আমাদের দেশপ্রেমিক সশস্ত্রবাহিনী সবসময় দেশের প্রয়োজনে নিজেদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে কর্তব্যকাজ সম্পাদন করে আসছে। লক্ষণীয়, ফ্যাসিবাদ-উত্তর গত ৯ মাসের বেশি সময় ধরে এই ক্রান্তিকালে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর গণশত্রু হিসেবে চিত্রিত হওয়া পুরো পুলিশ বাহিনী রাতারাতি উধাও হয়ে যায়। তাতে দেশে আইনের শাসন ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। ঠিক তখন থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে আইনশৃঙ্খলার যেমন অবনতির চিন্তা করা হয়েছিল, তেমনটি না হয়ে দ্রুত উন্নতি হয়েছে। অতীতেও দেখা গেছে, দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝড়-বন্যায় সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা সাধারণ মানুষের পাশে থেকে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণতৎপরতায় সর্বাত্মক সহায়তা করেছেন।
ফ্যাসিবাদী শাসনের অংশ হয়ে যাওয়ায় শেখ হাসিনার পতনের পর যখন পুলিশ বাহিনী উধাও হয়ে যায় তখন দেশের আইনশৃঙ্খলা কিভাবে রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে ছিল সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা। সেই পরিস্থিতি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সশস্ত্রবাহিনীর মাধ্যমে সফলভাবে মোকাবেলা করেছে। বলা যায়, দেশ মহাবিপর্যয় থেকে উদ্ধার পেয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান করায় সশস্ত্রবাহিনী দ্রুততম সময়ে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছে। তবে পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমে শতভাগ গতি ফিরে না আসায় এখনো দেশে কাঙ্ক্ষিত সামাজিক শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে বলা যাবে না। সরকার ফের সশস্ত্রবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা আরো দুই মাস বাড়াল। গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এর আগে গত ১৩ মার্চ থেকে সশস্ত্রবাহিনীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতার মেয়াদ দুই মাস (৬০ দিন) বাড়ানো হয়েছিল। সেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৩ মে। মেয়াদ বাড়ানোর আদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও এর উপরের সমপদমর্যাদার কমিশন্ড কর্মকর্তাদের (কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তারাসহ) ‘দ্য কোড অব ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮’-এর ১২(১) ও ১৭ ধারা অনুযায়ী স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হলো। এর মেয়াদ হবে ১৪ মে থেকে পরবর্তী ৬০ দিন পর্যন্ত। সারা দেশে তারা এ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সশস্ত্রবাহিনীর কাজ হচ্ছে মূলত দেশের বাইরের শত্রুদের থেকে আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সদা প্রস্তুত থাকা। আর পুলিশ বাহিনী দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকে। পুলিশের কাজ দীর্ঘদিন সশস্ত্রবাহিনীকে দিয়ে সম্পাদন করার নানাবিধ ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাইরের হুমকি মোকাবেলায় মনোযোগ কিছুটা সরে যেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবেশীদের দ্বারা আমাদের সার্বভৌমত্ব চাপে পড়ছে। সামরিক বাহিনীর বড় একটি অংশ দেশের অভ্যন্তরে ব্যস্ত থাকায় এদিকে শতভাগ দৃষ্টি দিতে পারছে না। তাই দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর দ্রুততম সময়ে পুরো সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে হবে। সেই সাথে সশস্ত্রবাহিনীকে তার মূল দায়িত্ব শতভাগ পালনে মনোযোগী হওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে পুলিশের কার্যক্রমে পূর্ণ গতি ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই।