আগামীর প্রত্যাশিত বাংলাদেশ

Printed Edition
year-4
আগামীর প্রত্যাশিত বাংলাদেশ

ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান

স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে- এমন প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু বাস্তবে তার বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির ফলে সমাজে দিনের পর দিন বৈষম্য বেড়েছে। গত ১৫ বছরে দুর্নীতি ও অসাম্যের পরিমাণ বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। সীমাহীন লুটপাট ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণœ হয়েছে অতিমাত্রায়। ফলে সামাজিক ন্যায়পরায়ণতা ও আদর্শের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি প্রশ্নবোধক চিহ্নের মুখোমুখি। এ অবস্থা থেকে নিস্তার পেতেই হবে। জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি। চব্বিশের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর এ দাবি আরো জোরালো হয়েছে। সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক চাপ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও বিভিন্ন দাবির মুখে অসহায় হয়ে পড়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তাদের পক্ষে জনগণের নৈতিক সব দাবি পূরণ করা সম্ভব হয়নি। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারকে সে দায়িত্ব নিতে হবে।

বছর ঘুরে আবার বছর আসে। প্রকৃতির নিয়মে। রাত শেষে দিনের আলোয় আলোকিত হয় পৃথিবী। গ্লানি, অপ্রাপ্তি দূর করে প্রাপ্তির আশায় মানুষ কাতর হয়। মনে জাগে, ‘মুক্তিরও মন্দিরও সোপানো তলে/কত প্রাণ হলো বলিদান/লেখা আছে অশ্রুজলে’। এই অবিনাশী গান আমাদের পথ দেখায়। সুন্দর ও সত্য বুননে উজ্জ্বীবিত করে। পৃথিবীর উষালগ্ন থেকে শাশ^ত আলোর পথ খোঁজে ফেরে তার পথিকরা। এ যেন এক চক্রাকার। ভয়, সঙ্কীর্ণতাকে দূর করতে মরিয়া মানবজীবন। কিন্তু তাতে বাঁধ সাধে নিয়তি। কখনো কখনো মানবসৃষ্ট সমস্যা। রাজনৈতিক ব্যবস্থায় মানুষের দুর্ভোগ। ‘জোর যার মুল্লুক তার’- অপনীতিতে মানুষের মৌলিক অধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়। মানুষ হতাশার রাজ্যে বিচরণ করে। কিন্তু বছর শেষে নতুন বছরের আগমনে মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়। এ যেন নতুনরূপে নিজেকে গোছানোর মায়াভ্রম। রবীন্দ্রনাথ পোস্টমাস্টার গল্পে সে সত্যই উদঘাটন করেছেন সাহিত্যিক ভাষায়- ‘হায় বুদ্ধিহীন মানবহৃদয়! ভ্রান্তি কিছুতেই ঘোচে না, যুক্তিশাস্ত্রের বিধান বহুবিলম্বে মাথায় প্রবেশ করে, প্রবল প্রমাণকেও অবিশ্বাস করিয়া মিথ্যা আশাকে দুই বাহুপাশে বাঁধিয়া বুকের ভেতরে প্রাণপণে জড়াইয়া ধরা যায়, অবশেষে একদিন সমস্ত নাড়ী কাটিয়া হৃদয়ের রক্ত শুষিয়া সে পলায়ন করে, তখন চেতনা হয় এবং দ্বিতীয় ভ্রান্তিপাশে পড়িবার জন্য চিত্ত ব্যাকুল হইয়া উঠে। তবুও মানুষ স্বপ্ন দেখে। আগামীর নতুন সূর্যের প্রত্যাশা করে। বর্তমানের সীমাবদ্ধতা দূর করে ভালো কিছুর সারথি হতে চায়। তার মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে তৎপর হয়।

আগামীতে বাংলাদেশ এমন একটি দেশ হোক যেখানে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সাথে সামাজিক ন্যায়বিচার, সুশাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য থাকবে; যেখানে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থা থাকবে, উন্নত কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ থাকবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা করে সব নাগরিকের জন্য নিরাপত্তা ও সুযোগ নিশ্চিত হবে, যা একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতি গঠনের দিকে এগিয়ে যাবে।

চব্বিশের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের মানুষ নতুন স্বপ্ন দেখছে। একটি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের সার্বিক অবস্থা অন্য গতিতে ধাবমান। কিন্তু কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে এখনো পদার্পণ সম্ভব হয়নি। ফলে আন্দোলনের তাৎপর্য ও লক্ষ্য নিয়ে মানুষের মধ্যে দ্বিধান্বিত তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। দেশের এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন-

সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ : শীর্ষ পর্যায় থেকে দুর্নীতি কঠোরভাবে দমন করা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান : উন্নত ও বৈচিত্র্যপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, বিশেষত পোশাক শিল্পের মতো রফতানি খাতকে শক্তিশালী করা এবং উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ তৈরি করা।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা : রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হানাহানি ও সঙ্ঘাত পরিহার করে সংসদে গঠনমূলক আলোচনা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, যা দেশের উন্নয়নে সহায়ক হবে।

সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও সমতা : অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যেন সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না, এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন করা।

টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন : জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা এবং একটি সবুজ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা, যা আগামী প্রজন্মের জন্য অপরিহার্য।

উন্নত নাগরিক জীবন ও অবকাঠামো : উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা (যেমন দিল্লি বা সিঙ্গাপুরের মতো), মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

মিথ্যা তথ্য ও গুজব মুক্ত সমাজ : সত্য ও তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি সুস্থ ও সচেতন সমাজ গঠন করা, যেখানে ভুল তথ্যের কোনো স্থান থাকবে না।

ভালো মানুষ, ভালো দেশ : প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে সততা ও দেশপ্রেম জাগ্রত হওয়া এবং নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা, যা একটি উন্নত দেশ গড়ার মূল ভিত্তি (কোয়ান্টাম মেথড)।

স্বাধীন ও স্বনির্ভর : রাজনীতি ও অর্থনীতিতে স্বকীয়তা এবং উন্নত জীবনমানের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

এই লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য সরকার, রাজনৈতিক দল, ব্যবসা, সুশীলসমাজ এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও অঙ্গীকার প্রয়োজন।

সুশীলসমাজ শিক্ষার প্রসার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তারা সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে উদ্যোগী হতে পারে। বিশেষ করে, যুব সমাজের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের উন্নত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সুশীলসমাজ ভূমিকা রাখতে পারে। বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে সামাজিক সংলাপ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সুশীলসমাজ একটি সেতুবন্ধনের কাজ করতে পারে। তারা বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সহমর্মিতা গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারে। এভাবে সুশীলসমাজ সমাজে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমন্বয় বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। সুশীলসমাজ পরিবেশ সংরক্ষণে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তারা জনগণকে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনে উৎসাহিত করতে পারে এবং সরকারের নীতিতে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে অন্তর্ভুক্ত করতে সচেষ্ট হতে পারে। সুশীলসমাজ সামাজিক উদ্যোগ এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে পারে। তারা দারিদ্র্যবিমোচন, নারী ক্ষমতায়ন ও স্বাস্থ্যসেবার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রকল্প এবং উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারে যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক হবে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর বৈষম্য দূরীকরণে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে। বাংলাদেশের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য বিদ্যমান, যেমন আর্থিক বৈষম্য, লিঙ্গ বৈষম্য, শিক্ষাগত বৈষম্য ও সামাজিক বৈষম্য। এই বৈষম্য দূরীকরণে সুশীলসমাজ, সরকার ও সাধারণ জনগণ মিলিতভাবে কাজ করতে পারে। বৈষম্য দূরীকরণে শিক্ষার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থায় সমতা আনার লক্ষ্যে সরকার ও সুশীলসমাজ যৌথভাবে কাজ করতে পারে। দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করা, শিক্ষার মানোন্নয়ন করা এবং গ্রামীণ ও শহরের শিক্ষার মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য দূর করা হতে পারে প্রথম পদক্ষেপ। এভাবে সব শ্রেণীর মানুষ সমান শিক্ষার সুযোগ পেলে আর্থিক ও সামাজিক বৈষম্যও হ্রাস পাবে। বৈষম্য দূরীকরণে আর্থিক বৈষম্য হ্রাস করার জন্য একটি কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন করা জরুরি। সরকার কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করতে, ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করতে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে পারে। একই সাথে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হতে পারে। সরকারি চাকরি প্রাপ্তিতে বৈষম্য দূরীকরণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। বৈষম্য দূরীকরণে প্রথমত দরকার শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং সমতা নিশ্চিতকরণ। প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন সমান সুযোগ পায় এবং প্রতিযোগিতায় সমানভাবে অংশ নিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। কোটার অপব্যবহার রোধ এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা কার্যকর করার মাধ্যমে বৈষম্য দূরীকরণ সম্ভব। এ ছাড়া সব শ্রেণীর মানুষের জন্য সরকারি চাকরিতে প্রবেশের পথ সুগম করতে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হবে। বিপ্লবের পর লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। নারীর ক্ষমতায়ন এবং তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নীতিগত এবং সামাজিক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। কর্মক্ষেত্রে নারীর সমান সুযোগ, নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা এবং নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং প্রয়োগ করা হতে পারে। এ ছাড়া সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজের মানসিকতার পরিবর্তনের জন্য প্রচারাভিযান চালানো যেতে পারে। প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ হতে পারে। এই জনগোষ্ঠীর প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য শিক্ষা ও সচেতনতার উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। একই সাথে সরকারি ও বেসরকারি খাতে এই জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যেতে পারে, যা সমাজের বিভিন্ন স্তরে তাদের ভূমিকা ও অধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে। বৈষম্য দূরীকরণে সবার জন্য সমান স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দরিদ্র জনগোষ্ঠী, নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করা যেতে পারে। এটি তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে এবং সামগ্রিকভাবে সমাজে সমতা আনার জন্য প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করবে। বৈষম্য দূরীকরণে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ও সুশীলসমাজের যৌথ উদ্যোগে আইনি সহায়তার ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে, যা প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। বিচারব্যবস্থা সবার জন্য সমানভাবে কাজ করবে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। সব মিলিয়ে, বৈষম্য দূরীকরণে একটি সমন্বিত ও ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি, যা সমাজে সমতা, ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করবে। সরকার, সুশীলসমাজ এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সাম্যভিত্তিক, উন্নয়নশীল ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার পথ তৈরি হতে পারে। হ