অ্যামোনিয়া সঙ্কট

দেশের একমাত্র ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট সার কারখানা বন্ধ

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা চট্টগ্রাম

অ্যামোনিয়া সঙ্কটে বন্ধ হয়ে গেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম। শনিবার রাতে কারখানাটিতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। গত প্রায় দেড় মাস ধরে গ্যাস সঙ্কটের কারণে কাফকো ও সিইউএফএল থেকে অ্যামোনিয়ার সরবরাহ নেই। ফলে সর্বশেষ মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠার পর পার্শ্ববর্তী দুটি সার কারখানা রাষ্ট্রায়ত্ত চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) ও বহুজাহিক কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে সরবরাহ করা অ্যামোনিয়া নিয়ে ডিএপি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু গ্যাস সঙ্কটের কারণে গত ৪ মার্চ সিইউএফএল ও কাফকোতে অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দুটি কারখানা থেকে ডিএপি সার কারখানায়ও অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। গত প্রায় দেড় মাস ধরে ডিএপি সারের কাঁচামাল অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলেও এত দিন মজুদ অ্যামোনিয়া দিয়ে উৎপাদন অব্যাহত ছিল ডিএপি সার কারখানায়। কিন্তু মজুদ শেষ হওয়ায় শনিবার রাতে কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ডিএপি সার কারখানাটি নিয়ন্ত্রণ করে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। এ কারখানা দেশের কৃষি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছিল। দেশের কৃষি খাতে যৌগিক সারের (নাইট্রোজেন ও ফসফরাস সংবলিত) চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে সরকার কারখানাটি স্থাপন করে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। ওই কারখানার দুটি ইউনিটের প্রতিটিতে ৮০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে।

ডিএপি সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ মাঈনুল হক বলেন, গত ৪ মার্চ থেকে আমরা অ্যামোনিয়া পাচ্ছি না। এর পরও আগের মজুদ দিয়ে কারখানায় উৎপাদন চলে আসছিল। মজুদ শেষ হওয়ায় আপাতত উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। যখনই অ্যামোনিয়া পাওয়া যাবে, পুনরায় উৎপাদন শুরু হবে।