অভাবের তাড়নায় পরিষদে ৩ সন্তান রেখে উধাও মা

Printed Edition
Bangla-5
ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে মায়ের জন্য কাঁদছে শিশু : নয়া দিগন্ত

জিয়ানগর (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে নিরুদ্দেশ হওয়ায় তিন সন্তান নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন মা মুক্তা বেগম (২৭)। অভাবের তাড়নায় নিজের তিনটি দুগ্ধপোষ্য ও শিশু সন্তানকে ইউনিয়ন পরিষদে রেখে উধাও হয়ে গেছেন তিনি।

গত বুধবার সকালে জিয়ানগর উপজেলার চণ্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনাটি ঘটে। ফেলে যাওয়া শিশুদের মধ্যে বড় মেয়ে আরজিনি (৬) প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী। মেজ মেয়ে আছিয়া (৩) এবং ছোট শিশু খাদিজার বয়স মাত্র সাত মাস। সকাল থেকে মায়ের জন্য শিশুদের কান্নায় ভেঙে পড়েন।

জানা গেছে, খোলপটুয়া গ্রামের আমান উল্লাহ পেশায় পরিবহন চালক। এক বছর আগে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করে সেখানেই বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকে প্রথম স্ত্রী মুক্তা ও সন্তানদের কোনো খোঁজখবর নেননি তিনি। মুক্তার নামে সরকারি কোনো খাদ্য সহায়তার কার্ডও নেই। সামান্য সেলাই কাজ করে কোনোমতে সন্তানদের দুমুঠো নভাতের ব্যবস্থা করছিলেন তিনি। কিন্তু এক হাজার টাকা দেনার দায়ে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ নজরুল ইসলাম তার আয়ের একমাত্র উৎস সেলাই মেশিনটি নিয়ে গেছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য সাহিদা আক্তার পারুল জানান, মুক্তার শাশুড়ি শুরু থেকেই তার ওপর নির্যাতন করতেন। তিনি নিজের ছেলের সাথে তার বোনের মেয়ের বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, তাই মুক্তাকে মেনে নিতে পারেননি। এর মধ্যেই স্বামী আমান উল্লাহ অন্য একজনকে বিয়ে করে সংসার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। চণ্ডিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু বলেন, মুক্তা সকালে এসে আমাকে জানায় তারা না খেয়ে আছে। আমি তাদের নাস্তার ব্যবস্থা করি। এর কিছুণ পর সে পরিষদের দোতলার বারান্দায় বাচ্চাদের রেখে কাউকে না জানিয়ে চলে যায়। গ্রাম পুলিশ নজরুল সেলাই মেশিনটি নিয়ে যাওয়ায় আমার কাছে নালিশ দেন। আমি নজরুলকে সেলাই মেশিনটি ফেরত দিতে বললেও সে ফেরত দেয়নি।

জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান হাফিজুর রহমান জানান, মুক্তা বেগম এর আগেও পারিবারিক সমস্যার কথা জানাতে এসেছিলেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। সেলাই মেশিনটি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় তিনি আরো ভেঙে পড়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।