যুদ্ধবিরতি শুরুর পর ইসরাইলি হামলায় ৯৮ ফিলিস্তিনি নিহত
Printed Edition
- ড্রোন হামলায় সাংবাদিকসহ নিহত আরো ৯
- চুক্তি বাস্তবায়নের শর্তে বন্দিমুক্তির প্রস্তাব হামাসের
চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় হামলা জারি রেখেছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়ায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় একজন সাংবাদিকসহ ৯ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে যুদ্ধবিরতির পর থেকে অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে ইসরাইলের হামলায় এ পর্যন্ত মোট ৪৮ হাজার ৫২৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, গতকাল শনিবার সকালে গাজা উপত্যকার প্রধান শহর গাজা সিটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, এতে নিহত হয়েছেন চারজন ফিলিস্তিনি। এ ছাড়া একই সময় গাজার উপকূলীয় এলাকায় ইসরাইলের নৌবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন একজন ফিলিস্তিনি মৎসজীবী। এ দিকে গাজায় বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের শর্তে আমেরিকান-ইসরাইলি বন্দী এডান আলেকজান্ডার এবং আরো চার বন্দীর লাশ ফেরত দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে হামাস ও ইসরাইল মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এ দিকে হামাস ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে যুদ্ধবিরতির সফল বাস্তবায়নে ভীত বলে অভিযুক্ত করেছে এবং তার অবরোধের ফলে ইসরাইলি বাসিন্দা ও বন্দীরা অনাহারে রয়েছেন বলে জানিয়েছে।
অন্য দিকে গাজায় যুদ্ধবিরতির নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস প্রথম বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। তাদের প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট দিনের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জেরুসালেম পোস্ট জানিয়েছে, উইটকফ ৫০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দিয়েছেন।
এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউজের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ গাজার যুদ্ধবিরতি চুক্তি কয়েক সপ্তাহ বাড়ানোর জন্য একটি পরিমার্জিত মার্কিন প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। এ বিষয়ে অবগত চারটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, এই ধাপে হামাস বাকি বন্দীদের মুক্তি দেবে এবং গাজায় মানবিক সহায়তা আবার চালু করা হবে।
পরিমার্জিত এই প্রস্তাবে আরো বলা হয়েছে, ইসরাইল ও হামাস যুদ্ধবিরতি মেয়াদ বাড়ানোর সময় গাজায় একটি দীর্ঘমেয়াদি অস্ত্রবিরতির ব্যাপারে আলোচনা চালিয়ে যাবে। যদি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হয়, তাহলে বর্ধিত যুদ্ধবিরতির শেষ দিনে বাকি বন্দীদের মুক্তি দেয়া হবে, যা দীর্ঘমেয়াদি অস্ত্রবিরতির আগে ঘটবে।
হামাসের প্রস্তাব : এ দিকে হামাস বলছে গাজায় বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন করলে তারা কেবল আমেরিকান-ইসরাইলি বন্দী এডান আলেকজান্ডার এবং আরো চার বন্দীর লাশ মুক্তি দেবে। হামাস যুদ্ধ বিরতি চুক্তিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এটিকে একটি “ব্যতিক্রমী চুক্তি” বলে অভিহিত করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি সংগঠন দাবি অনুসারে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায়ে ‘দীর্ঘ বিলম্বিত আলোচনা’ মুক্তির দিন থেকেই শুরু হওয়া উচিত এবং ৫০ দিনের বেশি স্থায়ী হওয়া উচিত নয়।
ইসরাইলকে মানবিক সহায়তা পুনরায় প্রবেশ করতে দিতে হবে এবং মিসরের সাথে গাজার সীমান্তে একটি ফিলাডেলফি করিডোর থেকে সরে যেতে হবে। এ বিষয়ে ইসরাইলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। পাঁচ মার্কিন বন্দীকে মুক্তি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হামাস। তারা শুক্রবার এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, হামাস নেতৃবৃন্দ মধ্যস্থতাকারী ভাইদের কাছ থেকে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব পয়েছে। এরপর শুক্রবার সকালে হামাস নেতৃবৃন্দ এতে দায়িত্বশীলতা ও ইতিবাচকভাবে জবাব দেয়। যার মধ্যে রয়েছে মার্কিন ও ইসরাইলি দ্বৈত নাগরিক ইডান আলেক্সান্ডারের মুক্তির চুক্তিটি। এর সাথে চার দ্বৈত নাগরিকের লাশ ফেরত দেয়া হবে। এ ছাড়া ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে হামাস।
বন্দীদের পরিবারের হুঁশিয়ারি : অন্য দিকে ইসরাইলি বন্দীদের পরিবার ঘোষণা করেছে, তারা নেতানিয়াহুকে হামাসের সঙ্গে হওয়া চুক্তি বানচাল করতে দেবে না বা গাজার সুড়ঙ্গগুলোকে তাদের সন্তানদের জন্য কবর বানানোর সুযোগ দেবে না। গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে তারা তেলআবিবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে এ ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভের ডাক দেয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, যেখানে নেতানিয়াহু নতুন যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিচ্ছেন, চুক্তি লঙ্ঘন করছেন এবং বন্দীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছেন, সেখানে আমরা আজ স্পষ্ট বার্তা দেবো : আমরা গাজার সুড়ঙ্গকে আমাদের সন্তানদের কবর হতে দেবো না। একই সঙ্গে পরিবারগুলো সব বন্দীর একসঙ্গে মুক্তির দাবি জানিয়েছে। ইসরাইলি হিসাব অনুযায়ী, গাজায় এখনো ৫৯ জন বন্দী রয়েছেন। যাদের মধ্যে অন্তত ২২ জন জীবিত।