পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ আসন্ন। ঈদ সামনে রেখে কোরবানির পশুব্যবসায়ীদের মধ্যে ডাকাতের ভয় কাজ করছে। কারণ, মহাসড়কে প্রায়ই ঘটছে ডাকাতির ঘটনা। ডাকাতরা যানবাহন আটকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে যাত্রীদের সব লুট করছে। গণমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে, মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্তি পাওয়া ডাকাতরা।

ঈদে পশুব্যবসায়ীরা গ্রামাঞ্চল থেকে পশুভর্তি ট্রাক নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাটে আসেন। তারা পশু বিক্রির টাকাও বহন করেন। পশুবাহী এসব গাড়িতে ডাকাতির আশঙ্কা বিরাজ করছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। শুধু মহাসড়ক নয়, নদীপথেও হয়রানির ভয় করছেন এ পথে চলাচল করা পশুব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক খবরে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের পশুর ব্যাপারীরা বলছেন, তারা যমুনা ও পদ্মা নদীপথে আরিচা, তালতলা ঘাট হয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কোরবানির পশুর হাটে গরু ছাগল নিয়ে যান। এ পথের বিভিন্ন স্থানে কোরবানির আগে অস্থায়ী গরু ছাগলের হাট বসিয়ে তাদেরকে এসব পশুর হাটে জোর করে গরু ছাগল বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়। এ কারণে তাদের বেশির ভাগ সময় লোকসান গুনতে হয়।

এ বছরের শুরুর দিকে হঠাৎ করেই মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যায়। যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক ছড়ায়। বিশেষ করে রাতের বেলা কয়েকটি বাসে ডাকাতির ঘটনায় যাত্রীরা রাতে ভ্রমণে অনিরাপদ বোধ করেন। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের গ্রেফতার করার ফলে মহাসড়কে ডাকাতি কিছুটা কমলেও একেবারে থামেনি। একইভাবে ডাকাতি হয়েছে নৌপথেও।

হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে দেশের আটটি মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনায় ১৭টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৪১ জনকে।

হাইওয়ে পুলিশ বলছে, তারা ডাকাতিপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজর দিয়েছে। একই সাথে ২০০৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ২০ বছরে মহাসড়কে ডাকাতির বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত এক হাজার ৪০০ জনের একটি তালিকা করেছে। কিন্তু মহাসড়কে এখনো ডাকাতি হচ্ছে। গত দুই মাসে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার অংশ, বিশেষ করে ব্যাংক টাউন ও পুলিশ টাউন এলাকায় পাঁচটি ছিনতাই-ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এমনকি দিন-দুপুরেও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

বাংলাদেশ এখন গোশত উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কোরবানির জন্য পাশের দেশ থেকে আর পশু আনতে হয় না। ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর আর ঘাটতি হয় না। এটি সম্ভব হয়েছে পশুর খামারিদের অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার ফলে। গ্রামের কৃষক আর পশুর খামারিদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গোশতের এই স্বয়ংসম্পূর্ণ অবস্থা আমাদের যেমন ধরে রাখতে হবে তেমনি এ খাত সংশ্লিষ্টদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়াও সরকারের দায়িত্ব।

ঈদুল আজহার প্রাক্কালে পশুর খামারি ও পশুব্যবসায়ীদের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় দরকার। কোরবানির পশু ঢাকায় নিয়ে আসা ও হাটে নেয়ার সময় চাঁদাবাজি, হয়রানি রোধসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।