মাঠে বিদায়ী সম্মাননা রুবেলের
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন রুবেল হোসেন। বাংলাদেশ দলের সাবেক এই পেসারকে বিদায়ী সম্মাননা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কথা অনুযায়ী গতকাল রুবেলকে সম্মানিত করল বিসিবি। সতীর্থদের কাছ থেকে ভালোবাসা আর ক্রিকেট বোর্ডের আনুষ্ঠানিক সম্মান পেয়ে রুবেল হোসেন ছুটলেন মিরপুরের বাইশ গজের দিকে। পুত্রকে পাশে নিয়ে পিচের মাটি স্পর্শ করে নিলেন। অন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেয়া পেসার রুবেল হোসেন বিশেষ সম্মাননা পেয়ে বললেন, তিনি গর্বিত ও কৃতজ্ঞ।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস হেরে আগে ফিল্ডিং করতে নামে বাংলাদেশ। ম্যাচ শুরুর আগে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই দলের ক্রিকেটারদের সামনে রুবেলকে মাঠেই সম্মাননা দেয়া হয়। এ পেসারের হাতে ক্রেস্ট এবং ফুল তুলে দেয়া হয়। এ সময় তামিম ইকবালসহ বিসিবির একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সম্মাননা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রুবেল। কোচ, সতীর্থ, পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রুবেল বলেন, আসসালামু আলাইকুম! শুরুতেই বলতে চাই, আমি অবসর নেয়ার পর বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ভাই আমার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন রুবেল আমরা তোকে সম্মানিত করতে চাই। এই বিষয়টা ছিল গর্বের এবং আনন্দের। আজকে আমাকে যেভাবে সম্মানিত করল এ জন্য বিসিবি এবং তামিম ভাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
পেসার হান্ট প্রতিযোগিতা দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে ওঠে আসা রুবেল নিজের উত্থানের পেছনে কোচ সারোয়ার ইমরানের অবদানের কথা স্মরণ করেন, একটি মানুষের কথা না বললেই নয় আমার আজকের রুবেল হোসেন হওয়ার পিছনে যে মানুষটার অবদান আমার কাছে অন্যরকম। আমাকে পেসার হান্ট থেকে নিয়ে এসে যে মানুষটা আমাকে উপরে ওঠার সিঁড়ি ধরিয়ে দিয়েছে তিনি আমার প্রিয় কোচ আমার শ্রদ্ধেয় সারোয়ার ইমরান স্যার। স্যারের প্রতি আমি সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকব এবং স্যারের জন্য আমি ভবিষ্যতে শুভকামনা এবং তার সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
তিনি আরো বলেন, আমি গ্রাউন্ডসম্যান থেকে শুরু করে সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার বাবা মা আমাকে উৎসাহ দিয়েছিলেন। তাদের খুব মিস করছি। এ ছাড়া খারাপ সময়ে যারা আমার পাশে ছিলেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
বাংলাদেশ দলের হয়ে রুবেল শেষ ম্যাচ খেলেছেন ২০২১ সালের ১ এপ্রিল নিউজিল্যান্ড সফরে। ৫ বছরের বেশি সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলেন তিনি। তবে ঘরোয়া ক্রিকেট চালিয়ে যাবেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে ২০০৯ সালের ১৪ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করেন রুবেল। সে বছরের জুন এবং জুলাইয়ে টি-২০ ও টেস্ট অভিষেক হয় তার। জাতীয় দলের হয়ে ২৭ টেস্ট, ১০৪ ওয়ানডে এবং ২৮ টি-২০ খেলেছেন। তিন সংস্করণে রুবেলের শিকার ১৯৩ উইকেট। বাংলাদেশের বেশ কিছু স্মরণীয় জয়ের নায়ক তিনি। এর মধ্যে ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ অন্যতম। সে ম্যাচে শেষ দিকে ইংলিশদের ২ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেন রুবেল।