছে। কমিশন যদি অটোনোমাস হয়ে যায়, তা হলে এটার জবাবদিহিতা কীভাবে নিশ্চিত হবে এই অজুহাতে। যেভাবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলো নগ্ন করা হচ্ছে, কমিশন যে দলীয়করণ করা হবে না, আবার বাপের দোয়া মায়ের দোয়া একটা মানবাধিকার কমিশন বা বিরোধী দল দমন কমিশন করা হবে না, এটার প্রতি কিন্তু আমাদের আস্থা নেই।
এর আগে গত রোববার, সোমবার ও মঙ্গলবার মোট ২৩টি বিল পাস হয়েছে। এ নিয়ে ৪ দিনে মোট ৩৬টি বিল পাস হলো।
এদিকে চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার সকাল ও বিকেল দুই বেলা সংসদ অধিবেশন বসবে।