এক ছক্কার জন্য হার ক্যাপিটালসের
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
একেবারে শেষ মুহূর্তে থেমে গেল ঢাকার স্বপ্ন। স্কোরবোর্ডে ব্যবধান মাত্র ৬ রান, অথচ মাঠের গল্প বলছে আরো বড় ব্যবধানে হারের কথা। এক পাশে দলগত ব্যর্থতা, অন্য পাশে এক ব্যাটারের একক সাহসী প্রতিরোধ। শামীম হোসেন পাটোয়ারীর ব্যাটে শেষ বল পর্যন্ত লড়াইয়ে থাকলেও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সেই জয়টা লেখা হলো সিলেট টাইটান্সের নামেই। অসম্ভবকে প্রায় সম্ভবই করে ফেলেছিলেন শামীম। দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন জয়ের কিনারায়। তবে একটুর জন্য হার মানতে হলো। ৪৩ বলে ৮১ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংসের পরও আসরে প্রথম হারের মুখ দেখল ঢাকা ক্যাপিটালস। সিলেটের কাছে হার ৬ রানে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শোক কাটিয়ে আবারো বিপিএলের মাঠে ফেরার দিনে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান করে সিলেট টাইটান্স। জবাবে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৬৭ রানেই থামে ঢাকা ক্যাপিটালস। আর তাতেই ৬ রানের জয় মেহেদী হাসান মিরাজের দলের। এই জয়ে প্রথম দুই হারের পর টানা দুই জয় সিলেটের। আর প্রথম ম্যাচ জয়ের পর, দ্বিতীয় ম্যাচে পথ হারাল ঢাকা।
১৭৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই নড়বড়ে শুরু করেন সাইফ হাসান ও জুবাইদ আকবরী। আসরে ব্যাট হাতে ব্যর্থ সাইফ করেন ৯ রান। অধিনায়ক মিথুনও খুলতে পারেননি রানের খাতা। ৪৩ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারায় ঢাকা। এরপর দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন সাব্বির ও শামীম। ২৩ রান করে সাব্বিরের বিদায়ে তাদের ৪৬ রানের জুটি ভাঙলে জয়ের শেষ আশাও নষ্ট হয় ঢাকার।
ঢাকার দলীয় স্কোর দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১১৬ রান।
শামীম ততক্ষণে আরো ভালোভাবে বুঝে গেছেন, যা করার তাকেই করতে হবে। দায়িত্বটা নিজের কাঁধে নিয়ে সিলেটের বোলারদের ওপর চড়াও হলেন। ৩ রানে অপরাজিত থাকা তাসকিন আহমেদকে এক প্রান্তে রেখে চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছুটিয়ে ম্যাচকে শেষ ওভারে নিয়ে আসেন। শেষে ৬ বলে ২৭ রানের সমীকরণও প্রায় মিলিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। মোহাম্মদ আমির ইনিংসের শেষ বলটা ইয়র্কার করায় লড়াইয়ে জেতা হয় না শামীমের। তার আগে চার মেরে ওভার শুরু করা শামীম শেষ চার বলে ১৪ রান নিয়ে ম্যাচটি জমিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ বলে ৭ রানের সমীকরণে আমির ইয়র্কার দেয়ায় হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়। ১৬৭ রানে থামে ঢাকার ইনিংস।
নবম উইকেটে তাসকিনের সাথে ৫১ রানের অপরাজিত জুটি গড়েন শামীম। নিজে খেলেন ৮১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। ১৮৮.৩৭ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসটি সাজান ৯ চার ও ৩ ছক্কায়। সিলেটের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ থউইকেট নেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। দু’টি করে নেন আমির ও নাসুম আহমেদ।
এর আগে সিলেট দলের ইনিংসে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন আফগান অলরাউন্ডার আজমতুল্লাহ ওমরজাই। মাত্র ২৪ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় করেন অপরাজিত ৫০ রান। বিপিএলের এবারের আসরে দুর্দান্ত শুরু করা পারভেজ হোসেন ইমনও করেছেন ৪৪ রান। এ ছাড়া সাইম আইয়ুরের ২৯ ও ইথান ব্রুকসের ১৩ রানে ১৭৩ রান করে সিলেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
সিলেট টাইটান্স : ২০ ওভারে ১৭৩/৫ (সাইম ২৯, রনি ১১, ইমন ৪৪, আফিফ ১৩, ওমরজাই ৫০*, ব্রুকস ১৩*; তাসকিন ১/৪৬, সালমান ২/৪৬, সাইফ উদ্দিন ১/৩২, সাইফ হাসান ১/১৩)।
ঢাকা ক্যাপিটালস : ২০ ওভারে ১৬৭/৮ (উসমান ২১, শামীম ৮১*, সাব্বির ২৩, তাসকিন ৩*; আমির ২/৩০, নাসুম ২/২৬, ওমরজাই ৩/৪০, মিরাজ ১/১৯)।
ফল : সিলেট টাইটান্স ৬ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা : আজমতউল্লাহ ওমরজাই।