ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার মানুষের ওপর অব্যাহতভাবে গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরাইলের দখলদার বাহিনী। খোদ ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট বলেছেন, ‘গাজায় ইসরাইল যুদ্ধাপরাধ করছে’। সব ধরনের চাপ অগ্রাহ্য ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর খুনি বাহিনী গাজায় বিমান হামলা করে সেখানকার নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ নানা বয়সী মানুষকে হত্যা করছে। গত রোববার ফিলিস্তিনের উত্তর গাজায় একটি স্কুলে বিমান থেকে বোমা বর্ষণ করে ৩৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জনই ছিল শিশু। এ ছাড়া মঙ্গলবার ইসরাইলের হামলায় কমপক্ষে ৭৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা আনাদোলু।

স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ৫৪ হাজার ৫৬ জনকে হত্যা করেছে ইসরাইল। এ ছাড়াও আহত হয়েছে এক লাখ ২৩ হাজার ফিলিস্তিনি। বাস্তুচ্যুত হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ।

সেই সাথে অবরুদ্ধ গাজায় খাদ্যাভাবে দুর্ভিক্ষ বিরাজ করছে। তীব্র খাদ্যসঙ্কটে সেখানকার শিশুরা কঙ্কালসার হয়ে মারা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের মানবিক পরিচালক র‌্যাচেল কামিংস গণমাধ্যমকে বলেছেন, সন্তানেরা অসুস্থ হয়ে পড়বে জেনেও মায়েরা তাদের সন্তানদের ক্ষুধা মেটাতে নোংরা পানির সাথে ঘাসপাতা মিশিয়ে খাওয়াচ্ছেন।

গাজায় যুদ্ধবিরতি হলেও ইসরাইল তা বারবার লঙ্ঘন করছে। ইসরাইল গাজাবাসীকে নিঃশেষ করে দিবে- এমনটিই তাদের চূড়ান্ত বাসনা। ইসরাইলিরা গাজার শিশুদের পর্যন্ত শত্রুজ্ঞান করছে। অবরুদ্ধ উপত্যকা চিরদিনের জন্য দখল করার খায়েশ তাদের। গাজা দখলের এই ঘৃণ্য মনোবাসনা পোষণ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। কাতার সফরে গিয়েও গাজা দখল করে সেখানে ‘ফ্রিডম জোন’ তৈরির কথা বলেছেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ সারা বিশ্বে মানবাধিকারের কথা বললেও গাজার ক্ষেত্রে তাদের দখলদারি মনোভাব লজ্জাজনক। তাদের ইসরাইলপ্রীতি শান্তিকামী অগণিত মানুষকে বরাবরই আহত করে।

আমরা লক্ষ করছি, সা¤প্রতিক বিশ্বের নানা প্রান্তের চলমান ভৌগোলিক সমস্যাগুলো সমাধান করতে বিশ্বনেতারা অনেকাংশে ব্যর্থ হচ্ছেন। ফলে কোনো অঞ্চলে একবার সমস্যা লাগলে তা আর সহসাই থামছে না। এই সমস্যা যেমন মধ্যপ্রাচ্যে প্রকট তেমনি ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়াতেও বিদ্যমান। এসব ক্ষেত্রে জাতিসঙ্ঘ যেন কিছু রাষ্ট্রের পুতুল সংগঠনে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদ কিংবা সাধারণ পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনা হলেও সেগুলোর সমাধানে জাতিসঙ্ঘের যেন কিছুই করার নেই। ফলে যেকোনো একটি অঞ্চলের সমস্যা থেকে জাতিসঙ্ঘকে অসংখ্য সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়। এর অবসান হওয়া প্রয়োজন।

গাজা কিংবা ফিলিস্তিন মুসলমানদের সাথে অধিকতর সম্পৃক্ত হওয়ায় তাদের অনেকেই এই সমস্যা সমাধানে সম্পদশালী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর প্রতি অনেক বেশি প্রত্যাশা করে। তারাও সে প্রত্যাশা পূরণে সন্তোষজনক ভূমিকা পালন করতে পারছে না।

গাজা সমস্যা সম্প্রদায়গতভাবে না দেখে মানবতার সঙ্কট হিসেবেই দেখতে হবে। এই সমস্যা সমাধানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। গাজা যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। সেখানকার মানুষকে বাঁচাতে হবে। সেই সাথে গাজা ও ইসরাইল-ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের এগিয়ে আসার বিকল্প নেই।