পার্বতীপুরে ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার প্রশিক্ষণে অনিয়ম

স্বজনপ্রীতি ও উপস্থিতি জালিয়াতিতে প্রশ্নবিদ্ধ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম

Printed Edition

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে যুব উন্নয়ন অধিদফতরের আওতাধীন ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্দেশ্য থাকলেও তা বাস্তবায়নে নানা অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী গ্রামাঞ্চলের অদক্ষ ও পিছিয়ে পড়া বেকার তরুণ-তরুণীদের কম্পিউটারের বেসিক ও নেটওয়ার্কিং বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে এ কর্মসূচি চালু করা হয়। এর অংশ হিসেবে পার্বতীপুর উপজেলায় ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করে ১ মার্চ থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রতিদিন চারটি ধাপে, প্রতি ধাপে ১০ জন করে মোট ৪০ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এর ব্যত্যয় ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একাধিক সূত্র জানায়, তালিকাভুক্তদের প্রায় অর্ধেকই নিয়মিত প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন না।

অথচ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এসএসসি ও এইচএসসি পাস অদক্ষ যুবক-যুবতীদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা থাকলেও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী এবং আগে থেকেই কম্পিউটার বিষয়ে দক্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিতি দেখা গেছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রশিক্ষণ বাসে মাত্র সাতজন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। তাদের অনেকেই স্থানীয়ভাবে পরিচিত কম্পিউটার ও মাল্টিমিডিয়া ব্যবসায়ী কিংবা এই বিষয়ে পূর্ব থেকেই দক্ষ ব্যক্তি।

এছাড়া প্রশিক্ষণার্থীদের তালিকায় যুব উন্নয়ন অধিদফতরের তিন কর্মচারীর মেয়েদের অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও উঠেছে। তারা হলেন- আব্দুল মাজেদের মেয়ে নূরে জান্নাত স্নেহা, হাফিজুল ইসলামের মেয়ে হুরে জান্নাত হামজা এবং নজরুল ইসলামের মেয়ে নাজমুন্নাহার লাবনী। অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রশিক্ষণে অনুপস্থিত থাকলেও প্রশিক্ষণ ভাতার সুবিধা নেয়ার জন্য তাদের নাম তালিকায় রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, ৪৪ কর্মদিবসের এই প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে আট হাজার ৮০০ টাকা ভাতা দেয়ার কথা রয়েছে। ফলে অনিয়মের মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলছেন স্থানীয়রা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পার্বতীপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, কর্মচারীদের মেয়েদের নাম তালিকায় থাকার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তারা বাইরে অবস্থান করায় প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারছেন না। তাই তাদের নাম বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ভাতার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সঠিক নয়।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত অদক্ষ ও বেকার যুবকদের বঞ্চিত করে প্রভাবশালীদের স্বজনদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে এ ধরনের প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।