চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ধনাগোদা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ষাটনল, কালিপুর থেকে কালির বাজার পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। এতে স্থানীয় লোকজন আতঙ্কে। এ তথ্য জানা গেছে, সহযোগী একটি দৈনিকের মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতার প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে।

স্থানীয় নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ জানিয়েছেন, ভাঙনকবলিত অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে ৩০ থেকে ৩৫টি ড্রেজার দিয়ে দিনে রাতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। মাঝে মধ্যে প্রশাসনিক তৎপরতা থাকলে দিনের বেলায় কখনো কখনো বালু উত্তোলন বন্ধ থাকে। তবে রাতে সশস্ত্র পাহারায় এ নদী থাকে প্রভাবশালী বালু উত্তোলনকারীদের দখলে। এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা দূরে থাক, মানুষজন কথা পর্যন্ত বলতে ভয় পান।

এ বিষয়ে ভাঙনকবলিত এলাকা ষাটনল ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ধনাগোদা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে ষাটনল ইউনিয়নের ষাটনল, কালিপুরসহ কয়েকটি অঞ্চলে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। তাই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় বালুমহালের নামে ইজারা দেয়া বন্ধ করতে হবে।

মেঘনা-ধনাগোদা পানি ফেডারেশনের সভাপতি রাসেল ফয়েজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ধনাগোদা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ ধনাগোদা সেচ প্রকল্প হুমকির মুখে। ধনাগোদা সেচ প্রকল্প ঘেঁষা ধনাগোদা নদীর তীরবর্তী কয়েকটি অঞ্চলে বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর ও ফসলি জমি।

মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম শাহেদ বলেন, ধনাগোদা নদীর কালিপুর, খাগুরিয়া হাপানিয়া, নবীপুরসহ কয়েকটি অঞ্চলে ভাঙন দেখা দিলে আমরা প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেই। নদীর তীর ও সেচ প্রকল্প বাঁধ রক্ষায় ধনাগোদা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের বিষয়ে আমরা শিগগির লিখিত অভিযোগ জানাব।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ধনাগোদা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ করছি। ধনাগোদা সেচ প্রকল্প ও এর তীর রক্ষায় নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নদ-নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন দেশব্যাপী একটি সমস্যা। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালত নানা জায়গায় নিষেজ্ঞাধা দিয়েছেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা! তারপরও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। সন্দেহ নেই, অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজে প্রভাবশালীরা জড়িত থাকেন। কিন্তু প্রভাবশালীরা কি সরকারের চেয়েও শক্তিশালী? তাদের অবৈধ বালু উত্তোলনে নদীভাঙন হবে, মানুষ ঘরছাড়া হবেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিলীন হয়ে যাবে; তা হতে পারে না। সঙ্গত কারণে এসব দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে লোকদেখানো নয়; স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অপরাধীরা শক্তি প্রদর্শন করে তাদের অপরাধ কার্যক্রম চালানোর অপচেষ্টা করবে এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু তাদের দমন করার দায়িত্ব প্রশাসনের। আমরা আশা করি সরকার মতলবের ধনাগোদা নদীর অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবে।