ক্ষেতের আইলই একমাত্র ভরসা চরদেওকান্দি গ্রামবাসীর

Printed Edition
bangla-2
ক্ষেতের আইলের কাদা মাড়িয়ে চলাচল করেন পাকুন্দিয়ার চরদেওকান্দি মধ্যপাড়া গ্রামের লোকজন : নয়া দিগন্ত

মুহিব্বুল্লাহ বচ্চন পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ)

দেশজুড়ে যখন মহাসড়ক, উড়ালসড়ক আর পিচঢালা পথের জয়জয়কার। তখন এই আধুনিক যুগে এসেও কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার একটি গ্রামে চলাচলের জন্য কোনো রাস্তাই তৈরি হয়নি। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও চরম ভোগান্তি আর অবহেলার শিকার হচ্ছেন এই গ্রামের বাসিন্দা ও স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। নিত্যদিনের প্রয়োজনে গ্রামটির কয়েক শ’ মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে খেতের আইল কিংবা কাদা-পানির মেঠোপথ দিয়ে। উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের চরদেওকান্দি মধ্যপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে এই করুণ চিত্র। গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য আজ পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে কোনো পাকা বা কাঁচা রাস্তাই নির্মিত হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শত বছর ধরে এই গ্রামটিতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি পরিবারের ৩০০ মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। অথচ গ্রামে প্রবেশ বা বের হওয়ার জন্য কোনো রাস্তা নেই। গ্রামের মানুষজনকে আশপাশের কৃষি জমির সরু আইল ব্যবহার করে প্রায় ৫০০ মিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রধান সড়কে উঠতে হয়।

সামান্য বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় কৃষি জমির আইল। তখন বাধ্য হয়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের হাঁটু সমান কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। কাদা-পানি মাড়িয়ে নিয়মিত যাতায়াত করতে গিয়ে প্রায়ই পানিতে পড়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বইখাতা নষ্ট হয়ে যায়। গ্রামে কেউ অসুস্থ হলে বা জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন হলে আধা কিলোমিটার পথ কাঁধে বা কোলে করে প্রধান সড়কে নিয়ে যেতে হয়। সময়মতো হাসপাতালে নিতে না পারায় চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন বাসিন্দারা।

গ্রামের বাসিন্দা নূরুল ইসলাম ও ফজলুর রহমান বলেন, শুকনো মৌসুমে কোনোমতে জমির আইল দিয়ে হেঁটে চলাচল করা গেলেও বর্ষাকালে দুর্ভোগের শেষ থাকে না। আমাদের ছেলেমেয়েরা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারে না, অসুস্থদের হাসপাতালে নেয়া যায় না। রাস্তা না থাকার প্রভাব পড়ছে এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনেও। গ্রামের ট্রাকচালক আবুল কালাম বলেন, রাস্তা না থাকায় গ্রামের বেকার যুবকেরা জীবিকা নির্বাহের জন্য রিকশা বা অটোরিকশা কিনতে পারছেন না। কারণ গাড়ি বাড়িতে এনে রাখার মতো কোনো জায়গা নেই। সবচেয়ে বড় সামাজিক সমস্যা যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এই গ্রামের ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিতেও অভিভাবকরা চরম সমস্যায় পড়ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা দোলন মিয়া অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় এলেই রাজনৈতিক নেতারা রাস্তাটি নির্মাণ করে দেয়ার বড় বড় আশ্বাস দেন। কিন্তু ভোট শেষ হলে আর কেউ খোঁজ নেন না। শুধু মিথ্যা আশ্বাসেই পার হয়ে গেছে দীর্ঘ ৫০ বছর। এ ব্যাপারে পাকুন্দিয়া ইউএনও রূপম দাস বলেন, ওই গ্রামের মানুষদের দুর্ভোগের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। একটি জনপদের মানুষের যাতায়াতের রাস্তা না থাকা খুবই কষ্টের। বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করে দ্রুত সেখানে রাস্তা নির্মাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।