আমাদের দেশে সরকার জনসেবা করতে পারে না দুর্নীতির জন্য। এর মধ্যে সরকারের উপজেলাপর্যায়ের খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে দুর্নীতি বেশি বলে প্রচলিত।
একটি সহযোগী দৈনিকের ঢাকা জেলা প্রতিনিধি জানান, ঢাকার কেরানীগঞ্জে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় যেন দুর্নীতির আখড়া। দীর্ঘ দিনের অনিয়ম এখানে নিয়মে পরিণত হয়েছে। লাইসেন্স নবায়ন থেকে শুরু করে ওএমএসের চাল বিক্রি, ফেয়ার প্রাইস নির্ধারণ, খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও খাদ্যবান্ধব প্রকল্পসহ সব ক্ষেত্রেই রয়েছে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ।
গত সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে খাদ্যগুদামের চাল মুড়ি তৈরির কারখানায় বিক্রি করে দেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা, ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা, খাদ্য পরিদর্শক, খাদ্যগুদামের দারোয়ান ও ড্রাইভারের বিশেষ সিন্ডিকেট দীর্ঘ দিন ধরে এ অনিয়মের সাথে জড়িত।
কেরানীগঞ্জের উপজেলা পরিষদ ভবনের কাছে রয়েছে এক হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন সরকারি গুদাম। এতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দী ও স্টাফদের রেশনের চাল, গম ও আটা, ফায়ার সার্ভিস, আনসার-ভিডিপির রেশন, সরকারি প্রজেক্ট, টেস্ট রিলিফ, টিসিবি, কাবিখা, ওএমএস, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বিশেষ বরাদ্দের চাল, গম, আটা রাখা হয়। সরকারি নিয়মে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই গুদাম থেকে মালামাল নেয়ার কথা থাকলেও বেশির ভাগ ডেলিভারি হয় রাতের আঁধারে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সরকারি প্রজেক্টের জন্য আসা চাল নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিক্রি হয় গোপনে। চাল চলে যায় গাজীপুরের সালনা, ভাওয়াল, পোড়াবাড়ী ও সাভার-হেমায়েতপুরের বিভিন্ন মুড়ি তৈরির কারখানায়।
সরকারি বরাদ্দের মোটা চাল কাটিং করে পাইজাম নাজিরশাইলের মতো চাল বানানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। রাতের আঁধারে মাল ডেলিভারির দায়িত্বে রয়েছে গাড়ির ড্রাইভার নাইম, ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা ইব্রাহিম আদম, দারোয়ান মিন্টু ও অজয় কুমার দাস। অফিসের ডিলার ও ঠিকাদারদের নিয়ন্ত্রণ করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা রানাউল করিম ও পিয়ন হারুন।
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কয়েকজন ডিলার জানান, খাদ্যবান্ধবের সুবিধাভোগীদের ৩০ কেজি ওজনের চালের কার্ড উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা রানাউল করিমের অফিসে রক্ষিত আছে। তালিকা কার্ড তৈরির পর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ ১২টি ইউনিয়নের মেম্বরদের মাধ্যমে কার্ড সংগ্রহ করে ওই কার্ডের চাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিক্রি করে দিয়েছেন।
উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহিম আদম জানান, দিনে অনেকসময় যানজট থাকে, তাই রাতে গোডাউন থেকে চাল ডেলিভারি দেয়া হয়।
চরিত্রের সর্বপ্রধান উপাদান সততা। দুর্নীতি যে করে, তার সততা থাকতে পারে না। সব কর্মচারীর দায়িত্ব জনসেবা করা। জনসেবা সততা ছাড়া হয় না। সরকারি কর্মচারীদের বেশি সৎ হতে হয়।
সরকারের উচিত কেরানীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সব অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।