আ’লীগের ক্রীড়া উপ-কমিটির সদস্য হয়েও দাপট!

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের ক্রীড়াঙ্গণে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘ দিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অনেক সংগঠক বিভিন্ন ফেডারেশন থেকে ছিটকে পড়েছেন। আওয়ামী লীগের ক্রীড়া উপ-কমিটির সাথে সংশ্লিষ্ট বহু সংগঠকই এখন কার্যত ক্রীড়া অঙ্গনের বাইরে। তবে এই পরিবর্তনের মধ্যেও ব্যতিক্রম হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালে তৎকালীন প্রভাবশালী মহলের সমর্থন পেয়ে কাবাডি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক পদে আসেন সোহাগ। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের ক্রীড়া উপ-কমিটিতেও স্থান পান; প্রায় দুই শতাধিক সদস্যের ওই কমিটিতে তার অবস্থান ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলালেও তার প্রভাব কমেনি- বরং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতাতেও তিনি ফেডারেশনে প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রেখেছেন।

কাবাডি অঙ্গনের একাধিক সূত্রের দাবি, সোহাগের বিরুদ্ধে মামলা ও পাল্টা মামলার প্রবণতা এবং বিভিন্ন পক্ষকে হুমকি দেয়ার অভিযোগে পুরো অঙ্গন অস্থির হয়ে উঠেছে। ফেডারেশনের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বও এখন প্রকাশ্য। অভিযোগ রয়েছে, ভিন্নমত পোষণকারী কর্মকর্তাদের চাপে রাখতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন তিনি।

অন্যদিকে, নিজের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে গত ২২ ফেব্রুয়ারি পল্টন থানায় ১১ জন কাবাডি সংগঠক, খেলোয়াড় ও রেফারির বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সোহাগ। এই ঘটনায় কাবাডি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জিডিতে অভিযুক্ত কাবাডি সংগঠক আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, “২০২৩ সালে চার বছরের জন্য গঠিত আওয়ামী লীগের ক্রীড়া উপ-কমিটির একজন সদস্য ছিলেন সোহাগ (তালিকার ১১০ নম্বর)। হামলার শিকার হওয়ার দাবি তুলে তিনি আমাদের ১১ জনের বিরুদ্ধে জিডি করেছেন। বাস্তবে আমাদের কাবাডি থেকে দূরে রাখার জন্যই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।” তিনি আরো অভিযোগ করেন, “এখন কাবাডিতে একক আধিপত্য চলছে। নিজস্ব লোকবল দিয়ে ফেডারেশন পরিচালনা করা হচ্ছে। অর্থ ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছতা বা জবাবদিহিতা নেই। এসব বিষয়ে প্রশ্ন তোলার কারণেই আমরা চাপের মুখে পড়েছি।”

আরেক সংগঠক দেলোয়ার হোসেনের ভাষ্য, “যারা সোহাগের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করছেন, তাদের নানা উপায়ে হুমকি দেয়া হচ্ছে। ফেডারেশনের সভাপতির পদে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা থাকায় এই প্রভাব কাজে লাগানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা ক্রীড়াঙ্গণের জন্য উদ্বেগজনক।” তিনি আরো বলেন, “রাজনৈতিক পরিচিতি থাকা সত্ত্বেও বর্তমান সময়েও বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সাথে সম্পর্ক ব্যবহার করে হয়রানি করা হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে- এ ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিরা কিভাবে এখনো ক্রীড়া অঙ্গনে সক্রিয় থাকছেন।”

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্রীড়ামহলে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কাবাডি ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে জাতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।