আইন সংশোধনের দাবি
পাহাড়ে বিচার ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় জটিলতা
Printed Edition
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচারব্যবস্থা ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘ দিনের অসঙ্গতি ও আইনি জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত আইন সংশোধন ও কার্যকর প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন রাঙ্গামাটি জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোখতার আহমেদ।
সম্প্রতি রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর সাথে জেলার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব সমস্যা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, ২০০৩ সালে হিল ট্র্যাক্টস ম্যানুয়াল সংশোধনের মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলায় জেলা জজশিপ প্রতিষ্ঠার বিধান করা হয়, যেখানে একটি জেলা জজ ও একটি যুগ্ম জেলা জজের পদ সৃষ্টির কথা বলা ছিল।
তবে বাস্তবে ওই আইনে নতুন কোনো সংশোধনী ছাড়াই অতিরিক্ত জেলা জজ, সিনিয়র সহকারী জজ, সহকারী জজ ও যুগ্ম জজসহ একাধিক পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। তার দাবি, এ ধরনের নিয়োগ বিদ্যমান আইনের সাথে সাংঘর্ষিক এবং এতে বিচারকদের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, যা বিচারব্যবস্থার জন্য বড় সঙ্কট সৃষ্টি করতে পারে। অ্যাডভোকেট মোখতার আহমেদ বলেন, নতুন পদ সৃষ্টি করতে হলে অবশ্যই হিল ট্র্যাক্টস ম্যানুয়াল সংশোধন প্রয়োজন। অন্যথায় বিচারিক কার্যক্রমে আইনি জটিলতা বাড়বে এবং ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরো জানান, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার ভূমি ব্যবস্থাপনাতেও রয়েছে দ্বৈত কাঠামো ও জটিলতা। বর্তমানে বাজার ফান্ড ও মৌজা- এই দু’টি পৃথক ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূমি প্রশাসন পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
তার অভিযোগ, পাহাড়ি এলাকায় মৌজার হেডম্যানরা বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণে বাঙালি জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে নিয়মিত খাজনা আদায় করেন না। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে অনীহাও লক্ষ করা যাচ্ছে।
অন্য দিকে বাজার ফান্ডভুক্ত জমি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বন্ধক রাখা যায় না। ফলে স্থানীয় জনগণ ঋণ গ্রহণ বা বিনিয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে পার্বত্য অঞ্চলের বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিচার ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় দ্রুত আইন সংশোধনের আহ্বান জানান অ্যাডভোকেট মোখতার আহমেদ।