বজ্রপাতে ৫ জেলায় ১১ জন নিহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে বজ্রপাতে গতকাল ১১ জন নিহত হয়েছেন।
Printed Edition
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে বজ্রপাতে গতকাল ১১ জন নিহত হয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রোববার বিকেলে জেলার নাসিরনগর ও আখাউড়ায় উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সরাইলের কালিকচ্ছ গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক, নাসিরগরের গোর্কণ গ্রামের শামসুল হুদা, ভলাকুট ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের জাকিয়া বেগম, আখাউড়া উপজেলার রুটি গ্রামের সেলিম মিয়া, বনগজ গ্রামের জামির খাঁ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বিকেলে নাসিরনগরের টেকানগর গ্রামে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাস্থলে মারা যান। এ ছাড়া উপজেলার গোকর্ণ গ্রামের বেড়িবাঁধ এলাকায় ফসলি মাঠে কাজ করার সময় শামসুল হুদা নামে এক কৃষক বজ্রপাতে মারা যায়। এ ছাড়া ভলাকুট ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে এসে বিকেলে শিশুদের খেলা করার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে এক শিশু ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
এ দিকে আখাউড়া উপজেলার বনগজ গ্রামে ধান কাটার মেশিন নিয়ে মাঠে যাওয়ার সময় জামির খাঁ এবং রুটি গ্রামে নিজ ধানিজমিতে কাজ করার সময় সেলিম মিয়া বজ্রপাতে নিহত হন।
আখাউড়া ও নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পাঁচজন মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে খোঁজখবর নেয়া হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, কিশোরগঞ্জে এক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন আরো একজন। গতকাল রোববার বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে ভৈরব, কুলিয়ারচর ও হোসেনপুর উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর গ্রামের ইউনুস মিয়ার ছেলে ফয়সাল মিয়া (২৮), একই উপজেলার রসুলপুর গ্রামের আফছর উদ্দিন মিয়ার ছেলে ফারুক মিয়া (৬৫) এবং কুলিয়ারচর উপজেলার হাজারিনগর গ্রামের সফিকুল ইসলাম সফু মিয়ার ছেলে কবির মিয়া (২৫)। আহত হয়েছেন হোসেনপুর উপজেলার আড়াইবাড়িয়া গ্রামের আবু বকর (৬০)। স্থানীয়রা জানান, বেলা ৩টা থেকে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। আগে থেকেই জমিতে কাজ করছিলেন ওই তিন কৃষক। বজ্রপাতে তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অন্য দিকে হোসেনপুর উপজেলার কুড়িঘাটে এলাকায় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন আড়াইবাড়িয়া গ্রামের আবু বকর। স্থানীয়রা তাকে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তিনি বর্তমানে কিছুটা সুস্থ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কর্মকর্তা ডা: তানভীর হাসান জিকো।
নওগাঁর মান্দায় কৃষক নিহত
মান্দা (নওগাঁ) সংবাদদাতা জানান, নওগাঁর মান্দায় বজ্রপাতের ঘটনায় এক কৃষক নিহত ও আরেক কৃষক আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার বিকেল ৪টার দিকে মাঠে শুকানো ধান জড়াতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন তারা।
নিহত কৃষকের নাম জিল্লুর রহমান (৪০)। তিনি কুসুম্বা ইউনিয়নের কুসুম্বা দিয়াড়াপাড়া গ্রামের মৃত আয়েশ উদ্দিনের ছেলে। বজ্রপাতে আহত শফিকুল ইসলাম একই পাড়ার বাসিন্দা। স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, বিকেলে আকাশে মেঘ দেখে কৃষক জিল্লুর রহমান লোকজন নিয়ে মাঠে শুকানো ধান জড়িয়ে রাখার জন্য যান। হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
এ সময় পাশের জমিতে থাকা অপর কৃষক শফিকুল ইসলাম আহত হন। তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কুসুম্বা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওফেল আলী মণ্ডল বজ্রপাতে কৃষক নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : ধান কাটার সময় বিকেলে সদর উপজেলার বুলনপুর গ্রামে বজ্রপাতে মো: কাইমুল (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ : বিকেল ৫টার দিকে জেলার আজমিরীগঞ্জে ড্রেনে গোসল করার সময় বজ্রপাতে সাজু মিয়া (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের ডেমিকান্দি গ্রামের তজম আলী মিয়ার ছেলে।