ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার দ্রুত নতুন করে গড়ে তুলছে ইরান

Printed Edition
onno-1
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইরানের তেহরানে আজাদি স্কয়ারে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব উপলক্ষে আয়োজিত বার্ষিক সমাবেশে ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে কয়েকজন কিশোর : ইন্টারনেট

তাসনিম নিউজ

যুদ্ধবিরতির সময়টিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুদ দ্রুত নতুন করে গড়ে তুলছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বর্তমানে এই মজুদ গড়ার গতি যুদ্ধপূর্ব সময়কেও ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্স কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি।

সম্প্রতি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুদের রক্ষণাবেক্ষণ এবং পুনর্গঠনের ভিডিও ফুটেজসহ এক বার্তায় তিনি এই তথ্য জানান। জেনারেল মুসাভি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির এই সময়ে আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা (লঞ্চ প্ল্যাটফর্ম) হালনাগাদ এবং পুনরায় পূর্ণ করার গতি আগের চেয়ে অনেক বেশি।

আমাদের কাছে তথ্য আছে, শত্রুপক্ষ নিজেদের জন্য এমন অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে অক্ষম এবং তারা বিশ্বের অন্য প্রান্ত থেকে ধাপে ধাপে গোলাবারুদ আনতে বাধ্য হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে চালানো যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল পরাজিত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘তারা যুদ্ধের এই পর্যায়েও হেরেছে! তারা হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে, একই সাথে লেবানন ও এই অঞ্চলেও তাদের পরাজয় হয়েছে।’ বিবৃতিতে তিনি আরো উল্লেখ করেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতির সময়কালকে আইআরজিসি তাদের সামরিক সক্ষমতা ও আভিযানিক প্রস্তুতি বৃদ্ধির কাজে পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার করছে।

বেশির ভাগ অস্ত্রভাণ্ডার প্রায় অক্ষত

এ দিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইরান তাদের অস্ত্রভাণ্ডারের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের ৬০ শতাংশের বেশি অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির সময় ১০০টিরও বেশি লঞ্চার উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো গুহা ও বাংকারে লুকানো ছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান ধীরে ধীরে তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।

এ ছাড়া হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ডিপো ও ভূগর্ভের স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ধারের কাজও চলছে। কিছু বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ প্রক্রিয়া শেষ হলে ইরান তাদের আগের অস্ত্রভাণ্ডারের প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পুনরুদ্ধার করতে পারে। যদিও অস্ত্র তৈরির অবকাঠামো উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মনে করছেন, গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়ার মতো সক্ষমতা ইরানের এখনো রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির প্রতিরোধ কৌশল এখন ভৌগোলিক সুবিধা ও অসম সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের বিরুদ্ধে ইরান বড় ধরনের কোনো সরাসরি পদক্ষেপ নেয়নি। যদিও এই অবরোধে সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘœ ঘটেছে। কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থনৈতিক কার্যক্রম সমুদ্রপথনির্ভর, যার দৈনিক মূল্য প্রায় ৩৪০ মিলিয়ন ডলার। সাম্প্রতিক সময়ে এই বাণিজ্যের বড় অংশই স্থবির হয়ে পড়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, গত ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির সময় গুহা ও ভূগর্ভের বাংকারে লুকানো অবস্থায় থাকা শতাধিক লঞ্চার শনাক্ত ও উদ্ধার করা হয়েছে। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, ইরান ধীরে ধীরে তাদের সামরিক শক্তি পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে।

যদিও অস্ত্র উৎপাদনের অবকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবুও কৌশলগত দিক থেকে ইরানের সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি বলে মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার মতো সক্ষমতা দেশটির এখনো রয়েছে।