ইউনিসেফের কাছ থেকে টেন্ডার ছাড়া ৪২১ কোটি টাকার টিকা কেনা হচ্ছে

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

জরুরি প্রয়োজনে ইউনিসেফের কাছ থেকে ৪২১ কোটি ৪৭ লাখ টাকার টিকা কিনছে সরকার। এর মধ্যে অধিকাংশই হামের টিকা। এই টিকা ক্রয়ের প্রস্তাব একই সাথে অর্থনৈতিক ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদনও করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিজিটাল প্লাটফর্ম জুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সভা সূত্রে জানা গেছে, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি কর্তৃক ইউনিসেফ-এর মাধ্যমে ৫০% ভ্যাকসিন সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এবং অবশিষ্ট ৫০% ভ্যাকসিন উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও খোলাবাজারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভ্যাকসিন পাওয়া যায় না এবং ভেকসিনের গুণগত মান বজায় রাখা সম্ভব হয় না। এমতাবস্থায়, নারী ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে মাঠ পর্যায়ে ইপিআই কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান রাখতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কার্যক্রমে ব্যবহৃত অবশিষ্ট ৫০% ভ্যাকসিন (ভিটামিন ‘এ’ পঞ্চাস ক্যাপসুল এবং কৃমিনাশক ট্যাবলেট) উন্মুক্ত দরপত্রের পরিবর্তে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ইউনিসেফ-এর মাধ্যমে ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে।

জানা গেছে, এ বাবদ সম্ভাব্য ব্যয় সীমা ৪২১ কোটি ৪৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। ইউনিসেফ-এর মাধ্যমে ক্রয়/সংগ্রহ সব ভ্যাকসিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে এবং ক্রয়কৃত ভ্যাকসিনের ক্রয়মূল্য তুলনামূলকভাবে কম।

এ ছাড়াও সভায়, , ‘কন্সট্রাকশন অব ব্রিজ ওভার দি রিভার মেঘনা অন শরীয়তপুর-চাঁদপুর রোড’ প্রকল্পটি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে গ্রহণের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের প্রায় ৩০টি জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।

এ প্রকল্পের আওতায় ৮.০৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু (৪-লেন), উভয় পাশে ৮.৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক এবং ৯.৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীর তীর রক্ষামূলক কাজ করা হবে। প্রস্তাবিত সেতুটির মূল স্প্যান হবে ৭০০ মিটার। সম্ভাব্য সমীক্ষায় প্রকল্পটি অর্থনৈতিক দিক থেকে গ্রহণযোগ্য প্রতীয়মান হওয়ায় প্রকল্পটি পিপিপি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে।

প্রকল্পটির সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। সেতুটি চালু হওয়ার পর ২০৩২ সালে এ সেতু দিয়ে দৈনিক প্রায় ৬ হাজার ২৪২টি যানবাহন চলাচল করবে এবং ২০৬১ সালে ৪৫ হাজার ১৫০টি যানবাহন চলাচল করবে।

বৈঠকে সেতু বিভাগের আর এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ‘বরিশাল-ভোলা সড়কে কালাবাঁদর এবং তেঁতুলিয়া নদীর ওপর ভোলা ব্রিজ’ প্রকল্পটি পিপিপি ভিত্তিতে গ্রহণের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ভোলা জেলার সাথে বরিশালসহ ঢাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য প্রকল্পটি প্রহণ করা হয়।

প্রকল্পটির সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। সেতুটি চালু হওয়ার পর ২০৩৩ সালে এ সেতু দিয়ে দৈনিক প্রায় ৪ হাজার ৯৯৬টি যানবাহন চলাচল করবে এবং ২০৬২ সালে ৪১ হাজার ৮৬৫টি যানবাহন চলাচল করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৫০৭.৫ একর জমি অধিগ্রহণ এবং ইউটিলিটিজি স্থানান্তর বাবদ সব ব্যয় জিওবি খাত থেকে নির্বাহ করা হবে।

সভায় ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য অন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ইয়ার এনার্জি এজি, থেকে এক লাখ মে.টন ডিজেল, কেঅ্যান্ডআর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং কোম্পানি থেকে এক লাখ মে.টন এবং মেসার্স সিকদার ইন্টারন্যাশনাল এক লাখ মে.টনসহ মোট তিন লাখ মে.টন বিভিন্ন মানসম্পন্ন ডিজেল ক্রয়ের তিনটি পৃথক প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।