হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ৭০৮ জনে পৌঁছেছে

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

সারা দেশে হাম ও উপসর্গ নিয়ে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরো ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা সবাই উপসর্গে মারা গেছে। এর মধ্যে চারজনই মারা গেছে ময়মনসিংহ মেডিক্যালে কলেজ (মমেক) হাসপাতালে। এ ছাড়া ঢাকা ও খুলনা বিভাগে দুই শিশু মারা গেছে। এ সময় নতুন করে হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৭৮৯ শিশু। এর মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ৪৫ শিশুর।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৭০৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬১৫ জন।

একই সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ১১ হাজার ৫৯৪ জনের। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে ৯৮ হাজার ২৬৬ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগের হাম ও উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ৩১৮ জনের, আর আক্রান্ত হয়েছে ৫২ হাজার ৯৩১ জন।

মমেকে ৪ শিশুর মৃত্য : ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে এ হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ জনে। একই সময়ে নতুন করে আরো ১৬ শিশু ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চাপ আরো বেড়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯৬ শিশু। গতকাল হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা: ঝন্টু সরকার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, মৃত চার শিশুর মধ্যে হালুয়াঘাটের চার মাসের এক কন্যাশিশু গত ১৮ জুন ভর্তি হওয়ার পর শুক্রবার দুপুরে মারা যায়। মৃত্যু সনদে হামের লক্ষণের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও হার্ট ফেইলিউরের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ফুলপুর, নেত্রকোনার কমলাকান্দা ও সুনামগঞ্জের মদনপুর এলাকার আরো তিন শিশু শুক্রবার বিকেল থেকে রাতের মধ্যে মারা যায়। তাদের বয়স চার থেকে আট মাসের মধ্যে।