কচুরিপানায় নাব্যতা হারিয়েছে ভারানী খাল

Printed Edition
bangla-1
কচুরিপানায় ভরে আছে ভারানি খাল : নয়া দিগন্ত

কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার ১ নম্বর চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বানাই তফছেরের খেয়াঘাট থেকে বানাই বাজার পর্যন্ত খালটি এখন কচুরিপানায় ভরাট হয় মরাখালে পরিণত হয়েছে। কচুরিপাায় ভরে থাকায় খালটি নাব্যতা হারিয়েছে, দূষিত হয়ে গেছে খালের পানি। ফলে এই পানি মানুষের নিত্য ব্যবহারে কোনো কাজে আসছে না।

খালটি একসময় এলাকার কৃষকের সেচ সঙ্কট মোকাবেলা করত। খালটি বাকের খালের তফছেরের খেয়াঘাট থেকে শুরু হয়ে বানাই বাজারসংলগ্ন পোনা নদীতে গিয়ে মিশেছে। এক সময় এ খাল দিয়ে অসংখ্য নৌকা ও ট্রলার চলাচল করত। বর্তমানে খালটি কচুরিপানায় ভরে গিয়ে সম্পূর্ণ হয়ে পড়েছে।

বানাই গ্রামের কৃষক আবদুল জলিল জানান, আগে ভালো পানি ছিল গোসলসহ গৃহস্থলির সব কাজ এই খালের পানিতে হতো। এখন গোসল তো দূরের কথা গবাদিপশুর গোসলেরও পানি নেই।

এ গ্রামের গৃহবধূ ফাতেমা বেগম জানান, শুকনো মৌসুমে বাড়ির পুকুরে পানি থাকে না। তাই গোসল ও রান্নার কাজে এই খালের পানিই ছিল একমাত্র ভরসা। কচুরিপানায় খাল ভরে যাওয়ায় এই পানি এখন আর ব্যবহার করা যায় না।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নাসির উদ্দিন লিটন জানান, এলাকায় লবণাক্ততার কারণে গভীর নলকূপ কার্যকর হয় না। ফলে বিশুদ্ধ পানির অভাব এখানকার মানুষের সব সময় লেগেই থাকে। গ্রামের মধ্য থেকে একটি মাত্র খাল, সেটিও কচুরিপানার কারণে এর পানি দূষিত হয়ে গেছে। খালের পানি ব্যবহারের উপযোগী করা গেলে আমাদেরই উপকারে লাগত। তিনি বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

খালের পূর্ব মাথায় বেড়িবাঁধের সøুইসগেট এবং পশ্চিম মাথায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় কচুরিপানা কোথাও বের হতে পারছে না। এলাকাবাসীর দাবি কচুরিপানা অপসারণ করে খালের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা উচিত।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মকবুল হোসেন জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।