ধূমপান স্মৃতিশক্তি নাশেরও কারণ

Printed Edition

ধূমপান কেবল ক্যান্সারের শঙ্কা বৃদ্ধি করে তা নয়, স্মৃতিশক্তি নাশেরও কারণ হয়ে উঠতে পারে। বহুজনের উপর পরীক্ষা করে এমনই দাবি করেছেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। ধূমপানের ফলে মস্তিষ্কের কোষের ক্ষয় হয়, স্নায়ুর সঙ্কেত আদান-প্রদানের পথটি অবরুদ্ধ হয়ে যায়, এমন দাবি করেছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ও। ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নাল’-এ বিষয়টি নিয়ে লেখালেখিও হয়েছে।

সিগারেট না টানলে মাথাটা ঠিক খোলে না, এমন দাবি যারা করেন, তাদের জন্যই এই সতর্কবার্তা। ধূমপানে বুদ্ধির হাওয়াবাতাস খেলে না মোটেও, বরং উল্টোটাই হয়। বুদ্ধির গোড়ায় ধোঁয়া দিতে গিয়ে বরং স্মৃতিশক্তিটাই নষ্ট হতে পারে, তেমনই দাবি বিজ্ঞানীদের। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার প্রমাণও মিলেছে।

সিগারেটের ধোঁয়ায় নিকোটিন ছাড়াও আরো হাজার রকম রাসায়নিক থাকে। যার মধ্যে ক্যাডমিয়াম এবং ক্রোমিয়াম অন্যতম। এই সব রাসায়নিক মস্তিষ্কের বাইরের দিকের স্তর কর্টেক্সের ক্ষয় ঘটাতে থাকে। এই স্তরকেই বলে ‘গ্রে ম্যাটার’। গবেষকরা ধূমপায়ীদের মস্তিষ্কের এমআরআই করে দেখেছেন, অ-ধূমপায়ীদের তুলনায় এদের গ্রে ম্যাটারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম। গ্রে ম্যাটার মস্তিষ্কের এমন এক অংশ, যা বুদ্ধি, ভাবনাচিন্তা, সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা, কথা বলা ও বোঝা, স্মৃতি, সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করে। কাজেই এই অংশটির ক্ষয় ঘটলে, তার প্রভাব মস্তিষ্কের বাকি অংশেও পড়বে। স্মৃতিশক্তি তো কমতে থাকবেই, পাশাপাশি অন্যান্য স্নায়বিক রোগের আশঙ্কাও দেখা দেবে।

ধূমপানের ক্ষতির পরিমাণ এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। শিকাগোর গবেষকরা দেখেছেন, কার্বন মনোক্সাইড, হাইড্রোজেন সায়ানাইড, আলকাতরা, আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম, লেড সমেত অজস্র ধাতব এবং বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ থাকে সিগারেট-বিড়ির ধোঁয়ায়। সেগুলো ফুসফুসের ‘পালমোনারি নিউরোএন্ডোক্রিন’ কোষগুলোকে নষ্ট করতে থাকে। এই কোষগুলো থেকে এক্সোজোম নির্গত হয়।

এই এক্সোজোম খুবই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা এক কোষ থেকে অন্য কোষে তথ্য আদান-প্রদান করে, পুষ্টি উপাদান বয়ে নিয়ে যায়। নিকোটিন ও অন্যান্য রাসায়নিকের জেরে এই আদান-প্রদানের পথটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কোষে আয়রন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হতে থাকে। এই এক্সোজোম মস্তিষ্কেও পুষ্টি উপাদান বয়ে নিয়ে যায়। কাজেই কোষগুলোর ক্ষতি হলে মস্তিষ্কেও আয়রন এবং অন্যান্য পুষ্টির ঘাটতি হতে থাকে, যা স্মৃতিনাশের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে। ইন্টারনেট।