দ্বিতীয় দফায় ১৭১ জন ক্রীড়াবিদের স্বপ্নপূরণ

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ক্রীড়া উন্নয়নে যা ছিল আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন সেখানে নতুন আশার আলো জ্বালালেন নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। গতকাল যখন ১৭১ জন খেলোয়াড়ের হাতে পৌঁছাল স্বীকৃতির প্রতীক ক্রীড়া কার্ড ও এক লাখ টাকার ভাতা তখন এক অভূতপূর্ব আবহ তৈরি হলো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরো হল জুড়ে। একটি মুহূর্ত, যা শুধু সম্মান নয়, বরং দীর্ঘ দিনের অপেক্ষার সুন্দর এবং সফল পরিণতি। গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটোরিয়ামে আমিনুল হক এই কার্ড ও ভাতা তুলে দেন, আর সেই মুহূর্তে খেলোয়াড়দের চোখে ফুটে ওঠে একরাশ আনন্দ এবং ভবিষ্যতে চলার নির্মল পাথেয়।

সরকারের ক্রীড়া ভাতা কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপে নতুন করে যুক্ত হওয়া এই ১৭১ জনকে নিয়ে মোট ৩০০ জন খেলোয়াড় এই সুবিধার আওতায় এলেন। পরিকল্পনা রয়েছে পর্যায়ক্রমে ৫০০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করার। ক্রিকেটের বাইরে ফুটবল, হকি, সাঁতার, ভারোত্তোলন, টেবিল টেনিস, দাবা ও অ্যারচারিসহ নানা ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়রা এতে যুক্ত হয়েছেন, যেখানে প্রথমবারের মতো জাতীয় নারী হকি দলও অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তৈরি হয়েছে নতুন আশার দিগন্ত।

এই উদ্যোগ কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, এটি খেলোয়াড়দের সংগ্রামের স্বীকৃতি। প্রতি চার মাস অন্তর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন হবে। তাতে ক্রীড়াবিদদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব জাগিয়ে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। জাতীয় ফুটবল দলের তপু বর্মণ ও সোহেল রানার মতো খেলোয়াড়রা মনে করেন, এটি পারফরম্যান্স ধরে রাখার জন্য ইতিবাচক চাপ তৈরি করবে। নারী খেলোয়াড়রাও এই উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত, ভবিষ্যতে আরো অন্তর্ভুক্তির আশা জানিয়েছেন তারা। যদিও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে প্রবাসী খেলোয়াড়দের জটিলতা কিংবা ডোপ পরীক্ষায় ব্যর্থতার কারণে কেউ কেউ তালিকার বাইরে রয়েছেন, তবুও সামগ্রিকভাবে এটি ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক বড় প্রাপ্তি।

দ্বিতীয় দফায় ক্রীড়া ভাতা পেলেন ১৭১ জন

ফুটবল (পুরুষ ও নারী) ৩৬, হ্নহকি (পুরুষ ও নারী) ৩৬, হ্নভলিবল ১৪, হ্নদাবা ১১, হ্নঅ্যারচ্যারি ১১, হ্নভারোত্তোলন ১০, হ্নহ্যান্ডবল ১০, হ্নজিমন্যাস্টিকস ৯, হ্নসাঁতার ৬, টেবিল টেনিস ৫, হ্নশুটিং ৫, হ্নসাইক্লিং ৪, হ্নউশু ৪, হ্নজুডো ৩, হ্নকিকবক্সিং ২, হ্নটেনিস ২, হ্নবডি বিল্ডিং ২ ও হ্নট্রায়াথলন একজন।