বিশ্বসংস্থা প্রধানদের যৌথ বিবৃতি

ফিলিস্তিনিদের বাঁচাতে বিশ্বকে জরুরিভিত্তিতে কাজ করতে হবে

নয়া দিগন্ত ডেস্ক
Printed Edition

ওসিএইচএ, ইউনিসেফ, ইউএনওপিএস, ইউএনআরডব্লিউএ, ডব্লিউএফপি এবং ডব্লিউএইচওর মতো বিশ্বসংস্থাগুলোর নির্বাহী প্রধানরা এক যৌথ বিবৃতিতে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বাঁচাতে বিশ্বকে জরুরিভিত্তিতে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বিবৃতিতে বলেন, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কোনো বাণিজ্যিক বা মানবিক সরবরাহ গাজায় প্রবেশ করেনি। অথচ ২১ লাখেরও বেশি মানুষ আটকা পড়েছে, বোমা বিস্ফোরণ আর হামলার মুখে তারা ক্ষুধার্ত রয়েছে। অথচ ক্রসিং পয়েন্টগুলোতে খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি এবং আশ্রয়ের সরবরাহ জমা হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম আটকে আছে। যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন, জাতিসঙ্ঘের মানবিকবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী টম ফ্লেচার, ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল, ইউএনওপিএসের নির্বাহী পরিচালক জর্জে মোরেরা দা সিলভা, ইউএনআরডব্লিউএর কমিশনার জেনারেল, ফিলিপ লাজারিনি, ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালক সিন্ডি ম্যাককেইন এবং ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক, ড. টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসাস।

যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের পর প্রথম সপ্তাহে ১ হাজারটিরও বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে বলে জানা গেছে, যা গত বছরে গাজায় শিশুদের মধ্যে এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা। মাত্র কয়েকদিন আগে যুদ্ধবিরতির সময় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহায়তায় ২৫টি বেকারি বন্ধ করতে হয়েছিল ময়দা এবং রান্নার গ্যাসের সঙ্কটের কারণে। গাজায় এখন আংশিকভাবে কার্যকরী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কোনো রকমে টিকে আছে। অত্যাবশ্যকীয় চিকিৎসা এবং ট্রমা চিকিৎসা উপকরণ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে, স্বাস্থ্যব্যবস্থা চালু রাখার ক্ষেত্রে ইসরাইলিদের হুমকি প্রধান বাধা।

বিবৃতিতে তারা বলেন, আমরা গাজায় যুদ্ধের ঘটনা প্রত্যক্ষ করছি যা মানব জীবনের প্রতি চরম অবহেলা দেখায়। নতুন ইসরাইলি বাস্তুচ্যুতির আদেশ কয়েক হাজার ফিলিস্তিনিকে আবারো পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে, অথচ যাওয়ার জন্য তাদের কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। গাজার সমস্ত ফিলিস্তিনিদের খাওয়ানোর জন্য এখন পর্যাপ্ত খাবার রয়েছে এমন দাবি বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে এবং পণ্য দ্রব্যের পরিমাণ সেখানে অত্যন্ত কম। ফলে গাজায় কেউ নিরাপদ নয়। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী সংস্থার ২৮০ জনেরও বেশি সহ কমপক্ষে ৪০৮ মানবিক কর্মী নিহত হয়েছে।

বিশ্বের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে তারা যৌথ বিবৃতিতে বলেন, গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করুন। সাহায্যের সুবিধা দিয়ে বন্দীদের মুক্তি করার সুযোগ দিতে হবে। সত্যিকার অর্থে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বাঁচাতে বিশ্বকে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। গাজার উপর কঠোর ইসরাইলি অবরোধ এখন তার দ্বিতীয় মাসে, আমরা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক নীতিগুলোকে বহাল রাখা নিশ্চিত করার জন্য- দৃঢ়ভাবে, জরুরিভাবে এবং সিদ্ধান্তমূলকভাবে কাজ করার জন্য বিশ্ব নেতাদের কাছে আবেদন করছি।