ফেনীর দাগনভূঞায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ‘সেরা মৎস্য উদ্যোক্তা’ নির্বাচিত হয়েছেন মাতুভূঞা ইউনিয়নের উত্তর আলীপুর গ্রামের পাটওয়ারী ফিসারিজ প্রকল্পের স্বত্বাধিকারী শাকের হোসেন পাটোয়ারী।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: মিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: শাহীদুল ইসলাম।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুল হায়দার ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দাগনভূঞা উপজেলার মৎস্যজীবী, মৎস্য চাষি, স্থানীয় উদ্যোক্তা ও সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা আলোচনা সভায় অংশ নেন।

আলোচনা সভা শেষে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সফল মৎস্য চাষিদের সম্মাননা দেয়া হয়। এতে উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের উত্তর আলীপুর গ্রামের পাটওয়ারী ফিসারিজ প্রকল্পের স্বত্বাধিকারী শাকের হোসেন পাটোয়ারীকে ‘সেরা মৎস্য উদ্যোক্তা’ হিসেবে পুরস্কৃত করা হয় এবং তার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়।

শাকের হোসেন পাটোয়ারী মাতুভূঞা ইউনিয়নের উত্তর আলীপুর গ্রামের কলিম উদ্দিন পাটোয়ারী বাড়ির আমির হোসেন পাটোয়ারীর ছোট ছেলে। তিনি ২০১৬ সালে স্থানীয় ইকবাল মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে মৎস্য চাষে মনোনিবেশ করেন। বর্তমানে তার খামারে ১২ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে।

শাকের হোসেনের দাবি, বর্তমানে খামারে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মাছ রয়েছে।

শাকের হোসেন পাটোয়ারী নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘আমি ইউরোপে না গিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৯ সাল থেকে মৎস্য চাষে নিয়োজিত আছি। বিগত ২০২৪ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আমি মাছ চাষ নিয়ে ব্যস্ত আছি।’

তিনি বলেন, বর্তমানে তার খামারে সাদা ও মিশ্র জাতের নানা প্রজাতির মাছ রয়েছে। দাগনভূঞা উপজেলার সেরা মৎস্য উদ্যোক্তা নির্বাচিত হওয়ায় নিজেকে ধন্য মনে করছেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘এর মাধ্যমে দেশ ও জনগণের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা আরো বেড়ে গেল। আমাকে নির্বাচিত করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।’