ভারত পাকিস্তান উত্তেজনা প্রশমনে চীনের মধ্যস্থতা দাবি দিল্লির অস্বীকার
Printed Edition
এনডিটিভি
২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে চীন মধ্যস্থতা করেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সঙ্ঘাতের সময় বেইজিং দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। তবে নয়াদিল্লি চীনের এই দাবি সরাসরি নাকচ করেছে। ভারতের অবস্থান হলো, ভারত-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে কোনো তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা নেই।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ইসলামাবাদই যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছিল। ফলে চীনের মধ্যস্থতার দাবি বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে ভারতের দাবি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এনডিটিভিকে ভারত সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ‘মধ্যস্থতার বিষয়ে ভারতের অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট। অপারেশন সিঁদুরের পর কোনো মধ্যস্থতা হয়নি। ভারত সব সময়ই বলে আসছে যে, তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কোনো অবকাশ নেই। পাকিস্তান নিজেই ভারতের ডিজিএমও-এর (ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস) কাছে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছিল।’
ট্রাম্পের মতোই চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ভারত-পাকিস্তান এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তি স্থাপনের কৃতিত্ব দাবি করেছেন। বেইজিংয়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও চীনের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক এক সিম্পোজিয়ামে ওয়াং ই বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এই (২০২৫ সালে) বছর স্থানীয় যুদ্ধ এবং আন্তঃসীমান্ত সঙ্ঘাত বেশি ছড়িয়ে পড়েছে।
ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে- টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা একটি নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত অবস্থান নিয়েছি এবং সমস্যার উপসর্গ ও মূল কারণ- উভয় দিকেই নজর দিয়েছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘উত্তপ্ত সমস্যাগুলো সমাধানের এই চীনা পদ্ধতি অনুসরণ করে আমরা উত্তর মিয়ানমার, ইরানের পরমাণু ইস্যু, ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা, ফিলিস্তিন-ইসরাইল সমস্যা এবং সাম্প্রতিক কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতা করেছি।’ নয়াদিল্লি থেকে জানানো হয়েছে, ৭ মে শুরু হওয়া ভারত-পাকিস্তান সামরিক সঙ্ঘাত দুই দেশের সেনাবাহিনীর ডিজিএমও পর্যায়ের সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। গত ১৩ মে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘যুদ্ধবিরতি ও অন্যান্য দেশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করার ক্ষেত্রে, নির্দিষ্ট তারিখ, সময় এবং সমঝোতার ভাষা দুই দেশের ডিজিএমওদের মধ্যে ১০ মে, বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত টেলিফোন আলাপের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়েছিল।’