ইউরোপীয় নিরাপত্তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান হবে ‘বিধ্বংসী’: তুরস্ক
Printed Edition
রয়টার্স
ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সরে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তুরস্ক। আঙ্কারার পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কয়েক দশকের পুরনো এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে ওয়াশিংটনের যেকোনো ধরনের পশ্চাদপসরণ বা প্রস্থান পুরো অঞ্চলের জন্য ‘বিধ্বংসী’ ফলাফল বয়ে আনতে পারে।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইউরোপের নিরাপত্তা বলয় বর্তমানে যে নাজুক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে মার্কিন নেতৃত্বের অনুপস্থিতি একটি বিশাল ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি করবে। যা কেবল ইউরোপ নয়, বরং ন্যাটোর কার্যকারিতা এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলবে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, ইউরোপীয় নিরাপত্তা স্থাপত্য কেবল একটি সামরিক চুক্তি নয়, এটি গত কয়েক দশকের বিশ্বশান্তির ভিত্তি। এখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান কেবল একটি কৌশলগত পরিবর্তন হবে না, বরং এটি হবে একটি বিধ্বংসী আঘাত। যা শত্রু দেশগুলোকে আগ্রাসী হওয়ার সুযোগ করে দেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অধীনে ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার বা ন্যাটোর তহবিল কমানোর যে আলোচনা চলছে, তুরস্কের এই মন্তব্য তারই সরাসরি প্রতিক্রিয়া। আঙ্কারা মনে করে, ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী হিসেবে তারা ইউরোপের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, মার্কিন সমর্থন ছাড়া এই কাঠামো বজায় রাখা অসম্ভব।
ইউক্রেন যুদ্ধ এবং রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলো ইতোমধ্যে নিজেদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াতে শুরু করেছে। তবে তুরস্কের মতে, ইউরোপ এখনো নিজের প্রতিরক্ষায় স্বাবলম্বী হয়ে ওঠেনি। এই অবস্থায় মার্কিন ছত্রছায়া সরে গেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, আমরা চাই যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকুক। ন্যাটোর ভেতরে সংহতি বজায় রাখা এখন আগের চেয়ে বেশি জরুরি। কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত যেন জোটের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে না দেয়।