তেলবাজি বন্ধ করে জনগণের প্রত্যাশিত কাজ করতে হবে :শফিকুল ইসলাম মাসুদ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেছেন, প্রশাসনে ও রাজনীতিতে তেলবাজি বন্ধ করে জনগণের প্রত্যাশিত কাজ করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারি দলের এমপি-মন্ত্রী এবং প্রশাসনের কিছু অতিউৎসাহী কর্মকর্তার তেলবাজির কারণে দেশে কেবল তেলের নয়, বরং সার্বিক সঙ্কটের সৃষ্টি হতে পারে।

গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থা মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মতিঝিল দক্ষিণ থানা আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মাসুদ বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, ‘সংসদের ভেতরে ও বাইরে একদল অতিউল্লাসী কর্মকর্তা যেভাবে তেলবাজি শুরু করেছে, তা অনভিপ্রেত। কোনো কোনো মন্ত্রী নিজ দফতরের কাজ ফেলে অন্য দফতর নিয়ে বাড়াবাড়ি করছেন। এমনকি পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্য ‘ওপর মহলের নির্দেশ’ বলে রাতের আঁধারে নারীদের আটক করছেন- যে দৃশ্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদের শাসনামলে দেখা যেত, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরও তার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।’

সংবিধান প্রসঙ্গে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, দেশের মানুষ এখন আর সংবিধানের ‘সংশোধন’ চায় না, বরং পূর্ণাঙ্গ ‘সংস্কার’ চায়। বাহাত্তরের সংবিধান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। কিন্তু বাহাত্তরের সংবিধানে তা নিশ্চিত হয়নি। যার ফলে স্বাধীন বাংলাদেশে মানুষ বারবার শোষণের শিকার হয়েছে। এই সংবিধান বহাল থাকলে শোষণ চলতেই থাকবে।’

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতের সরকারগুলো নিজেদের ক্ষমতা বাড়াতে সংবিধান সংশোধন করেছে। কিন্তু এবার জনগণের ক্ষমতা নিশ্চিত করতে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। তিনি অবিলম্বে গণভোটের রায় মেনে এবং জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের জোর দাবি জানান।

মতিঝিল দক্ষিণ থানা আমির মো: মুতাছিম বিল্লাহর সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট ওয়ালীউল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শামছুর রহমান, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত এ টি এম সিরাজুল হক ও মো: এনামুল করীমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা জনগণের অধিকার আদায়ে এবং একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।