২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দেশে হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়ে ১৬৫ জন এবং হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ১৯৭ জন।
গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে নিশ্চিত হামে এক শিশু ও সন্দেহজনক হামে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আক্রান্তের মধ্যে নিশ্চিত হামে ১৬৫ শিশু এবং সন্দেহজনক হামে এক হাজার ১৯৭ জন শিশু শনাক্ত হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে নিশ্চিত হামে মারা গছে ৩৮ জন। এ ছাড়া উপসর্গ নিয়ে আরো ১৮১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ সময় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে তিন হাজার ৪৪৩ জন এবং সন্দেহজনক আক্রান্ত ছিল আরো ২৩ হাজার ৬০৬ জন।
দেশে হামে মৃত্যু ও শনাক্তে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে ঢাকা বিভাগ। এরপর রয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগ।
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে হামের সংক্রমণ। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা, বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। এরই মধ্যে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হওয়া তিন মাসের ওই শিশুটি শনিবার বেলা ১টার দিকে মারা যায়। গত ৯ এপ্রিল তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ৩৪ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৮ শিশু, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গত ১৭ মার্চ থেকে রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত মোট ৬১১ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫১৯ শিশু। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৪ শিশুর যা জনমনে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। শুধু গত ২৪ ঘণ্টাতেই সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৭২ শিশু।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, টিকাদানে অবহেলা ও সচেতনতার ঘাটতিই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ। হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করছে।
মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ৩৪ শিশু ভর্তি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টার মধ্যে এই মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ভর্তি হয়েছে আরো ১০ শিশু। রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা: শংকর কুমার বিশ্বাস এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ২৬ শিশু। এখন হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১৩২ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। সংক্রমণ শুরুর পর এ পর্যন্ত ৬৬১ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে রোববার পর্যন্ত ৫২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলায় সাত লাখ ৬৭ হাজার ৯৫২ জন শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে আজ ২০ মে থেকে শুরু হচ্ছে জরুরি টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬। গতকাল চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই কর্মসূচির আওতায় মোট লক্ষ্যমাত্রাকে দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছে এক লাখ ৫১ হাজার ৭৫৫ জন এবং কমিউনিটি পর্যায়ে রয়েছে ছয় লাখ ১৬ হাজার ১৯৭ জন শিশু।
ক্যাম্পেইনটি ২০ মে থেকে শুরু হয়ে ১০ জুন পর্যন্ত মোট ১১টি কার্যদিবসে পরিচালিত হবে। এ সময়ের মধ্যে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে এক ডোজ করে হাম-রুবেলা টিকা দেয়া হবে। কোনো শিশু আগে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় টিকা পেলেও এই বিশেষ ক্যাম্পেইনে তাকে পুনরায় টিকা দেয়া হবে।