সুনামগঞ্জে বোরো ধান কাটার মহোৎসব ত্রিমুখী সঙ্কটে হাওরপাড়ের কৃষক

Printed Edition

সিলেট ব্যুরো

ব্যস্ত সময় পার করছেন হাওরপাড়ের মানুষরা। সুনামগঞ্জের হাওরে পাকা ধান কাটার ধুম পড়েছে। ধানের মৌ মৌ গন্ধ এখন মাঠজুড়ে। কৃষক-কৃষাণীরা পাকা ধান ঘরে তোলায় এখন ব্যস্ত। একদিকে কৃষকরা মাঠ থেকে পাকা ধান এনে মজুদ করছেন। অপর দিকে কৃষাণীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান মাড়াই শেষ করে ঘরে তুলছেন।

পুরুষের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও মেতে উঠেছে বৈশাখী আমেজে। তবে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলনেও কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ। হাওরাঞ্চলজুড়ে ত্রিমুখী সঙ্কটে শঙ্কিত কৃষকরা। ভয়কে জয় করে শেষ পর্যন্ত কষ্টের সোনালী ফসল গোলায় তুলতে হাওরপাড়ের মানুষের চেষ্টার অন্ত নেই। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শেষ পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ বোরো ধান দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ফল আনবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

কৃষি সম্প্রসারণের তথ্যমতে, জেলায় ছয় শতাধিক কম্বাইন্ড হারভেস্টর সক্রিয়ভাবে কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবে জ্বালানি সঙ্কটের কারণে বন্ধ পড়ে আছে অর্ধেকের বেশি। ডিজেল কিনতে গিয়ে ভোগান্তির কারণে অনেকেই হারভেস্টর চালানো থেকে বিরত রয়েছেন। এ অবস্থায় হাওরাঞ্চলে চাহিদামতো জ্বালানি সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন হাওরে চলছে বোরো ধান কাটা। সময়মতো ফসল রক্ষা বাঁধ শেষ না হওয়ায় বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ফসল ডুবে যাওয়া নিয়ে শঙ্কিত কৃষক। অপর দিকে অতিবৃষ্টির কারণে হাওরজুড়ে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ডুবে আছে হাজার হাজার হেক্টর জমি। বেশি পানিতে হারভেস্টর ধান কাটতে না পারায় অতিরিক্ত মজুরি দিয়ে শ্রমিক দিয়ে কাটাতে হচ্ছে ধান। ফলে বাড়ছে উৎপাদন খরচ।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এবার সুনামগঞ্জে দুই লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। যার বাজারমূল্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা। তবে সেই ধান ঘরে তুলতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাওরের প্রায় ১০ লাখ কৃষক। আগাম বৃষ্টিপাতে তিন হাজার ১৮৯ হেক্টর জমির ধান জলাবদ্ধতায় তলিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে বৃষ্টিপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২১ হেক্টর এবং দ্বিতীয় ধাপে বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ২১০ হেক্টর ধান। এই দুই ধাপে মোট ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ৩৩১ হেক্টর জমির বোরো ধান।

কৃষি অফিস জানিয়েছে, জমিতে ৮ ইঞ্চি পানি থাকলেও হারভেস্টার মেশিন ভালো করে কাজ করতে পারে। মূলত কৃষকরা সনাতনী পদ্ধতি অর্থাৎ শ্রমিক দিয়ে ধান কাটাতে বেশি আগ্রহী। এতে গবাদি পশুর খাদ্য উপযোগী খড় পাওয়া যায়।