পাহাড়ের বাহারি ফলে উৎসবমুখর বেইলি রোড
Printed Edition
সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
পাহাড়ের বাহারি ফলে উৎসবমুখর এখন রাজধানীর বেইলি রোড। পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া তিন দিনের এ মেলা শেষ হবে আগামীকাল। ‘পাহাড়ি ফলের ঘ্রাণ, বৈচিত্র্যময় প্রাণ’-প্রতিপাদ্যে গতকাল থেকে শুরু এই মেলার আয়োজক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।
মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো রাজধানীবাসীকে পাহাড়ের বিষমুক্ত বৈচিত্র্যময় ফলের সাথে পরিচয় করানো এবং পাহাড়ি কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করা।
মেলার শুরুর দিন গতকাল সকাল ১০টায় এর উদ্বোধন করেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
মেলার বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি এই তিন পার্বত্য জেলার মোট ৩০টি স্টল অংশ নিয়েছে। এতে কেমিক্যালমুক্ত ও টাটকা আম, আনারস, কাঁঠাল, কলার পাশাপাশি দুর্লভ বুনো রক্তফল (রসকো), রাম্বুটান ও বুনো বেলের মতো বাহারি ফল পাওয়া যাচ্ছে। রয়েছে পাহাড়ের স্থানীয় কৃষিপণ্য, কোমর তাঁতের কাপড় এবং ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের সমাহার। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকছে।
মেলায় স্থান পেয়েছে দুর্লভ ও অপ্রচলিত পাহাড়ি ফলবুনো রক্তফল রসকো। আর মেলাটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো টক-মিষ্টি স্বাদের লাল রঙের বিরল পাহাড়ি ফল রাম্বুটান। লিচুর মতো দেখতে ওপরটা লোমশ ও ভেতরে মিষ্টি স্বাদের একটি বিদেশী জাতের ফল, যা এখন পাহাড়ে চাষ হচ্ছে। অন্য দিকে বুনো বেল জাতের ফল সাধারণ বেলের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন আকৃতির ও স্বাদের বুনো জাতের। পাহাড়ের গভীর বনের এক ধরনের ঐতিহ্যবাহী টকমিষ্টি ফল।
এ ছাড়া স্থান পেয়েছে পাহাড়ের রাসায়নিকমুক্ত তাজা আম। রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের বিখ্যাত সুমিষ্ট আনারস, কাঁঠাল। পাহাড়ি বাংলা কলা, চম্পা কলাসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর জাতের কলা। পাহাড়ের স্থানীয় বাগানে উৎপাদিত তাজা লিচু।
মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, সরকার শুধু এই তিনটি পার্বত্য জেলার জন্য প্রতি বছর প্রায় ৫৩০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করেছে। সেই হিসাবে ১০ বছরে ৫ হাজার ৩০০ কোটি এবং ২০ বছরে প্রায় ১০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। উন্নয়ন না হওয়ার মূল কারণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তিন পার্বত্য জেলায় ১,০৭৪টি প্রকল্প (স্কিম) রয়েছে। এক বছরে এতগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। পাহাড়ের কৃষিজাত পণ্য সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি উপজেলায় পরিবেশবান্ধব ‘ইকো-ফ্রেন্ডলি মিনি কোল্ডস্টোরেজ’ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি বলেন, থাইল্যান্ডের বা এ ধরনের দেশের মতো উদ্বৃত্ত ফলকে ড্রাই ফ্রুটস বা শুষ্ক ফলে প্রক্রিয়াজাত করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিপণনের উদ্যোগ নেয়া হবে। ইকোট্যুরিজম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য এবং স্থানীয় রীতিনীতি, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি অক্ষুণœ রেখে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে ইকোট্যুরিজম উন্নয়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পার্বত্যবাসীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, বান্দরবান পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য সাচিং প্রু এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মার্মা।