বরাদ্দ অপ্রতুল, আরো ২ বছর মেয়াদ বাড়ছে

‘‘বিভিন্ন কারণে প্রকল্পটি দেরি হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো জুনে এই প্রকল্প সমাপ্ত করা সম্ভব হবে না। তাই আমরা মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনের কাছে পাঠিয়েছি।’’

হামিদুল ইসলাম সরকার
Printed Edition
Telecom

গ্রামে টেলিটক নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন

  • অনুমোদনের ৬ মাস পর প্রকল্পের কাজ শুরু হয়
  • ১ হাজার ২৮৮ কোটির বিপরীতে বরাদ্দ ২৯৩ কোটি টাকা
  • ২ বছরের প্রকল্প এখন ৬ বছরে গড়াচ্ছে

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেয়া পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রকল্পগুলো এখন সমাপ্ত করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্রাম পর্যায়ে টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ৫জি সেবা প্রদানে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে দুই হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নেয়া প্রকল্পটি তারা শেষ করতে পারেনি। ওই সরকারের দেয়া অতি কম বরাদ্দের কারণে প্রকল্পটি চলতি অর্থবছরের জুনে শেষ হচ্ছে না। এক হাজার ২৮৮ কোটি টাকার বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ২৯৩ কোটি টাকা। ফলে প্রকল্পটি সমাপ্ত করার জন্য এখন আরো দুই বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালে উন্নীত করা হচ্ছে। অন্যদিকে অনুমোদনের পর প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শুরু করতে ছয় মাস বিলম্ব হয়েছে বলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে। এই সময় বাড়ানোর প্রস্তাবনা এখন পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগে রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ থেকে জানা গেছে, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতাধীন টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘গ্রাম পর্যায়ে টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ৫জি সেবা প্রদানে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের অনুমোদন সংক্রান্ত প্রশাসনিক আদেশ জারি হয় ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর। পরবর্তীতে বিবিধ প্রক্রিয়া শেষে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ হয় ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি। ফলে অনুমোদিত তারিখের প্রায় ৬ (ছয়) মাস পর প্রকৃতপক্ষে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাজ শুরু করা হয়। অনুমোদন পর্যায়ে প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ছিল জুলাই ২০২১ থেকে জুন ২০২৩ পর্যন্ত। পরবর্তীতে আইএমইডির সুপারিশের আলোকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ হতে এক বছর এবং পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক আরো এক বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রকল্পটির সর্বশেষ অনুমোদিত বাস্তবায়নকাল ২০২৫ সালের ৩০ জুন।

এদিকে, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সমাপ্য প্রকল্পের তালিকা হতে জিওবি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘গ্রাম পর্যায়ে টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ৫জি সেবা প্রদানে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাদ দেয়া হচ্ছে। কারণ প্রকল্পটি ২০২৫ সালের জুনে সমাপ্তির জন্য অর্থবছরে প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে মাত্র ২৯৩ কোটি টাকা। যেখানে চাওয়া হয়েছে এক হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে এতে করে নির্ধারিত সময় অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩০ জুন প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ সমাপ্ত করা সম্ভব হবে না। সার্বিক বিবেচনায় ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ আরো দুই বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব গত ১২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখ আইএমইডিতে পাঠানো হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সমাপ্য প্রকল্পের তালিকা হতে আলোচা প্রকল্পটি বাদ দেয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য টেলিটক বাংলাদেশকে এক চিঠি দিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মোকলেছুর রহমান।

প্রকল্পের ডিপিডি থেকে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অনুমোদিত মোট খরচ ধরা হয় দুই হাজার ২০৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে দুই হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। বাকি ৬০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা টেলিটকের নিজের। ২০২৩ সালের নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন লক্ষ্য ধরা হয়। প্রকল্পের আওতায় কাজগুলো হলো, নতুন তিন হাজার বিটিএস সাইট তৈরি করা, গ্রাহকসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিদ্যমান দুই হাজার থ্রিজি বা ফোরজি মোবাইল বিটিএস সাইটের যন্ত্রপাতিগুলোর ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করা, বিদ্যমান ২০০ মোবাইল বিটিএস প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে সাইটগুলোর আধুনিকায়ন, বিদ্যমান এক হাজার টুজি বা থ্রিজি মোবাইল বিটিএস সাইটে ফোরজি বিটিএস সংযোজন রয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক মো: নিজাম উদ্দিনের সাথে প্রকল্পের ব্যাপারে গতকাল মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে প্রকল্পটি দেরি হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো জুনে এই প্রকল্প সমাপ্ত করা সম্ভব হবে না। তাই আমরা মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনের কাছে পাঠিয়েছি। দু’বছর মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আমরা বলেছি। তাদের ওপর নির্ভর করছে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো। আমরা সে অপেক্ষায় আছি।