জব্দ করা হেরোইন ম্যানেজের মাধ্যমে হয়ে যায় আটা-ময়দা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, যথাযথ পরীক্ষার অভাবে জব্দ করা হেরোইন ম্যানেজ হয়ে আটা-ময়দা হয়ে যায়। মাদকের এত বেশি মামলা যে এটা কি আটা, ময়দা, হেরোইন না পাউডার- কিছুই পরীক্ষা করার কায়দা থাকে না। দিন শেষে কিভাবে ম্যানেজ হয়ে হেরোইন পাউডার হয়ে যায় আটা-ময়দা। সে জন্য প্রতিটি জেলায় একটা উন্নত ল্যাবরেটরি স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
গত শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, শুধু ঢাকাতে ৮০ হাজার মাদকের মামলা ঝুলে রয়েছে। যদি বিচারক সর্বোচ্চ ১০ হাজার মামলা ডিল করেন, তাহলে তাকে চার থেকে ছয় মাস পরপর দিন দিতে হবে, তারিখ দিতে হবে। তখন ৮০ হাজার মামলা কিভাবে ডিল হবে? প্রথম আইনের মধ্যে লেখা ছিল, সেখানে ট্রাইব্যুনাল করার একটা বিধান থাকবে। পরে সেটা সংশোধিত হয়েছে। বলছে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে মামলা হবে। সে অনুযায়ী মাদকের পরিমাণের ওপর, অপরাধের সাজার ওপর ভিত্তি করে যার যেটুকু দণ্ড আছে সেই হিসেবে আদালত নির্ধারিত হয়ে সেই আদালতে মামলা হয়। আমরা এখন যেই সংশোধনী প্রস্তাব করেছি, তাতে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত থাকবে, পাশাপাশি মামলার সংখ্যা বিবেচনায় আমরা যেখানে প্রয়োজন মনে করব, সরকার মনে করবে, সেখানে ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হবে। মন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সদস্যরা লড়াই করেন সশস্ত্র মাদককারবারি বা পাচারকারীদের সাথে। তারা গুলিবিদ্ধ হচ্ছেন। সেজন্য আমরা আইন করছি, তাদের আধুনিক অস্ত্র ৯ এমএম পিস্তল দেয়া হবে। যাতে লড়াই করতে পারে একটা স্বতন্ত্র সংস্থা হিসেবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘রাষ্ট্র চলে আইনকানুন দিয়ে, আইনের ভিত্তি দিয়ে। এখন আইন নাই, আমরা অপরাধীকে কিভাবে সাজা দেবো? আদালত কিভাবে বিচার করবে? আমাদের অফিসাররা কিভাবে গ্রেফতার করবে? বর্তমান যুগের আধুনিক ও ডিজিটাল অপরাধ মোকাবেলা করার জন্য আমাদের এখনো বহু পুরনো আইনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। জুয়া, অনলাইন জুয়া ও সাইবার স্পেসের মাধ্যমে যে সব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, তা প্রতিরোধ করার জন্য এখনো ১৮৬৭ সালের জুয়া প্রতিরোধ আইন ব্যবহৃত হচ্ছে, যা বর্তমান ডিজিটাল বাস্তবতার সাথে একেবারেই অসঙ্গতিপূর্ণ। এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং প্রস্তাবিত সংস্কারের কথা উঠে এসেছে। তা হলো সাইবার স্পেসে নাম-পরিচয় গোপন করে একটিমাত্র সিম ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাপ চালুর মাধ্যমে ওটিপি ব্যবহার করে অবৈধ আর্থিক লেনদেন করা হচ্ছে, যা পরে সহজে ট্র্যাক করা সম্ভব হয় না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দিয়ে যে মানি লন্ডারিং হচ্ছে, তা দিয়ে তৈরি করা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য আরো কঠোর আইনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। উত্তরের মতো সীমান্ত এলাকায় কিটামিনের মতো তরল মাদককে পাউডারে রূপান্তর করার ল্যাবরেটরি পর্যন্ত গড়ে উঠেছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এই বাজেট অধিবেশনে বা পরবর্তি সময়ে সাইবার আইন ও অন্যান্য বাহিনী-সংক্রান্ত আইনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। অপরাধ দমনে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য এলিট ফোর্সকেও আইনি কাঠামোর আওতায় সংস্কার করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া বর্ডারে কাউকে এনে পুশ-ইন করিয়ে দেয়া কোনো যথাযথ বা আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া নয়। বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে দেশের সীমান্তে একজনকেও অবৈধভাবে পুশইন হতে দেয়া হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদি ভারতের কাছে এমন কোনো বাংলাদেশী নাগরিকের তালিকা থাকে যারা সে দেশে অবৈধভাবে অবস্থান করছে, তবে তারা কূটনৈতিক বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা সরবরাহ করতে পারে। বাংলাদেশ সরকার নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাদের জাতীয়তা যাচাই (ন্যাশনালিটি ভেরিফিকেশন) করবে এবং সত্যতা সাপেক্ষে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের ফেরত নিয়ে আসবে। তিনি বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় ১০ হাজার মানুষকে পুশব্যাকের যে দাবি করা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা বা দালিলিক পরিসংখ্যান বাংলাদেশ সরকারের কাছে নেই। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ হিসেবে সীমান্তে এ ধরনের তৎপরতা প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে মন্ত্রী মন্তব্য করেন।
শহীদ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের অসম্পন্ন তদন্তকাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যকার অপরাধী প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি মোতাবেক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আইনি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) সহকারে আসামিদের ফেরত পাওয়ার আবেদন ইতোমধ্যে পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ পক্ষ আসামীদের দ্রুত হস্তান্তরের বিষয়ে আশাবাদী।