হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থামছে না : ১ শিশুর মৃত্যু

Printed Edition
first-3
রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশু : নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী ভর্তি অব্যাহত রয়েছে। এ দিকে রংপুরে মেডিক্যালে হামের উপসর্গে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

রংপুর ব্যুরো জানায়, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে তানজিদ ইসলাম তামিম নামের ৭ বছর বয়সী এক শিশু মারা গেছে। তার বাড়ি লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের কালমাটি গ্রামে। এ নিয়ে এই বিভাগে এক শিশুর মৃত্যুর খবর জানালো স্বাস্থ্য বিভাগ।

শনিবার দুপুরে হাম উপসর্গে শিশুর মৃত্যুর এই তথ্য জানান রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হাম চিকিৎসার বিশেষ কমিটির ফোকাল পার্সন ডা: আ ন ম তানভীর চৌধুরী।

ডা: তানবির জানান, মৃত শিশুর নাম তানজিদ ইসলাম তামিম। তার বয়স সাত মাস। ঈদের দুই দিন লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে শরীরে র‌্যাশ ও জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়। এরপর মাঝে কয়েক দিন সেখান থেকে ছুটি দেয়া হয়। আবারো ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর বুধবার বিকেলে শিশুটিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। হাম উপসর্গের পাশাপাশি নিউমোনিয়ার চিকিৎসা চলছিল তার। শুক্রবার দুপুরে হামের উপসর্গ ছাড়াও নিউমোনিয়া ও হার্ট ফেলের কারণে তার মৃত্যু হয়।

ডা: তানবির আরো জানান, হাসপাতালের শিশু বিভাগের আইসোলেশন বিভাগে কর্নারে ৩০ মার্চ থেকে ৭৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে একজন মারা গেলো। আর ৫৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আরো ২০ জন হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু ভর্তি আছে।

মৃত শিশু তামজিদের পিতা রিয়াজুল ইসলাম এবং মা তিথি মনি। তামিম ছিল তাদের প্রথম ও একমাত্র সন্তান। পিতা রিয়াজুল এলাকায় ব্যবসা করেন।

রিয়াজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসকরা চেষ্টা করেছেন সব ধরনের ট্রিটমেন্ট দিতে। তবে বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) রাতে আবুল কালাম আজাদ নামের একজন হাসপাতালের মাস্টাররোল কর্মচারী আমার ছেলের মুখ থেকে অক্সিজেনের মাক্স খুলে নেয়। অনেক অনুনয় বিনয় করার পরও সে তা আর লাগায়নি। পরে নজেল দিয়ে অক্সিজেন দেয়া হয়। পরবর্তীতে পরিচালক স্বাক্ষরিত পরিচয়পত্রে দেখা যায়, তিনি আবুল কালাম আজাদ হাসপাতালের একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। বিষয়টি আমাকে খুব ভাবিয়ে তুলেছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী যদি আইসোলেশন ওয়ার্ডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডে নার্সের কাজ করে তাহলে চিকিৎসা সেবা কোথায়? বিষয়টি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, ‘অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বিষয়টি অবহিত হওয়ার সাথে সাথেই আমরা ওই কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে আমরা সজাগ আছি। হামের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ সতর্ক আছি এবং টিম সজাগ আছে।’

চট্টগ্রামে হাম উপসর্গ নিয়ে আরো ২৩ জন ভর্তি

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ সন্দেহে নতুন করে ২৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং দুই জনের শরীরে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। শনিবার চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২৩ জন সন্দেহভাজন রোগীর সবাই চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার বাসিন্দা। অন্য দিকে, শনাক্ত হওয়া নতুন দুজন নিশ্চিত হাম রোগী উপজেলার বাসিন্দা।

এখন পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯২ জনে এবং ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা হয়েছে ৪১ জন।

জেলা সিভিল সার্জন ডা: জাহাঙ্গীর আলম জানান, চট্টগ্রাম জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪১৩টি নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মহানগর থেকে ২৯০টি এবং উপজেলা পর্যায় থেকে ১২৩টি নমুনা সংগৃহীত হয়েছে।

ময়মনসিংহ অফিস জানায়, হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিকথ্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে আরো ৩৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ১১৭ শিশু।

শনিবার সন্ধথ্যায় ময়মনসিংহ মেডিকথ্যাল কলেজ হাসপাতালের হাম মেডিকথ্যাল দলের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা: মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৭৭ শিশু ভর্তি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে আরো ১০ শিশু। এ নিয়ে হাসপাতাল থেকে মোট ছাড়া পেয়েছে ৪৪৭ শিশু। সেখানে মোট ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা: মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকথ্যাল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সরা সব শিশুকে আন্তরিকতার সাথে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।