সোনালি ফসলে হাওরজুড়ে কৃষকের আনন্দের মাঝেও শঙ্কা
Printed Edition
মেহেদী হাসান ভূঁইয়া তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের হাওরজুড়ে চলছে নবান্ন উৎসব। ধানের বাম্পার ফলেনে হওয়ায় আনন্দের আমেজে চলছে তড়িঘড়ি করে ধান ঘরে তোলার ব্যস্ততা। এ ব্যস্ততা-আনন্দের মাঝেও বৈরী আবহাওয়া আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় উদ্ধেগ বাড়ছে। ছোট-বড় ২৩টি হাওরে আগাম জাতের ধান পাকতে শুরু করায় কৃষকের ঘরে শুরু হয়েছে। এ ধান পুরোপুরি ঘরে তুলতে সাত থেকে দশ দিন সময় লাগবে। এ সময়ের মধ্যে পাহাড়ি ঢল আর বৈরী আবহাওয়ায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে হাওরপাড়ের মানুষের জন্য। এ ছাড়া শ্রমিকের অভাব আর কাদামাটিতে হারভেস্টার (ধান কাটার যন্ত্র) আটকে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
সরেজমিন শনির হাওর ও মাটিয়ান হাওর ঘুরে দেখা গেছে, ব্রি-২৮ ও ব্রি-৯৬-সহ বিভিন্ন আগাম জাতের ধান কাটার উৎসবে মেতেছেন কৃষকরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজে দম ফেলার ফুসরত নেই কারো। তবে অনেক জায়গায় বৃষ্টির পানিতে নিচু জমি তলিয়ে যাওয়ায় আধা-পাকা ধান রক্ষায় মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন চাষিরা।
এ দিকে বৃষ্টির পানিতে হাওরের নিচু এলাকার জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাওয়ায় কয়েকটি হাওরের আধা-পাকা ধান তা রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন কৃষকরা। এ ছাড়াও প্রতি বছরেই কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের খড়গ নামে এক ফসলি ধানের ওপর। এর পরও বংশপরম্পরায় হাওরাঞ্চলে কৃষকরা চাষাবাদে করছেন বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় জীবন-জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন হিসেবে।
সাদেক আলীসহ অনেকে বলছেন, যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে আর ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে পাহাড়ি ঢল না আসে আর ফসল রক্ষা বাঁধ ঠিলে থাকে তা হলে ঘাম ঝরানো সোনালি ফসল ঘরে তুলতে পারবে। না হলে আনন্দের মৌসুমেই, কান্নার রোল পড়তে পারে হাওরাঞ্চলের হাজারো কৃষক পরিবারের।
কৃষকদের প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ফসল রক্ষা বাঁধের স্থায়িত্ব। শনির হাওরের কৃষক শফিক মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু বাঁধ নিয়ে চিন্তায় আছি। অনিয়মের কারণে অনেক বাঁধ দুর্বল। ঢল নামলে সব পরিশ্রম বিফলে যাবে। স্থানীয়দের দাবি, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হলেও প্রতি বছরই কাজে দেরি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এবারো সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় শঙ্কা কাটছে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলন হয়েছে। উপজেলায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ধান উৎপাদিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেলেই যেন দ্রুত কেটে ফেলেন। মাঠপর্যায়ে আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছি। প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই সোনালি ফসল কৃষকের গোলায় উঠবে; অন্যথায় ফসলের এ আনন্দ মুহূর্তেই কান্নায় রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন হাওরবাসী।