নারায়ণগঞ্জে খেয়াঘাটের দরপত্র নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ৬
Printed Edition
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ও ফতুল্লা সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী খেয়াঘাটের ইজারার দরপত্র (টেন্ডার) জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ সংঘর্ষে এনসিপির জেলা নেতা ও জামায়াত কর্মীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ছিল বক্তাবলী খেয়াঘাটের ইজারার দরপত্র জমা দেয়ার নির্ধারিত দিন। সকালে দরপত্র জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটুর অনুসারী এবং বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ এলাকায় অবস্থান নেন। বেলা ১টার দিকে জামায়াত ও এনসিপি কর্মীরা দরপত্র জমা দিতে গেলে বিএনপি কর্মীদের বাধার মুখে পড়েন।
বাধার প্রতিবাদ জানালে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধানের নেতৃত্বে একদল কর্মী জামায়াত ও এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা চালায়। এতে এনসিপির জেলা সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদ ও ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু বকর মারধরের শিকার হন। এর কিছুক্ষণ পর এনসিপি কর্মীরা সংগঠিত হয়ে ফিরে এলে আড়াইটার দিকে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় উপজেলা চত্বর। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপির জেলা সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদ, জামায়াত কর্মী সাইফুল ও মোখলেসসহ আরও তিনজন। আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবু বকর অভিযোগ করেন, ‘বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম, হালিম ও যুবদল নেতা আবুল খায়েরের নেতৃত্বে আমাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। বাধার কারণে আমাদের অনুসারীরা দরপত্র জমা দিতে পারেনি।’
ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘আমরা সমঝোতার মাধ্যমে ব্যবসা করার কথা বলেছিলাম, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। এটি একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা, যা আলোচনা করে সমাধান করা যেত।’ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন জানান, দরপত্র জমা দেয়া নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হয়েছিল, তবে পুলিশ দ্রুত তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বড় কোনো সংঘর্ষ হয়নি এবং সুষ্ঠুভাবেই দরপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।