যাদের ত্যাগে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে এসেছিলেন ফেরিওয়ালা লাবলু মিয়া
Printed Edition
শহীদ লাবলু মিয়া পেশায় একজন ফেরিওয়ালা। তিনি তার পরিবারে একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। জীবন-জীবিকার তাগিদে তিনি ভাঙ্গাড়ির মালামাল কেনাবেচা করতেন এবং তা দিয়েই পরিবারের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করতেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলন হলো বাংলাদেশের সব ধরনের সরকারি চাকরিতে প্রচলিত কোটাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে সংগঠিত একটি আন্দোলন। এই আন্দোলনে হাজার হাজার মায়ের বুক খালি হয়। শত শত বেওয়ারিশ লাশও গোপন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বহু ছাত্র-জনতার অঙ্গহানি করা হয়। চিকিৎসকের অবহেলায় বহু আন্দোলনকারী চিকিৎসা না পেয়ে মারা যান। অনেক কসাই চিকিৎসকের মন্তব্য এমন ছিল যে সাধারণ মানুষের হৃদয়েও তা আঘাত হানে। অত্যাচারের এসব নৃশংসতা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় তখনই বহু নারী, পুরুষ, কৃষক, শ্রমিক, ভেদাভেদ ভুলে এ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।
তাদেরই একজন ছিলেন শহীদ লাবলু মিয়া। তিনি ৫ আগস্ট ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে দুপুর ১টায় ছাত্রদের সাথে যোগ দেন। ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে উত্তরা আজমপুর এলাকায় সড়ক অবরোধ করতে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে তারা। মনুষ্যত্বহীন পুলিশ বাহিনী ও টেন্ডারবাজ আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ শুরু করে। সেই গুলিতে জীবনের আলো নিভে যায় অনেকের, সেখানে শহীদ লাবলু মিয়াও ছিলেন। তিনি বিকেল ৩টার দিকে ঘাতক পুলিশের গুলিতে আহত হন এবং গুলি তার মাথার পিছনের দিক থেকে ঢুকে সামনের দিক দিয়ে বের হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শহীদ লাবলু মিয়ার বন্ধু তাকে ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং তার স্ত্রীকে জানায় লাবলু আহত হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা চলা অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শহীদ হওয়ার পরের দিন বিকেল সাড়ে ৫টায় বাড়ির পাশে সমাহিত করা হয় শহীদ লাবলু মিয়াকে।
শহীদ লবলু মিয়া তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার দুই মেয়ে ও একটি ছেলে আছে। তার একমাত্র ছেলেটি শারীরিকভাবে অসুস্থ। তার বড় মেয়ে বিবাহিত। টাকার অভাবে ছোট দুই সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার পথে। লাবলু মিয়ার সংসার অনেক কষ্টের মধ্যে চলছিল। দিন এনে দিন খেতেন। তাকে হারিয়ে পরিবার এখন গভীরভাবে শোকাহত।
শহীদ লাবলু মিয়া অত্যন্ত আল্লাহভিরু ছিলেন। ঠিক মতো নামাজ আদায় করতেন। সবার সাথে ভালো ব্যবহার করতেন। তিনি পরিবার-পরিজন সবাইকে নিয়ে থাকতে পছন্দ করতেন। তিনি যখন এলাকায় যেতেন তখন সকলের সাথে দেখা করতেন। সবার খোঁজ-খবর রাখতেন। তার কথা স্মরণ করে পরিবার ও এলাকাবাসী শোকাহত।