গত বছরের চেয়ে এবার কোরবানির পশুর মজুদ ও চাহিদা দুটোই কম
Printed Edition
- সবচেয়ে বেশি পশু রাজশাহী বিভাগে, কম সিলেটে
- কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু মজুদ ১,২৪,৪৭,৩৩৭, চাহিদা ১,০৩,৭৯,২০২টি
আসন্ন কোরবানি ঈদে গবাদিপশুর সম্ভাব্য সর্বোচ্চ চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে এক কোটি তিন লাখ ৭৯ হাজার ২০২টি। বিপরীতে এবার কোরবানিযোগ্য পশুর প্রাপ্যতা রয়েছে এক কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি। এ হিসাবে এ বছর কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু উদ্বৃত্ত থাকার কথা ২০ লাখ ৬৮ হাজার ১৩৫টি। তবে, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের হিসাব বলছে, গত বছরের চেয়ে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা ও প্রাপ্যতা উভয়ই কমেছে। গত বছর (২০২৪) দেশে কোরবানি উপলক্ষে গবাদিপশু মজুদ ছিল এক কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৬৭টি। এরমধ্যে এক কোটি ছয় লাখ ২১ হাজার ২২৮ গবাদিপশু বিক্রি হয়েছে। অবিক্রীত থেকে যায় ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৩৯টি পশু। অর্থাৎ এবার কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু মজুদ গতবারের চেয়ে কমেছে পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার ৩০টি। অন্য দিকে সম্ভাব্য চাহিদাও কমেছে দুই লাখ ৪২ হাজার ২৬টি। গত বছরের চেয়ে এবার কোরবানির পশুর মজুদ ও চাহিদা দুটোই কমের বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা: আবু সুফিয়ান জানান, মাঠের তথ্যের ভিত্তিতে প্রাপ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে কমবেশি বিষয় না। চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত বেশি থাকছে।
এ দিকে গতকাল রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, কোরবানির প্রস্তুতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক ছিল। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আন্তঃসীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় গবাদিপশুর অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিজিবি,বাংলাদেশ পুলিশ, কোস্টগার্ড, জেলা প্রশাসন, জেলা প্রাণিসম্পদ দফতর সমন্বিতভাবে কাজ করবে। আজকের পর থেকে গবাদিপশুর অবৈধ অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোরভাবে আইনি পদক্ষেপ নেবে। এ সময় উপদেষ্টা জানান, মিয়ানমার থেকে কক্সবাজার দিয়ে গরু আসার তথ্য পেয়েছি। তবে, এটা বন্ধের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কোরবানির পশু সরবরাহের জন্য উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া ট্রেন ও নৌপথে পশু সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রাণিকল্যাণ আইন-২০১৯ মেনে চলতে হবে।
পশুবাহী ট্রাক ছিনতাইরোধে ব্যবস্থা
ফরিদা আখতার জানান, কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ছিনতাইরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে পশু পরিবহন নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশ, জেলা প্রশাসন, জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের যৌথ সহযোগিতা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (হটলাইন ১৬৩৫৮) চালু থাকবে। যেকোনো সমস্যা সমাধানে ফোন করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, মহাসড়কে বা যেখানে হাট বসালে যান চলাচল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে- এমন কিছু যাতে না হয় এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট জেলা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হবে। জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে উপজেলা ও জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের সাথে যোগাযোগ করে কাজ করবে। সড়ক বা সেতুতে কোরবানির পশুবাহী গাড়িকে প্রাধান্য দেয়াসহ যাতে রাস্তায় পশু আটকে কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি না করা হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সবচেয়ে বেশি পশু রাজশাহী বিভাগে, কম সিলেটে : গরুসহ কোরবানিযোগ্য পশুর সবচেয়ে বেশি মজুদ রয়েছে রাজশাহী বিভাগে। আর সবচেয়ে কম রয়েছে সিলেট বিভাগে। রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় মোট গবাদিপশুর প্রাপ্যতা রয়েছে ৪৩ লাখ ৪৪ হাজার ৪৯টি। আর সিলেটে তিন রাখ আট হাজার ৫১৫টি পশু। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে গবাদিপশুর মজুদ রয়েছে ১৩ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৭টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪টি, খুলনা বিভাগে ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৮টি, বরিশাল বিভাগে চার লাখ ৫৯ হাজার ৮৪৮টি, রংপুর বিভাগে ১৯ লাখ ৮০ হাজার ৪১৩টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচ লাখ ৭৩ হাজার ২৯৩টি।
চাহিদা ও ঘাটতি দুটোই ঢাকা বিভাগে
প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের (ডিএলএস) তথ্য বলছে, প্রতি বছরের মতো এবার গবাদিপশুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে গবাদিপশু এনে চাহিদা পূরণ করতে হবে এই বিভাগের মানুষকে। ডিএলএস বলছে, ঢাকা বিভাগে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ২২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৮৫টি। দেশের অন্যান্য বিভাগে যেখানে উদ্বৃত্ত রয়েছে, সেখানে আট লাখ ৬৫ হাজার ১১৮টি গবাদিপশুর ঘাটতি রয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে ২৭ হাজার ৪৬৫টি, রাজশাহী বিভাগে ১৬ লাখ ৮৯ হাজার ২৬৬টি, খুলনা বিভাগে তিন লাখ ৮৭ হাজার ৮৮৯টি, বরিশাল বিভাগে ৬৫ হাজার ২৯৬টি, সিলেট বিভাগে ৩৭ হাজার ৩৮টি, রংপুর বিভাগে পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার ২৬৭টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে এক লাখ ৫৮ হাজার ৩২টি কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু উদ্বৃত্ত থাকবে। যেগুলো ঢাকা বিভাগে নিয়ে বিক্রি করতে হবে। এর বড় একটি অংশ প্রতি বছরই অবিক্রীত থেকে যায়।
গরু-মহিষের চেয়ে ছাগল-ভেড়া বেশি
দেশে মোট খামারির সংখ্যা আট লাখ ৮৭ হাজার ৫৪৪টি। এসব খামারে মোট এক কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু রয়েছে। কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর মধ্যে গরু ও মহিষের সংখ্যা ৫৬ লাখ দুই হাজার ৯০৫টি। আর ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যা ৬৮ লাখ ৩৮ হাজার ৯২০টি। অন্যান্য কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা পাঁচ হাজার ৫১২টি।