নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের গ্রন্থাগারগুলো পাঠকশূন্য। বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে এবং পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর বাড়িতে একটি করে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ ছাড়া সোনারগাঁও গঙ্গাবাসী ও রামচন্দ্র পোদ্দার ইনস্টিটিউশন মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি গ্রন্থাগার রয়েছে। এই তিনটি গ্রন্থাগারে প্রায় ৩১ হাজারের বেশি বই, ম্যাগাজিন ও পত্রিকা রয়েছে। কিন্তু গ্রন্থাগারগুলো প্রায় পাঠকশূন্য।
লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের লাইব্রেরিয়ান মো: মনিরুজ্জামান বলেন, ‘গ্রন্থাগারে এখন কেউ আগের মতো আর পড়তে আসেন না। বেশির ভাগ মানুষই ঘুরে ঘুরে সময় কাটিয়ে চলে যান। গুটিকয়েক বই নিয়ে বসলেও তাদের মনোযোগ থাকে মোবাইল ফোনেই বেশি।’ সোনারগাঁওয়ে পাড়া-মহল্লায় গড়ে ওঠা গ্রন্থাগারগুলো ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। দেশে বর্তমানে গ্রন্থাগার অধিদফতরের অধীনে ৭১টি গণগ্রন্থাগার রয়েছে। এর বাইরে আরো অন্তত দুই হাজার গ্রন্থাগার আছে, যেগুলো বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত। সব গ্রন্থাগারের অবস্থা যে সোনারগাঁওয়ের গ্রন্থাগারের চেয়ে ভালো তা বলা যায় না।
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘পড়ো তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।’ আরেক স্থানে বলা হয়েছে, ‘যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান?’ পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে পৃথিবীর সব মানুষের জন্য। সুতরাং কুরআনের জ্ঞানার্জনের এই আহ্বান সব মানুষের জন্য। নির্দিষ্ট কোনো দেশ কিংবা জাতির জন্য নয়। এ থেকে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব স্পষ্ট।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে হয়তো উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে উন্নীত হবে। কিন্তু জ্ঞানার্জনে আমরা এগোতে পারিনি। আমাদের পাঠাভ্যাস হতাশাজনক। দেশে প্রতি বছর কত মানুষ বই পড়ে এবং তা বাড়ছে না কমছে সে বিষয়ে সরকারি কোনো জরিপ নেই। বেসরকারিভাবেও বই পড়া নিয়ে কোনো পরিসংখ্যান দেখা যায়নি। কিন্তু বিশ্বের নানা মাধ্যমে বই পড়া নিয়ে যেসব সূচক প্রকাশ হয় তাতে বাংলাদেশের অবস্থান তলানিতে। এ ক্ষেত্রে আমরা কেন এগোতে পারছি না তা জাতীয় ভাবনার বিষয় হওয়া প্রয়োজন।
সরকার প্রতি বছর গ্রন্থাগারের জন্য বই কেনে। কিন্তু বই কেনাতেও দুর্নীতি হয়। আছে রাজনৈতিক প্রভাব। ভালো বই না কিনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিম্নমানের বই কেনা হয়। ফলে পাঠক গ্রন্থাগারে তার কাক্সিক্ষত বইটি পান না। পাঠক কমে যাওয়ার এটি একটি কারণ। সরকারিভাবে পাঠকের চাহিদার আলোকে বই কেনা উচিত। এ জন্য শিক্ষাবিদসহ সমাজের নানা শ্রেণিপেশার বিদ্বজনের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি থাকা দরকার।
দেশে অনেক ছাত্র সংগঠন আছে। কিন্তু ছাত্রদের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এসব সংগঠনের ভূমিকা নগণ্য।
সাধারণ মানুষের জ্ঞানার্জনের জন্য গ্রন্থাগারের বিকল্প নেই। তাই জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য গ্রন্থাগারগুলো সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি পাঠক বাড়াতে হবে। আর এ জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।
জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মানুষ আলোকিত হোক সেটিই আশা।