পঞ্চাশের অধিক আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী নিয়ে ফিরল দুবাই অপেরা

সাকিবুল হাসান
Printed Edition
Bino-1
পঞ্চাশের অধিক আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী নিয়ে ফিরল দুবাই অপেরা

নবম মৌসুমে দুবাই অপেরা মঞ্চে ফিরেছে নতুন রূপে ও বৈচিত্র্যে। এবারের মৌসুমে রয়েছে পঞ্চাশের অধিক আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী, যার মধ্যে রয়েছে এই অঞ্চলের জন্য একাধিক নতুন আয়োজন, আধুনিক ব্যাখ্যা এবং বহুপ্রতীক্ষিত সাঙ্গীতিক ও নাট্য সহযোগিতা। অপেরা, নৃত্যনাট্য, সঙ্গীতনাট্য ছাড়াও থাকছে আরবি সঙ্গীত, নাটক, হাস্যরসাত্মক অনুষ্ঠান ও সঙ্গীত পরিবেশনা।

এই মৌসুমের সূচনা হয়েছে সেপ্টেম্বর মাসে, যেখানে মঞ্চস্থ হয়েছে জিয়াকোমো পুচিনির বিখ্যাত অপেরা ‘লা বোহেম’, লুডভিগ ভ্যান বেটোফেনের ‘পঞ্চম সিম্ফনি’ ও ‘সম্রাট পিয়ানো কনচের্তো’ এবং পিওত্র ইলিচ চাইকোভস্কির কালজয়ী ব্যালে ‘হংসিনী হ্রদ’।

দুবাই অপেরার প্রধান পাওলো পেট্রোচেলি আরব নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ‘প্রদর্শনীগুলো সতর্কভাবে বাছাই করা হয়েছে যেন দুবাইয়ের বৈচিত্র্যময় নাগরিক পরিচিতি প্রতিফলিত হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘পুরো আয়োজনটি সাজানো হয়েছে অপেরা, ব্যালে, সঙ্গীতনাট্য, আরবি সঙ্গীত, হাস্যরস, সঙ্গীতানুষ্ঠান ও নাটকের সংমিশ্রণে। এই বৈচিত্র্য নিশ্চিত করে, প্রত্যেক বয়সের ও সংস্কৃতিগত পটভূমির মানুষ এখানে নিজেদের সাথে কিছু না কিছু মেলাতে পারে।’

এই মৌসুমে যে কটি আলোচিত সঙ্গীতনাট্য মঞ্চস্থ হবে, তার মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় ‘উইকেড’ যা সৌদি আরবে সফল প্রদর্শনের পর এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথমবার উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে। এ ছাড়াও থাকছে প্রখ্যাত ‘গ্রিস’ এবং সুফি কবি ও দার্শনিক রুমিকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘রুমি : দ্য মিউজিক্যাল’ যা ২০২৫-২৬ বছরের সময়সূচিতে স্থান পেয়েছে।

পেট্রোচেলি জানান, ‘আমাদের দর্শকদের ৪০ শতাংশেরও বেশি ৪৫ বছরের নিচে বয়সের, যা একটি অপেরা ভবনের জন্য বেশ অনন্য।’ তার ভাষায়- ‘আমরা এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক মঞ্চ তৈরি করতে চেয়েছি, যেখানে চিরায়ত ঐতিহ্য আধুনিক সৃজনশীলতার সাথে মিলে যায়।’

এবারের মৌসুমে আরবি ভাষার পরিবেশনায়ও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ। উপস্থাপনায় থাকছেন- নাজওয়া করাম, জাদে দিরানি, এলিসা, মারিলিন নামান, ইয়েমেনি অর্কেস্ট্রা, ওমর খাইরাত ও খালেদ আবদুর রহমান।

পেট্রোচেলি বলেন, ‘আমরা কিংবদন্তি শিল্পীদের পাশাপাশি উদীয়মান প্রতিভাদের উপস্থাপন করছি, যাতে এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি ও বৈচিত্র্য আরো স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।’

এক সাহসী উদ্যোগ হিসেবে এবারের সময়সূচিতে রয়েছে ‘যুদ্ধ ও শান্তি’ নামের নাট্যরূপ, যা লিও তলস্তয়ের মহাকাব্যিক উপন্যাস থেকে রূপান্তরিত। এই প্রসঙ্গে পেট্রোচেলি বলেন, ‘এ ধরনের নাট্য প্রয়াস আমাদের সৃজনশীল সাহসিকতার সীমা পরীক্ষা করে এবং দর্শকদের উচ্চমানের, গভীরতাসম্পন্ন ও ব্যাপক পরিবেশনার প্রতি আগ্রহ অনুধাবনে সহায়তা করে।’

এছাড়াও এই মৌসুমে দুজন বিশ্বখ্যাত সঙ্গীত তারকার আগমন ঘটছে। তাদের একজন হলেন চীনা বংশোদ্ভূত আমেরিকান পিয়ানো শিল্পী ইউজা ওয়াং, যিনি মধ্যপ্রাচ্যে প্রথমবার পারফর্ম করতে যাচ্ছেন। অন্যজন হলেন যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যামি পুরস্কারপ্রাপ্ত গায়ক ও সুরকার জন বাতিস্ত, যিনি ঘরানাভেদে সঙ্গীত তৈরির জন্য পরিচিত।